Monday, 19 February, 2018, 12:09 PM
Home শিল্প ও বানিজ্য
শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ও নারী উদ্যোক্তা
ড. সিমীন মাহমুদ
Published : Monday, 5 February, 2018 at 2:01 PM, Count : 0
আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের হার ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে, যা ২০১৫ সালে এসে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এ হার এখন পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত কম। বাংলাদেশের কর্মক্ষম নারীর দুই-তৃতীয়াংশই অর্থনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করেন না। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ অল্প কয়েকটি সেক্টরে এবং পেশায় সীমাবদ্ধ। প্রায়ই দেখা যায় যে, পুরুষের তুলনায় নারী কম উৎপাদনশীল এবং কম আয়ের পেশায় নিয়োগ পান, এমনকি তৈরি পোশাক শিল্প খাতেও, যেখানে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত দৃশ্যমান। নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মাধ্যমিক ও এসএসসি/এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করা নারীদের চেয়ে কম শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত নারীরা বেশি হারে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ করেন। এর মানে এসব নারীর শ্রমের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।

এ বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে, নারীশ্রম সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি আছে, ফলে শিক্ষিত নারীর একটি বড় গোষ্ঠী ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার পূর্ণ ও যথার্থ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারছে না। এটি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অবাঞ্ছিত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ দক্ষ নারী শ্রমিকদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। এখন কর্মক্ষম নারীদের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে ভালো এবং পরিবার ছোট হওয়ায় তাদের হাতে বাড়তি সময়ও থাকে। এই উভয় শর্তই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণের জন্য অনুকূল। তা সত্ত্বেও শ্রমবাজারের কাঠামোগুলো নারীর উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য যথেষ্ট পরিবর্তনশীল নয়। তাই নারীশ্রম সরবরাহের একটি প্রধান বাধা হলো, লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবাজার কাঠামো। যার একটি উদাহরণ হলো ‘এমপ্লয়ার্স প্রেফারেন্স’, অর্থাৎ নিয়োগকারীদের মাধ্যমিক ও এসএসসি/এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করা নারীদের নিয়োগ করার প্রতি অনাগ্রহ। কারণ তাদের অল্প শিক্ষিত শ্রমিকদের চেয়ে বেশি মজুরি দিতে হবে।

এছাড়া কঠোর সামাজিক নীতি-নিয়ম দ্বারা নারীর শ্রম সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামাঞ্চলে হওয়া এক জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ নারী ও পুরুষ মনে করেন যে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই পরিবারের আয় উপার্জনের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে এ রকমই একটা অংশ মনে করেন যে, চাকরির জন্য সারাদিন একজন নারী বাইরে থাকলে পরিবার ও ছোট শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে (Mahmud and Mustafa 2016 draft)। তার মানে দাঁড়ায়, বেশির ভাগ মানুষ মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও পরিবারের আয়-উপার্জনে অবদান রাখতে হবে। তবে তা করতে হবে তাদের গৃহকর্ম ও পরিবারের যত্নের দায়িত্বে অবহেলা না করে, যেটা তাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ ও নারী উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে, একটি পূর্ণকালীন চাকরি একজন নারীকে স্বাধীন করে এবং তাকে ও তার পরিবারকে সুখী করে তোলে।

এ মনোভাব কী ইঙ্গিত করে? প্রথমত. একজন নারীর আয়-উপার্জনকারী কাজ করা উচিত। তবে এমন কাজ, যা বাড়ির ভেতরে বসে করা যায় অথবা যে কাজের জন্য বেশি সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয় না। দ্বিতীয়ত. নারীর পূর্ণকালীন চাকরি পরিবারের ওপর কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, যদি সে কাজে নিয়মিত বেতনসহ সুযোগ-সুবিধা থাকে। কাজেই নারীর কাজ সম্পর্কিত প্রচলিত রীতি-নীতি আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় হয়ে আসছে। পুরুষের উপার্জনকারী ভূমিকা ও নারীর গৃহকর্ত্রীর ভূমিকার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এর প্রতিফলন সাম্প্রতিক নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ওপর পড়েছে। যেমন— ২০১৫ সালে কর্মরত নারীর মধ্যে ৩৮ শতাংশের কর্মসংস্থান ছিল পারিবারিক খামার বা পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শ্রমদান, ২৯ শতাংশ ছিল ঘরের বাইরে মজুরি/বেতনভুক্ত চাকরি, ৩৩ শতাংশ ছিল স্বনিয়োজিত কর্মী হিসেবে (যাদের মধ্যে শুধু ১ শতাংশ নিয়োগকারী ছিল)। সুতরাং যদিও এখনো অর্থনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চাইলে বেশির ভাগ নারীকে তাদের গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাজ বেছে নিতে হয়, তা সত্ত্বেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘরের বাইরে পূর্ণকালীন কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে কোন ধরনের নারী কর্মী উদ্যোক্তা হতে এগিয়ে আসবেন? স্বাভাবিকভাবে মনে হবে স্বনিয়োজিত নারী কর্মীরাই উদ্যোক্তা হিসেবে সবচেয়ে উপযোগী। তবে মনে রাখতে হবে যে, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারী নারীর মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ স্বনিয়োজিত এবং সর্বশেষ শ্রমজরিপে দেখা গেছে যে, যারা নতুন শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই (৮০ শতাংশ) পূর্ণকালীন চাকরির দিকে ঝুঁকছেন। তবে শ্রমজরিপ থেকে এটাও পরিষ্কার যে, শিক্ষিত কর্মক্ষম ও কিছুটা সচ্ছল পরিবারের নারীদের এক বড় অংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করেন। একটি নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হলে এবং পর্যাপ্ত আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত হলে এ নারীরা উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

নারীদেরকে লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করার কৌশল হিসেবে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদার উভয়েরই নারী উদ্যোক্তা গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। ১৯৯০-২০০০ সালের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলো (মাইক্রোফিন্যান্স ইনস্টিটিউশনস— এমএফআই) নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসা করার জন্য ঋণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে। এমএফআইদের এ সফল কার্যক্রমই পরবর্তীতে সরকারি নীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।  ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের ২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশন এসএমই উন্নয়ন, নীতিমালা বাস্তবায়ন, আর্থিক সহায়তা প্রদান, দক্ষতা বিকাশ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড হাতে নেয়। উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টের (ডব্লিউইডি) জন্য একটি বিশেষ শাখার মাধ্যমে বিদ্যমান ও সম্ভাব্য নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাপক সহায়তা প্রদান করা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সরকারি নীতিমালার ফলে ৪৬টি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র উদ্যোগকে অর্থায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তারা বর্তমানে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়ার জন্য সহজ লেনদেনের মাধ্যমে ঋণ দিচ্ছে (Nazneen 2017)। গ্রামীণ এলাকায় গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি প্রধান প্রোগ্রাম হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, যা গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। এ কার্যক্রম দ্রুত প্রসারের জন্য বর্তমানে ২৬টি ইউনিট অফিসের মাধ্যমে ইকুইটি ফান্ড প্রদান করা হচ্ছে। তবে পুরুষের তুলনায় নারী উদ্যোক্তা কম।

নারী শ্রমবাজারের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের এ কৌশল কতটা বাস্তবসম্মত? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাদের কিছু তত্ত্ব ও পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নারী উদ্যোক্তাদের কেস স্টাডির কাহিনী ছাড়া বিশেষ তথ্য পাওয়া যায় না।  যেমন— তাদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, পরিবারের অবস্থা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালনা সম্পর্কে সুসঙ্গত তথ্যের অভাব রয়েছে। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের ওপর স্বল্পাকারে যে গবেষণা আছে, তাতে দেখা গেছে যে নারী উদ্যোক্তারা যারা ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করেন, তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য আছে (Kabeer 2001; Nawaz 2009; Afrin et al 2008; Parvin et al 2012)।  যেমন— আর্থিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, পরিবার বা নিজের অতীত অভিজ্ঞতা ও পরিবারের সম্পদ বা জমি। এর মানে নারী উদ্যোক্তারা ‘দরিদ্র’ পরিবারের সদস্য নন। এছাড়া একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত যেসব গুণাবলি প্রয়োজন তা হলো— স্বাধীন মনোভাব ও সক্রিয়তা, ঝুঁকি নেয়ার ও মোকাবেলা করার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন ক্ষমতা, চলমান উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সমঝোতা করার ক্ষমতা, পরিবারের বাইরের এজেন্ট, সরবরাহকারী, ডিলার, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেন করার কৌশল। যদিও অধ্যাপক ড. ইউনূস এ কথা বলতে পছন্দ করেন যে, ‘সব মানুষই প্রকৃতিগতভাবে উদ্যোক্তা’। তবে স্পষ্টই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সম্পদ সব নারীর সমানভাবে থাকে না।

তাছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের কাজের পরিবেশও নারীবান্ধব নয়। সে ধারণা পাওয়া যায় গ্রামীণ এলাকায় নারী উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা থেকে। পূর্বগবেষণা থেকে দেখা যায় যে, গ্রামীণ এলাকায় যেসব নারী উদ্যোক্তা এনজিও কার্যক্রম থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছেন (এসএমই), তারা স্বমালিকানাধীন উদ্যোগের পরিবর্তে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে পছন্দ করেন। যেখানে ৮০ শতাংশ পুুুরুষ উদ্যোক্তা নিজেরাই মালিক, সেখানে মাত্র ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা নিজের প্রতিষ্ঠানের মালিক (Kabeer 2001)। মাত্র অর্ধেক নারী উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করেন, এমনকি আরো কমসংখ্যক (এক-তৃতীয়াংশ) নারী তাদের লাভের অংশ নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। অথচ এ দুই ক্ষেত্রেই পুরুষের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে যদিও এক-তৃতীয়াংশ নারী উদ্যোক্তা জমি কিনতে পেরেছিলেন, তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা নিজের নামে জমি নিবন্ধন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কাজেই নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে লিঙ্গভিত্তিক নিয়ম-নীতির বাধা থাকে, তা ঋণ এবং অন্যান্য সহযোগিতা পাওয়া সত্ত্বেও অতিক্রম করা সম্ভব হয় না।

জাতীয় পর্যায়ে পুরুষের তুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের করুণ চিত্র ফুটে উঠে ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে (Nazneen 2017)। প্রায় ৭ দশমিক ৮ লাখ উদ্যোক্তার মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা এবং ৬ শতাংশ নারী মালিক/স্বত্বাধিকারী। এছাড়া ৯৯ শতাংশ নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের। বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তা নেই বললেই চলে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ঋণ বিতরণের অনুপাত ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে ৪ দশমিক ৪৫ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নারীদের এসএমই ঋণের অনুপাত ৪ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে ২০১৫ সালে নারী উদ্যোক্তাদের গড় ঋণের পরিমাণ পুরুষ উদ্যোক্তাদের ঋণের পরিমাণের মাত্র এক-দশমাংশ। তাছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হওয়া সম্পর্কেও আমরা বিশেষ কিছু জানি না এবং প্রতিষ্ঠানের মৃত্যুর পেছনের কারণগুলো সম্পর্কেও বিশেষ নিয়মানুগ তথ্য নেই। যদিও সফল নারী উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে অনেক গল্প-কাহিনী আছে। কিন্তু এ সাফল্যের পেছনের কারণগুলোর পদ্ধতিগত কোনো বিশ্লেষণ নেই। ফলে এ সফলতার প্রক্রিয়া ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে আলোকপাত করা কঠিন।

সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে ডব্লিউইডির ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী হওয়াটা এ মূহূর্তে যুক্তিসঙ্গত নাও হতে পারে। ডব্লিউইডির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীর অংশগ্রহণ এখন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও একটি পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশে পুরুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং মাশুল দিতে হয়। যদিও এটি নিঃসন্দেহে কর্মক্ষম নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির একটি কৌশল, বিশেষ করে যেখানে নারীর অংশগ্রহণ খুব ধীরগতিতে বাড়ছে; এ কৌশলটা কিছুটা নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। ঢালাওভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার ও ঝুঁকি নেয়ার জন্য নারীকে চাপ দেয়া বা প্রলোভন দেখানো ন্যায়সঙ্গত হবে না। কারণ সব নারী উদ্যোক্তা হওয়ায় সক্ষম নন।

 

লেখক: জেন্ডার স্টাডিজ ক্লাস্টারের প্রধান ও সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড সোস্যাল ট্রান্সফরমেশনের সমন্বয়ক, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com