Monday, 19 February, 2018, 12:09 PM
Home খেলা
উইকেট নিয়ে প্রশ্ন শ্রীলঙ্কার, জবাব বাংলাদেশের
Published : Monday, 5 February, 2018 at 1:56 PM, Update: 05.02.2018 2:03:17 PM, Count : 1

শ্রীলঙ্কার দিমুথ করুনারত্নের মুখ ভার। রানপ্রসবা চট্টগ্রামের উইকেটে শ্রীলঙ্কান ওপেনারের কোনো রানই করতে না পারার হতাশা যতটা, তার চেয়ে বেশি জয়ের আশাটা হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ায়।

বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছে ৮২০, শ্রীলঙ্কা এক ইনিংসেই ৭১৩। চট্টগ্রাম টেস্টে রান উঠেছে ১৫৩৩, দিনপ্রতি ৩০৬। সেঞ্চুরি হয়েছে ৫টি। ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছেন তিন ব্যাটসম্যান। পাঁচ দিনে উইকেট পড়েছে ২৪টি। উইকেটপ্রতি রান উঠেছে ৬৩। ব্যাটিং-স্বর্গটা দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন।

বাংলাদেশের রানের পাহাড়ের জবাবে শ্রীলঙ্কা টিলা নয়, পাহাড়ই গড়েছে। ২০০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের সামনে যখন পরাজয়ের চোখরাঙানি, তখনই মুমিনুল হক-লিটন দাসের দৃঢ়তায় টেস্টটা বাঁচিয়ে ফেলেছে।
জয়ের সুবাস পেতে পেতেও সেটি হারিয়ে ফেলে যারপরনাই হতাশ শ্রীলঙ্কা। সেই হতাশা থেকেই কি না, শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা করুনারত্নে কাঠগড়ায় তুললেন উইকেটকে, ‘বাংলাদেশ ৫০০ রানের বেশি করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা আরও দৃঢ়তা দেখিয়ে করেছে ৭০০-এর বেশি। এই উইকেটে বিশাল স্কোর গড়ে ওদের ওপর ভালো চাপ তৈরি করেছি আমরা। তবে মনে করি না টেস্টের জন্য এটা ভালো কোনো উইকেট। ১৫০০ রান হয়েছে এখানে। বোলারদের জন্যও কিছু রাখা দরকার ছিল। আশা করি, সামনের টেস্টে এমন উইকেট হবে যেখানে বোলার-ব্যাটসম্যান উভয়ের জন্য কিছু থাকবে।’

৯ উইকেটে ৭১৩ করার পরও উইকেট নিয়ে তৃপ্ত নন করুনারত্নে। হতাশার আরেকটা কারণ হতে পারে, ভালোই স্পিন ধরবে, শুরুতে যে ধারণাটা হয়েছিল তাঁদের, শেষ অবধি সেটি ‘ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায়!
শ্রীলঙ্কান ওপেনার উইকেট নিয়ে যে প্রশ্ন তুললেন, সেটির জবাবে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বললেন, ‘দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই ভালো ব্যাটিং করেছে। জানি না তিনি কোন দিক দিয়ে এ কথা বলেছেন। কেমন উইকেট চান, সেটা তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। টেস্ট ম্যাচ সব সময়ই কঠিন। উইকেট স্পিন-পেসবান্ধব হোক বা স্পোর্টিং। যদি রান রেট দেখেন, আমাদের দুই ইনিংসেই পৌনে চারের মতো ছিল। এটা ভালো উইকেট ছিল। দুই দলের ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নিয়ে ভালো করেছে।’
তবে এ উইকেট বোলারদের জন্য কেমন ছিল কিংবা এমন উইকেটে ম্যাচে ফল আনা সম্ভব কি না—এগুলোর উত্তর জানা গেল না।

কে জিতল, শ্রীলঙ্কা না বাংলাদেশ?

রশ্নটা আমার সেই ক্রিকেট-বোদ্ধা বন্ধুর মতো হয়ে গেল। বাংলাদেশ জিতলে দু-চারটে লাইকের আশায় যে ফেসবুকে এমন জ্ঞান-গম্যি ঝাড়ে; দেখে মনে হয় এ যুগের নেভিল কার্ডাস কি সিএলআর জেমস। অথচ তাকে খুব সহজে বিভ্রান্ত করে দেওয়া যায় এই বলে, ‘আচ্ছা বল তো, কয়টা উইকেট পড়লে এক গোল হয়?’

ড্র ম্যাচে তাই কারও জেতা-হারার প্রশ্ন কেন আসছে? আসছে, কারণ নেভিল কার্ডাস থেকেই ধার করে বলি, এটা খেলা নয়; এটা ক্রিকেট। কিংবা সিএলআর জেমসকে একটু ভুল অনুবাদ করে বলি, মাঠের ক্রিকেটই যে শুধু দেখে, সে আর ক্রিকেটের কী দেখে?

আর তাই ড্র হওয়া ম্যাচেও জয়-পরাজয় থাকে। সেটা মানসিক জয়। আজ সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে কালো মুখ করে (বর্ণবাদী দৃষ্টিতে নেবেন না) ঢুকলেন দিমুথ করুনারত্নে; করুণাই হলো। বেচারা! এমন ম্যাচে সফরকারী দলের কেউ যেচে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যেতে চায় বলে মনে হয় না। করুনারত্নকে পাঠানো হয়েছে সম্ভবত শ্রীলঙ্কার রানপ্রসবা ইনিংসে শূন্য রান করে আউট হয়েছেন বলে। শাস্তি!

অন্য দিকে ম্যাচসেরা মুমিনুলকে বড় ভাইয়ের স্নেহে আগলে রেখে হাজির হওয়া মাহমুদউল্লাহর মুখে ঝলমলে হাসি। কাল দিন শেষে এই হাসিটাই ছিল লঙ্কানদের মুখে। সেটা ছিনিয়ে নিয়ে হতাশাটা ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে শেষ জয়টা তো বাংলাদেশেরই হলো!

সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্নটা উঠল। এমন ড্র ম্যাচে নৈতিক জয় কে জিতল। করুনারত্নে কি আর হারতে চাইবেন। তবে তিনি কূটনৈতিক উত্তরই দিলেন, ‘দেখুন বোলারদের তো উইকেট থেকে কিছু পেতে দিতে হবে। দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই ভালো করেছে। যে উইকেটে সেটা হতে পেরেছে, সেই শেষে বড় স্কোর গড়েছে (নিজের শূন্যের কথা মনে পড়েছিল বলে হয়তো)। কিন্তু বোলারদের উইকেট নেওয়ার জন্য মাথা খাটাতে হচ্ছিল খুব। সব মিলিয়ে বলব, দুই দলই ভালো অবস্থায় থেকে শেষ করেছে।’

জেতার সুবাস পাওয়া দলের কাছে ড্র পরাজয়ের কাছাকাছি বিস্বাদ এনে দেয়। আর হারের শঙ্কায় থাকা দল বুক চিতিয়ে লড়াই করে ড্র করলে, সেই ড্র জয়ের সমান। করুনারত্নে বিরক্তি লুকিয়ে রাখতেই পারছিলেন না। আজ শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবস, টেস্ট জয় পেলে তা তো দেশের জন্য বড় উপহার হতো; বাংলাদেশি সাংবাদিকের নিরীহ প্রশ্নটার সরল উত্তরও তাই মিলল না।

করুনারত্নে বললেন, ‘আজকের দিনটা সব শ্রীলঙ্কানের জন্যই অসাধারণ এক দিন। তবে দেখুন দিনটা স্বাধীনতা দিবস বলেই তো আর জিততে পারবেন না। জিততে হলে উইকেট পেতে হবে। এই উইকেটে বোলাররা করবেই বা কী!’

সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটা উত্তরে উইকেট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে গেলেন করুনারত্নে। মাহমুদউল্লাহ মানুষটা ঠিক মাইন্ড গেম খেলার যোগ্য চরিত্র নন। তবে শুরুতেই তিনি করুনারত্নের উইকেট নিয়ে করা দাবিগুলো নাকচ করে দিলেন। শুধু তা-ই নয়; বাংলাদেশ যে এই ম্যাচ থেকে প্রাণবন্ত থেকে ঢাকায় খেলতে নামবে, স্পষ্ট করে দিলেন সেটাও।

নৈতিক জয় বাংলাদেশেরই যে হয়েছে, মাহমুদউল্লাহর কথায় পরিষ্কার, ‘যে রকম পরিস্থিতি থেকে আমরা ড্র পেয়েছি, অধিনায়ক হিসেবে সেখান থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলোই নিতে চাই। পরবর্তী টেস্টে তা আমাদের কাজে দেবে। জিততে পারলে ভালো লাগত।’

জিততে পারলে মানে? বাংলাদেশ কি এই টেস্ট জেতার কথাও ভেবেছিল নাকি! মাহমুদউল্লাহ অবশ্য পরিষ্কার করে দিলেন, বাংলাদেশ আরও একটু ব্যাটিং করতেই চেয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে প্রথমে প্রস্তাব আসে, আর খেলে লাভ কী। চলো ড্র মেনে নিই। ‘বাংলাদেশকে অলআউট করা সম্ভব’ গতকাল ডিকভেলার এই ঘোষণা বলে দিচ্ছে, আজ এখানে হারই মেনেছে শ্রীলঙ্কা।

আজ তাঁর জন্মদিন। বাংলাদেশের শেষটাও দারুণ হলো। সংবাদ সম্মেলন শেষে মাহমুদউল্লাহ কেক কাটলেন সাংবাদিকদের নিয়ে। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। তবে এই টেস্টে বাংলাদেশের যে ছন্নছাড়া বোলিং, কাল শেষ বিকেলে যে হঠকারী ব্যাটিং; তা ভুলে যাচ্ছেন না মাহমুদউল্লাহও।

সৌজন্যে প্রথম আলো






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com