Monday, 19 February, 2018, 12:09 PM
Home শিল্প ও বানিজ্য
সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে পারছে না তিন ব্যাংক
Published : Monday, 5 February, 2018 at 12:42 PM, Update: 05.02.2018 1:04:25 PM, Count : 1
‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের প্রায় ২৫ লাখ সদস্যের সঞ্চয়ের টাকা জমা হয়েছে বেসরকারি তিনটি এজেন্ট ব্যাংকে। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির উদ্দেশে গড়ে ওঠা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের তাগাদা সত্ত্বেও আমানত হিসেবে জমা হওয়া এ টাকা ফেরত দিতে পারছে না এ তিন ব্যাংক।

জানা গেছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমিতিগুলোর সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা আছে ব্যাংক এশিয়ার কাছে, ৮২৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এছাড়া ইউসিবিতে জমা অর্থের পরিমাণ ২০০ কোটি ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ৪৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ টাকা ফেরত নেয়ার বিষয়ে দুই দফা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠিও দিয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। তার পরও গত ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংক তিনটি। ব্যাংকগুলো এরপর আরো কিছু টাকা ফেরত দিলেও জমা অর্থের তুলনায় তা সামান্য।

বেসরকারি খাতের ব্যাংক তিনটি জমা হওয়া আমানতের বিপরীতে মাত্র ২ শতাংশ সুদ পরিশোধ করছে। যদিও দেশের ব্যাংকিং খাতে এ মুহূর্তে মেয়াদি আমানতের সুদহার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তারল্য সংকট থাকায় ও স্বল্প সুদের সুবিধা নেয়ার জন্যই ব্যাংক তিনটি আমানত ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ অভিযোগ মানতে রাজি নন ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এখনো প্রস্তুত নয়। তাদের কোনো সফটওয়্যার নেই, ব্যাংকিং সিস্টেম নেই। ব্যাংক এশিয়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অটোমেশন ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে। ২০০৯ সালে তারা সোনালী ব্যাংকে গিয়েছিল। সোনালী ব্যাংক অপারগতা প্রকাশ করায় ব্যাংক এশিয়ার কাছে এসেছে। এখন তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সোনালী ব্যাংকে জমা করছে। অন্য ব্যাংক এগিয়ে না এলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই ব্যাংক এশিয়া সে সময় এগিয়ে গিয়েছিল।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের এজেন্ট হিসেবে ব্যাংক এশিয়া সারা দেশের ২৫২টি উপজেলার ১৩ লাখ গ্রাহকের হিসাব খুলেছে জানিয়ে মো. আরফান আলী বলেন, হিসাবগুলোয় জমা হওয়া আমানত স্থানান্তর করতে হলে সময় লাগবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ বৈঠকে ১০০টি উপজেলার টাকা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরের কথা ছিল। এরই মধ্যে আমরা ২৯টি উপজেলার টাকা ফেরত দিয়েছি। আরো ২২৩টি উপজেলার টাকা আমাদের কাছে আছে। সে টাকাও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করে দেয়া হবে।

টাকা ফেরত দিতে বেসরকারি খাতের এ তিন ব্যাংকের গড়িমসি করার বিষয়টি উঠে এসেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পর্ষদ সভার নথিতেও। গত ১৫ নভেম্বর ব্যাংকটির ২৬তম পর্ষদ সভার ১৪ নং আলোচ্যসূচিতে বলা হয়, এরই মধ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ২০১টি উপজেলার ডাটা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়েছে। ওই উপজেলার সমিতিগুলোর ফান্ড এজেন্ট ব্যাংক (ব্যাংক এশিয়া, ইউসিবিএল ও বিসিবিএল) রয়েছে। ব্যাংকগুলো এসব ফান্ড পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরে কালক্ষেপণ করায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিবের সভাপতিত্বে ১১ সেপ্টেম্বর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কোনো উপজেলার ডাটা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই উপজেলায় ২০১৬ সালের ৩০ জুনের আগে গঠিত সমিতির তহবিল এজেন্ট ব্যাংকগুলো নিজ নিজ উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে খোলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এসএনডি হিসাবে স্থানান্তর করবে।

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফান্ড স্থানান্তর না হওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের সভাপতিত্বে গত ৬ নভেম্বর আবারো সভা হয়। এজেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ফান্ড স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সে হিসেবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৫৭২ কোটি টাকা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা তিন ব্যাংকের।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আকবর হোসেন। জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, তিনটি এজেন্ট ব্যাংকে জমা হওয়া পুরো টাকাই আমরা চেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠকও হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক তিনটি টাকা পরিশোধ শুরু করেছে। তবে গতিটা বেশি নয়। সব মিলিয়ে আমরা ২০০ কোটি টাকার মতো ফেরত পেয়েছি।

বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। ওয়ার্ডগুলোর প্রতিটি গ্রামে ৬০টি গরিব পরিবারের সমন্বয়ে একটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২৫ লাখ দরিদ্র পরিবার এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সরকার ৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় করছে।

প্রকল্পটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ২০১৪ সালে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন করা হয়। ওই বছর ৮ জুলাই গেজেটের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সরকার। ওই আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়, ২০১৬ সালের ৩০ জুনের পর একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বিলুপ্ত হবে। বিলুপ্ত প্রকল্পের সব সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, অর্থ, কর্মসূচি ও দায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে বিশেষায়িত এ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয়। কিন্তু এ যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ান একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা প্রকল্পটি চালিয়ে নেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। অবশেষে সরকার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) বিল-২০১৬ সংসদে তোলে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর বাড়িয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কাজ পাশাপাশি চালিয়ে নেয়ার পক্ষে মত দেয় সংসদ।

সৌজন্যে বণিকবার্তা






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com