Monday, 14 October, 2019, 3:14 AM
Home শিক্ষা
পরীক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় ও জাতীয় পরিকল্পনা
কাজী ফারুক আহমেদ লিখেছেন সমকালে
Published : Sunday, 6 August, 2017 at 7:48 PM, Count : 0

আমাদের এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষা, পিএসসির সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। যখন যেটা সামনে আসে তাকে কেন্দ্র করেই এসব নিয়ে যে যার মতো কথা বলেন। বিশেষজ্ঞ অভিমত হিসেবে মাঝেমধ্যে যেসব বক্তব্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদে পাওয়া যায়, তারও বেশিরভাগ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃৃক্ত বিশিষ্টজনের বক্তব্যের আলোকে এবং বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়ের প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করতেই মূলত আজকের এ লেখা, যা শুধু কর্তৃপক্ষীয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও আশাবাদী মানুষের কাছে সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি ও সমস্যা নিরসনে সহায়ক হলে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে ।

পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ৪টি মৌলিক প্রশ্ন : প্রচলিত পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ৪টি মৌলিক প্রশ্ন করা যায় :১. শিক্ষকের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে যা পড়ানো হয়, প্রচলিত পরীক্ষায় তার যথাযথ মূল্যায়ন হয় কি-না? ২. শিক্ষার্থীকে যা পড়ানো হয় এবং সে যতটুকু অনুধাবন ও আত্মস্থ করতে পারে; পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কি তার ওপর ভিত্তি করে হয়, নাকি সে যা বুঝতে সক্ষম নয় তার ওপর ভিত্তি করেও হয়? ৩. নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণকারী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করে কীভাবে ও কেন? তার দায় পাঠদানকারী শিক্ষকের ওপর কতটুকু বর্তায়? ৩. প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়নে যে শিক্ষার্থী ভালো ফল করে; পাবলিক পরীক্ষায় তার ফল খারাপ হয় কীভাবে? তার জন্য কে দায়ী? সে নিজে, না তার প্রতিষ্ঠান, না প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা?

পরীক্ষা ব্যবস্থার বিবর্তন :আমাদের দেশে প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে বিগত দেড়শ' বছরের বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে। প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে পরীক্ষা পদ্ধতি যুক্ত। সেকালে সহজ-সরল শিক্ষা ব্যবস্থা ও অতি সহজ-সরল পরীক্ষা প্রচলিত ছিল। একজন শিক্ষক স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করে, অধিক বিষয়ে তাদের পারদর্শী করে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতেন। শিক্ষাদান, মূল্যায়ন, সনদ প্রদান_ সবকিছুই একা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নাতীত বলেই সমাজ গ্রহণ করে নিত। ক্রমে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিপুলভাবে বাড়তে থাকে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার স্থলে উদ্ভূত হয় সম্প্রসারিত আনুষ্ঠানিক শিক্ষা। এক শিক্ষকের স্থান গ্রহণ করে বহু শিক্ষক সমবায়ে সংগঠিত বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরূপ ব্যাপক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আগে উলি্লখিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অত্যন্ত অনুপযোগী বিবেচনায় ভিন্নতর ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। সম্প্রসারণের এই স্তরেই প্রবর্তিত হয় লিখিত পরীক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আন্তঃপরীক্ষা ছাড়াও চালু হয় জাতীয়ভিত্তিক বা বিরাট অঞ্চলভিত্তিক সাধারণ বহিঃপরীক্ষা- পাবলিক এগজামিনেশন। এ ধরনের পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কারণে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত হয় স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক এগজামিনেশন বা পরীক্ষার প্রাধান্যের আরেকটি কারণ হলো অন্তঃপরীক্ষায় ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে জনসাধারণের মনে আস্থার অভাব। আপাতদৃষ্টিতে সমস্যাটি শিক্ষকের নিরপেক্ষতার সঙ্গে জড়িত মনে হলেও তা বস্তুত একটি সামাজিক সমস্যা। বর্তমানে সামাজিক পরিবেশ শিক্ষকের যে সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা নির্ধারণ করে, তা শিক্ষকের দায়িত্ব পালনে বিশেষ করে ক্ষমতাধরদের চাপের মুখে সহায়ক নয়। (মফিজ উদ্দিন শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট :'পরীক্ষা ও মূল্যায়ন')।

অন্তঃ ও বহিঃপরীক্ষা : ১৯৭৪-এর কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে সে জন্যই সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, অন্তঃপরীক্ষার গুণাগুণ সম্বন্ধে পূর্ণ জ্ঞানের অভাববশত আমাদের দেশে শিক্ষার কোনো কোনো স্তরে এমন পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে যে, সেখানে পরীক্ষার্থীর আপন শিক্ষকের প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা নেই। কেবল বিষয়ভিত্তিক বহিঃপরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা আজীবন চিহ্নিত থেকে যায়। পরীক্ষক, পরীক্ষা পরিচালনা সংস্থা, সময়, পরিবেশ, পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ ইত্যাদির দরুন বহিঃপরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্দেশ্য-নিষ্ঠা বহুলাংশে হ্রাস পায় এবং উলি্লখিত উপকরণগুলোর সংখ্যা বা পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্দেশ্য-নিষ্ঠা পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে শিক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়া ও শিক্ষকের কাছে তা পার করানোই একমাত্র লক্ষ্য। অধিকাংশ অভিভাবকেরও তা-ই চাওয়া। ১৯৯৮ সালে ইউএনডিপির এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেকেলে এবং অনুপযোগী শিখন পদ্ধতি বিশেষত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের অবকাশ থাকে না। সে জন্য এবং একটি মাত্র সমাপনী বহিঃপরীক্ষার ফলে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনডিপি সুপারিশ করে, শুধু বহিঃপরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়নে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। শিক্ষকরাই সে দায়িত্ব নিতে পারবেন। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর রিভিউ ভিশন ২০২০-এ উপস্থাপিত বক্তব্যও এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক :মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য। কেননা, প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হয় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে। পাঠদান অধিকতর প্রাসঙ্গিক করতে হবে। এর সংস্কারের বিকল্প নেই। বর্তমানে প্রচলিত সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেটের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট/নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সার্টিফিকেট প্রবর্তন করা দরকার। গুরুত্ব না দেওয়া উচিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেটকে। থাইল্যান্ডে মাধ্যমিক পর্যায় এবং মালয়েশিয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষা নেই- এ কথা উল্লেখ করে 'বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির ইতিহাস' গ্রন্থে ড. মো. হান্নানও বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ হওয়ার পর প্রথমে মাধ্যমিক পর্যায়ে এবং পরের ধাপে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাবলিক পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন ।

পরীক্ষা সংস্কার অপরিহার্য :এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী অর্জিত জ্ঞানের মূল্যায়নে আমাদের দেশে যে পরীক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, তা ইতিমধ্যে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে কি-না বা কতটা কার্যকর, তা নিরূপণের সময় এসেছে। সমস্যাটিকে খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার- দেশ-বিদেশের উদাহরণ, ব্রিটিশ আমল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন, সব স্তর ও পর্যায় বিশেষ করে তৃণমূলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিজ্ঞতার পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রচলিত পাবলিক পরীক্ষার আদৌ উপযোগিতা আছে কি-না বা কতটুকু আছে তা যাচাই করে একটি যুগোপযোগী জাতীয় পরীক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষাবিষয়ক গবেষণা পরিচালনা ও কর্মসূচি গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ ও পাবলিক উভয় পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের পর্যায় ও পালাক্রমিক প্রশিক্ষণ প্রদানের কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। সেই সঙ্গে বোর্ডভিত্তিক না করে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিতে আঞ্চলিকভাবে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা যায় কি-না, ভেবে দেখা যেতে পারে। প্রায় তিন দশক ধরে মিডিয়ার মাধ্যমে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত আবেদন করে আমি প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং একটি যুগোপযোগী জাতীয় পরীক্ষানীতি প্রণয়নের কথা বলে আসছি। বাংলাদেশে শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ১৯৯৯ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক বরাবর পেশাগত ১৫ দফা দাবির সঙ্গে পরীক্ষা সংস্কারের ৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এতে কিছু কাজ হয়। তবে খুব বেশি একটা এগোতে পারেনি।

জাতীয় পরীক্ষানীতি ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা : বর্তমান প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসির মতো দুটো বড় পাবলিক পরীক্ষা সংস্কার ও যতদূর সম্ভব ত্রুটিমুক্তভাবে গ্রহণ করা যেমন অপরিহার্য; একইভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষা, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা এর সঙ্গে যুক্ত করা আবশ্যক বলে বিবেচনা করি। আমাদের সময় ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা এত বেশি সময় ধরে হতো না। একদিনে দুই পরীক্ষা বা দুই পেপারে পরীক্ষা যেমন ছিল; শরীর চর্চা ও ড্রয়িংয়ের মতো বিষয় পাবলিক পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় সেগুলোর ওপর মার্ক দেওয়া হতো এবং বার্ষিক পরীক্ষার মার্কশিটে তার উল্লেখ থাকত। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা ইউনিট সে লক্ষ্যে কিছু কাজ করছে।

মোট কথা, শিক্ষা ও পরীক্ষায় সংস্কার আনা সময়সাপেক্ষ- এ কথা স্বীকার করে নিয়েই জাতীয় পরীক্ষানীতি প্রণয়নের মতো যুগোপযোগী পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সে জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব সরকারের আমলে শিক্ষা নিয়ে বিশিষ্টজনের গবেষণা ও উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব, বিশেষ করে ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা রিপোর্ট; সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। যৌক্তিকতা, মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা, বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষাকে ভিত্তি করে কর্মক্ষম মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন তথা সমাজের প্রগতিশীল রূপান্তরে বুকভরা সাহস নিয়ে অগ্রসর হতে পারলে অনেক অসম্ভবই সম্ভব হয়ে ধরা দেবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য প্রবীণ শিক্ষক নেতা

[email protected]





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]