Saturday, 22 July, 2017, 2:42 AM
Home ভ্রমণ
পাহাড়ের চূড়ায় ১৫একর জায়গা জুড়ে অবিশ্বাস্য লেক
মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
Published : Friday, 23 June, 2017 at 3:37 PM, Count : 0

ভ্রমণ সংগঠন ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের হুট করে এবারের ভ্রমণ ছিল লেক। তার চেয়েও তড়িঘড়ি করে হয়ে গেল ব্যবস্থা। যেই কথা, সেই কাজ। পরিকল্পনা মতে রাতের গাড়িতে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকাল ৮টায় বান্দরবান শহর রুমা বাজারে পৌঁছালাম ১০টা ৪০মিনিটে। দলে ছিলাম আমি, সাপ্তাহিক সবুজ পত্র পত্রিকার সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বপন, রোটারী ক্লাব অব বান্দরবানের সভাপতি এড. বাচ্চু মিয়া, চবির মার্স্টাস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল, ঢাবির সম্মান ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ঢামি, মং তাই মারমাসহ ১৭জন। অভিজ্ঞ গাইড শাহজাহান আমাদের সঙ্গী হওয়ার ছিল। তিনি অসুস্থ্য থাকায় পানু ওম বমকে সঙ্গে নিই। এরই ফাঁকে একটি হোটেলে খাবারের পর্ব শেষ করি। রুমা আর্মি ক্যাম্প ও থানায় ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করে চান্দের গাড়িতে রওনা হই লেকের উদ্দেশ্যে।

বান্দরবান থেকে রুমা আসার সময় চান্দের গাড়িতে চড়েছিলাম, আবারও যাচ্ছি। কিন্তু রুমা থেকে লেকটিতে যেতে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা, খাড়া খাদ (গর্ত) আরও বেশি। কখনও ৭০-৮৫ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে রাস্তা পাহাড়ের উপরে উঠে গেছে। আবার কখনও ঢাল বেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। পুরো ভয়ানক থেকে ভয়ানক বন-জঙ্গল রাস্তার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে পাশে কিছু আদিবাসীদের পাড়া দেখা যায়। অবশেষে চান্দের গাড়ি নামিয়ে দিল আমাদের। এবার হাঁটার পথ। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে উপরে উঠলেই লেক। উপরে উঠার সময় হোঁচট খেয়ে পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে খুব সাবধানে এগোচ্ছি। দু’বার বিশ্রাম নিয়ে থেমে থেমে লেকের চূড়ায় উঠতেই মুগ্ধ নয়নে আশ-পাশের পাহাড় ও আকাশে মিলে যাওয়া দেখতে পেলাম। ২হাজার ৭০০ফুট পাহাড়ের চূড়ায় ১৫একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই অবিশ্বাস্য লেকটি। লেকের রূপ একেক সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা দেয়। এর সোন্দর্য কাগজে কলমে লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। এক কথায় কল্পনার বাইরে। এ লেকটি দেখা মাত্রই পর্যটকদের পথের ক্লান্তি মিটে যায় মুহুর্তের মাঝে। ওহ! চোখে না দেখলে কারও সাধ্য নেই অন্যকে বুঝানোর।

লেকের পাশেই ছিমছাম সুন্দর একটি পাড়া দেখতে পেলাম। এখানে থাকার জন্য কাঠের রেষ্ট হাউজ বানানো আছে। আমরা গিয়ে উঠলাম সিয়াম দিদির রেষ্ট হাউজে। রুমে ব্যাগগুলো রেখেই লেকের পানিতে ইচ্ছে মত লাফ-ঝাঁপ দিয়ে ক্লান্তি আরঅন্য সব কষ্ট তো দূর হলো। ঘন্টাখানেক পর সন্ধ্যা নেমে এলো। এখানে রাতের অন্ধকার খুবই ভয়াবহ কিন্তু আকাশে চাঁদ থাকায় স্নিগ্ধ আলোয় পুরো জায়গাটায় সাহাবী পরিবেশ তৈরী হয়। বিদ্যুৎ নেই, সোলার দিয়ে লাইট জ্বালানো হয়। সারাদিনের ভ্রমণে প্রচন্ড ক্ষুধার্ত সবাই। তাই রাতের খাবারের অর্ডার দেওয়া হলো- মরিচ ভর্তা, ডাল আর পাহাড়ি মুরগির ভুনা। সঙ্গে জুম চালের ভাত তো থাকছেই। খাবার পর লেকের পাশে একটি মাঠে আরও কিছু ঘর ছাড়া পর্যটক গিটার নিয়ে পানের আসর বসিয়েছে মায়াবী আলোয়। রাতে এখানে সময় বুঝা যায় না। আমরা রাত ১টার দিকে ঘুমাতে যাই।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছেন লেকটিকে। হ্যা এটাই বগালেক।


পরদিন ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দল নিজেদের আপন ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আবার সেই ব্যস্ত জীবন। তবে, সঙ্গে নিয়ে এসেছি চমৎকার সব স্মৃতি।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও ইস্পাহানী বিল্ডিং এর পাশ থেকে শ্যামলী, এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, ঈগল, হানিফ ও সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। ভাড়া ৭৩০ টাকা (নন এসি), ৮৬০টাকা (এসি)। বান্দরবান থেকে লোকাল বাসে রুমা পর্যন্ত ১৫০টাকা। সেখান থেকে রির্জাভ চান্দের গাড়ি বগালেক যায়। ভাড়া প্রায় আড়াই হাজার টাকা।
বগালেকে লরাম ও সিয়াম দিদির রেষ্ট হাউজ আছে। থাকায় বেশি খরচ নেই। তবে, খাওয়ার টাকা কিছু বেশি লাগে।


লেখকঃ মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
প্রতিষ্ঠাতা- ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ।
মোবাইল- ০১৭২৬৬০৭৫৯০





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com