Tuesday, 24 October, 2017, 4:27 AM
Home ফিচার
প্রবাসী সন্তানের স্মৃতিতে মা
সাজিদ আরাফাত লিখেছেন নিউজবাংলাদেশে
Published : Friday, 23 June, 2017 at 2:56 PM, Count : 0

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু জেনো ভাই
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
ত্রিভুবনে নাই।।’

কবি কাদের নেওয়াজের এ কবিতায় যেন ঝরে পড়ছে মায়ের মায়া, মমতা, অকৃত্রিম স্নেহ, আদর আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সব কথা। মা আসলেই পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম, সবচেয়ে পবিত্র ও মধুরতম শব্দ। সেই মাকে যেন বিশ্বের সব মানুষ একসঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’।

মা দিবসে অনেকের দিনটিই শুরু হবে মমতাময়ী মায়ের মুখ দেখে। তবে কেউ কেউ তো উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা আরো নানাবিধ কারণে বিদেশ-বিভূঁইয়ে মাকে ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন। মা দিবসে তাদের ভাবনা নিয়ে এবারের আয়োজন-

কাবেরি ঈশা মৌরি (কানাডা): বিয়ের পর সম্প্রতি কানাডায় বসত গড়েছেন মৌরি। মা দিবসের কথা বলতেই যেন স্মৃতির ডালপালা বিস্তৃত হতে লাগলো তার। মায়ের স্মৃতি নিয়ে একরাশ আকুলতা ঝরে পড়লো কণ্ঠে। ফিরে গেলেন শৈশবের ফেলা আসা দিনে। মা তার জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। মা যে স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সে স্কুলেই নিজের শিক্ষাজীবন শুরু। মায়ের হাত ধরেই স্কুলে যাওয়া-আসা।

মায়ের ক্লাসের স্মৃতি মনে করতে গিয়ে মৌরি বলেন, একবার মায়ের ক্লাসে পড়া না পড়ে আসায় সবার সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। এতো গেল মায়ের শাস্তির কথা। কিন্তু মায়ের ভালোবাসার উদাহরণ আছে এরকম হাজারটা, যা গুণে শেষ হবার নয়। বিদেশে আসার পর থেকেই মায়ের সেই শুন্যতা অনুভব করতে থাকেন তিনি।

বলেন, মায়ের মমতামাখা হাতের রান্নাকে খুব বেশি মিস করি। মাকে ছেড়ে এখন থাকতে হয় কয়েকহাজার মাইল দূরে। মাঝে মাঝে মাকে ছেড়ে দূরে থাকার কষ্টটা খুব বেশি ভার হয়ে আসে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। দূর থেকে মা সবসময়ই সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন। হয়তো মৃত্যু অবধি তাই করে যাবেন। আর এ জন্য মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসাও অসীম।

নিশাত ইসলাম বৃষ্টি (অস্ট্রেলিয়া): প্রায় বছর দেড়েক হলো উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন নিশাত। পড়াশোনা করছেন সিডনির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বড় বোনের সঙ্গেই থাকেন। মা দিবসে মায়ের সঙ্গে থাকতে না পারার হতাশা নিয়েই বলেন, মাকে ছেড়ে দূর পরবাসে মানিয়ে নিয়ে থাকতে হচ্ছে। একদিকে আপনজন ছেড়ে থাকা, অন্যদিকে নতুন একটা পরিবেশ আর পড়াশোনার চাপ, সব মিলিয়ে নিজেকে খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয় মাঝেমধ্যে।

নিশাত জানান, এটা তার মাকে ছেড়ে প্রথম বাইরে থাকা। শুরুতে মন খারাপ লাগলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে। দূরে থাকার ফলে মায়ের হাতের জাদুকরী রান্না অনেক মিস করেন। বিশেষ করে নিজের প্রিয় খাবার মিষ্টি কুমড়ার সঙ্গে চিংড়ি রান্না। তবে আফসুস, দেশের বাইরে থাকার কারণে মায়ের হাতের অনেক খাবারের স্বাদ অনেকটাই ভুলে গেছেন। চাইলেই সেটা পাওয়া হয়ে উঠে না।

তবে প্রযুক্তির কল্যাণে দুরত্বের সীমা কিছুটা ঘোচানো সম্ভব হয়েছে জানিয়ে নিশাত বলেন, অবসরে একা থাকার সময় মায়ের সঙ্গে পুরনো স্মৃতিগুলো মনে করার মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে হয়। দূরে থাকায় মায়ের স্পর্শ পাই না। তবে সময় পেলেই দ্বারস্থ হই ইমো বা স্কাইপের। তবে যোগাযোগ যাই হোক না কেন সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম মা। এ সম্পর্কের পরিধি বিশাল, যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com