Wednesday, 23 August, 2017, 10:18 AM
Home
পাহাড় ট্র্যাজেডির শেষ কোথায়?
অজয় দাশগুপ্ত লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Friday, 16 June, 2017 at 2:09 PM, Count : 0

 সকালে উঠেই দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশের বাঙালির মনও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। আনন্দের খবর আজকাল চোখে পড়ে না বললেই চলে। সাদামাটা জীবনের পথেও যেন এখন  অনেক কাঁটা। কিছুতেই ভালো থাকতে পারছে না বাঙালি। বাইরে তার সমস্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা এক শ্রেণির অন্ধদের দাপট, ঘরে আছে হাজারো সমস্যা। সব ঠিক আছে  শুনতে শুনতে ক্লান্ত কান আর চোখ যখন বিশ্রামে যায় তখনই ভেসে আসে নতুন কোনো দুঃসংবাদ। একটু পানি না ঝরতেই আকাশ মন খারাপ না করতেই ভেসে গেছে চট্টগ্রাম। ঢাকা ডুবে আছে পানির নিচে। এই ঘা না শুকাতেই পাহাড়ে ধস। এই ধস কত মারাত্মক ভুক্তভোগী ছাড়া কে বুঝবে? আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তাদের জীবন এখন শো কেইসে রাখা পুতুলের মতো গাড়ি আছে রাস্তা নাই। বাড়ি আছে বাতি নাই। বাতি আছেতো পানি নাই। আর সাধারণ মানুষের পানি আছে কিন্তু  জীবনধারণের পানি নাই। বাঁচার জন্য তার আসলে যা যা দরকার তার গল্প আছে বাস্তবতা ততটা নাই।

দেখুন কলাম লেখা মানে আপনাদের স্তুতি করা না। কলাম লেখা মানে চলমানতার নামে বিরোধীদলের হয়ে ঝগড়া করাও না। লেখার সঙ্গে যদি বিবেক ও আত্মার সম্পর্ক থাকে, তো বলব দয়া করে কথা বন্ধ করে মানুষ বাঁচান। পাহাড়ে যাদের জীবন গেল তাদের অপরাধ কী? অপরাধ কি সেই সব মানুষদের যারা এদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। একটা বিষয় ভেবে দেখুন মানুষের মৃত্যু বিশেষত অপমৃত্যুকেও কতটা স্বাভাবিক করে তুলেছেন আপনারা। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে এই ঘটনাগুলোকে চাপা দেওয়া যাবে? পাহাড় এমনি ধসে পড়েনি। তেমন কোনো প্রাকৃতিক কারণও ছিল না। এর পেছনের মূল কারণ লোভ আর  লালসা।

পাহাড়  কেটে বাড়িঘর বানিয়ে ফেলা কি একদিনের কাজ? বললেই হবে যে, তারা কথা শোনেনি? কারা শোনেনি? যারা গরিব, থাকার জায়গা নেই তারা? আপনারা যে প্রায়ই বলেন. একজনও আবাসনহীন থাকবে না। থাকলে খবর দিন সরকার বাড়ি বানিয়ে দেবে, এটাই কি তার নমুনা? কে না জানে, এই অবৈধ বা বৈধ বাড়িঘরগুলো থেকে একটা হিসসা রাজনীতির লোকেরাও পায়। মাটি কাটা পাহাড় কাটার ব্যবসায় আমরা বহু বড় বড় নেতাদের নাম  দেখেছি। বাস্তবে পাহাড়ি এলাকাগুলো খাস জমির মতো। যে যা পারে ছলে বলে কৌশলে দখল নিলেই হয়। চতুর জিয়াউর রহমান সেটেলারের নামে সমতলের গরিব বাঙালি মুসলমানদের ঠকিয়ে যে উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চেয়েছিলেন সব সরকারই সে পথ হয় মেনে নিয়েছে নতুবা ফলো করে গেছে। আসলে পাহাড়িদের সঙ্গে আমাদের ভৌগোলিক ঐক্য ছাড়া আর কোনো সখ্য বা ঐক্য আছে বলে মনে করি না।

পাহাড় কি শুধু আমাদের আছে?  আর কারো নাই? বছরের পর বছর এমন ঘটনা কেবল বাংলাদেশে কেন ঘটে? কারণ আমরা একটি কথা খেকো জাতি। আমাদের কাজ হচ্ছে কথা বেচা। কথা কেনা। সব সরকার মুখে বললেও পাহাড়ে বা সমতলের গরিবদের জীবনে আসলে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তাছাড়া মৃত্যু এখন আমরা এতটাই স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছি যে, জীবন বা বেঁচে থাকাটাই আশ্চর্যের। এইযে লন্ডনে ছুরিকাঘাতে মানুষ প্রাণ হারাল খেলার মাঠ থেকে সংসদ, সংসদ থেকে আয়োজন সবকিছুতে তারা তাদের স্মরণ করল। দুনিয়া জানল মানুষের জীবনের চেয়ে অধিক মূল্যবান আর কিছু হতে পারে না। কী করব আমরা?

আমাদের সেমি ফাইনালে আমরা কি এইসব পাহাড় ধসে মারা যাওয়া মানুষ ও তাদের জন্য জান দেওয়া বীরদের জন্য এক মিনিট শোক পালন করব? করবে সরকার বিরোধী দল বা সারা দেশের মানুষ? কী করব আমরা? কিছু সময় এর ওর মুণ্ডপাত করে আবার যার যার মতো নিজেদের আনন্দ বেদনায় জড়িয়ে পড়ব। এ আমাদের দোষ না। সরকার রাজনীতি বরোধী দল সবাই মিলে এ জায়গায় ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

লেখক :প্রবাসী সাহিত্যিক





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com