Wednesday, 23 August, 2017, 10:19 AM
Home জাতীয়
কাঁদছে পাহাড় : প্রাকৃতিক নয়, মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়
Published : Thursday, 15 June, 2017 at 3:04 PM, Count : 0

আবদুল আজিজের বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। ব্যান্ডেজ নিয়ে বান্দরবান জেলা হাসপাতালের ৪৭ নম্বর বেডে শুয়ে আছেন। দু'চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। বিড়বিড় করে ডাকছেন স্ত্রী কামরুন নেছা ও মেয়ে সুফিয়াকে। তিনি নিজেও জানেন_ আর কোনো দিন ফিরবেন না স্ত্রী-মেয়ে। তার চোখের সামনেই পাহাড়চাপায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বিলাপ করে তিনি বললেন, 'কার জন্য কিনলাম ঈদের শাড়ি। ও কামরুন নেছা, আমারে ছাড়ি তুমি কোথায় গেলা? ও সুফিয়া, আমার কাছে ফিরে আয় মা। তোদের ছাড়া আমি কীভাবে থাকব রে। কাদের নিয়ে বাকি জীবন কাটাব।' ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আবদুল আজিজ যখন প্রলাপ বকছিলেন, তখনই মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় কামরুন নেছা ও সুফিয়ার লাশ। তার মতো স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পাহাড়ের বাতাস। নিহতদের তালিকা গতকাল বুধবার আরও দীর্ঘ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে ১৩০ জনের লাশ পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় দিনে আরও ১৩ লাশ উদ্ধার হয়েছে। নতুন করে পাহাড় ধসে কক্সবাজার ও খাগড়াছড়িতে আরও চারজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত পাঁচ জেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় নিহত হয়েছেন ১৪৭ জন। স্থানীয়রা বলছেন, তিন জেলায় এখনও অন্তত ১৫ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন।

গভীর উদ্বেগজনক যে গত ১১ বছরে গড়ে পাহাড়ধসে প্রতিবছর ৩০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। নয়নাভিরাম পার্বত্য অঞ্চল যেন এখন এক মৃত্যু উপত্যকা। ২০০৭ সাল-পরবর্তী দশকে শুধু একটি বছর (২০১৬) প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিশেষজ্ঞরা অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ি ঢল ছাড়াও পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন এবং গাছপালা উজাড় করার কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এতে কোনো নতুনত্ব নেই। এসব সমস্যা চিহ্নিত এবং তার প্রতিকারে প্রশাসনকে আমরা ভাবলেশহীন দেখতেই অভ্যস্ত। এখন প্রশ্ন হলো, নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই দরিদ্রশ্রেণির, তাদের এত মৃত্যু দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের বিচলিত ও কর্মচঞ্চল করবে কি না।

পার্বত্য অঞ্চলের ভূমির মালিকানা জটিলতা না মেটালে পাহাড়ের জনজীবন, বসতি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিবেশবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে না। এটা লক্ষণীয় যে মৃত্যুর মিছিলে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাহাড়িও রয়েছেন। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মূলত ‘প্রাকৃতিক কারণেই এ ধস’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এলোপাতাড়ি বাঙালি বসতি এবং বাছ-বিচারহীন চাষাবাদ ও জীবন-জীবিকা পাহাড়কে নানাভাবে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে। পাহাড়ধসে নিশ্চয় কিছু আশু প্রাকৃতিক কারণ থাকবে, কিন্তু পার্বত্য জনজীবনের উপযুক্ত রক্ষাকবচগুলো স্বমহিমায় টিকে থাকলে এত বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি যে এড়ানো যেত, সেই যুক্তি দুর্বল নয়, বরং যথেষ্ট প্রবল।

শোকাহত মানুষদের সান্ত্বনা দিতে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকমের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ গতকালও বিচ্ছিন্ন থাকায় হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় যান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পৃথক দুটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যায় তা স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পেঁৗছেছে। বুধবার রাঙ্গুনিয়ায় চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দেওয়ার জন্য তালিকা করা হচ্ছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা রাঙামাটিতে ১০৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, গতকাল নতুন করে দু'জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা মা-মেয়ে।

তিন জেলায় আরও ১৩ লাশ উদ্ধার :গতকাল রাঙামাটিতে আরও সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন রাঙামাটি শহরের সুস্মিতা চাকমা (৫), আজিজা আক্তার (৫), ফুলহুদী চাকমা, মো. মুন্না আলমগীর (২৬), জুড়াছড়ির ছতিশ চাকমা (৫৫) ও হ্যাপি তঞ্চঙ্গা (৭)। বান্দরবানে মঙ্গলবার সাতজন নিহত হলেও গতকাল আরও দু'জনের লাশ পাওয়া গেছে। তারা হলেন কামরুন নেছা (৪০) ও সুফিয়া (১২)। সম্পর্কে তারা মা-মেয়ে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় থেকে গতকাল আরও চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন আশীষ কুমার মজুমদার, তার মেয়ে শ্রেয়া মজুমদার (১১), ডা. দিলীপ কান্তি দে (৪৭) ও ইয়াসমিন আকতার (১৫)।

খাগড়াছড়ি ও টেকনাফে নিহত চার :কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাতঘরিয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোররাতে প্রবল বর্ষণের সময় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় তারা নিহত হন। তারা হলেন মো. ছলিম (৪২) ও মেয়ে তিসা মনি (১০)। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির বরমাছড়িতে পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন দু'জন। তারা হলেন পরিমল চাকমা (৫৫) ও কালিঞ্জি চাকমা (৪৫)। এর মধ্যে কালিঞ্জি চাকমার লাশ পাওয়া গেছে ফটিকছড়ি উপজেলার খিরামে।

উদ্ধারকাজ আজও চলবে :উদ্ধার তৎপরতা চালাতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে রাঙামাটি গেছে ফায়ার সার্ভিসের ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ দল। দলটি আজ বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, কাপ্তাই থেকে ট্রলারে করে তারা রাঙামাটি পেঁৗছেছেন। গতকাল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

পাহাড়জুড়ে শোকের মাতম :বান্দরবানের আবদুল আজিজ আরও জানান, পাহাড় ধসের আগের দিন তিনি পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেন। নিজের জন্য লুঙ্গি, স্ত্রী কামরুন নেছার জন্য কেনেন শাড়ি, ব্লাউজ ও পেটিকোটের কাপড়। বুধবার মেয়ে সুফিয়ার জন্য নতুন জামা কেনার কথা ছিল। নিজের উৎপাদিত ফসল বিক্রির টাকা থেকে তাই দুই হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন তিনি। স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে ফের অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন আবদুল আজিজ। তিনি জানান, কামরুন নেছা রাত ৮টার দিকে রান্না শেষ করে। এরপর মেয়েসহ তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খান। প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ দেখেন পাহাড় ধসে পড়ছে তাদের ওপর। ঘুমের মধ্যেই মাটির নিচে চাপা পড়ে সুফিয়া। কিছু বলার আগেই আজিজ ও তার স্ত্রীকে পাহাড় চাপা দেয়। উদ্ধার কর্মীদের সহায়তায় তিনি আহত অবস্থায় উদ্ধার হলেও মেয়ে ও স্ত্রীর লাশ পড়ে ছিল ঘরের পাশেই। মঙ্গলবার দিনভর চেষ্টার পরও মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। গতকাল তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর তাদের লাশ উদ্ধার হয়। একসঙ্গে দু'জনের মৃতদেহ দেখে আশপাশের মানুষের চোখেও নামে অশ্রুর বান। বান্দরবান সদর হাসপাতালের ৩১ নম্বর বেডে থাকা কলেজছাত্র প্রসেন ত্রিপুরা ঘুমের মধ্যেই আঁতকে উঠছেন বারবার। তার পাশের বেডেই আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রুমমেট বীর বাহাদুর ত্রিপুরা। তারা জানান, রেভা ত্রিপুরা নামে আরও এক বন্ধু ছিলেন তাদের রুমে। তিনি বান্দরবান সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনজন একসঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন রেবা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাঝরাতে পাহাড় চাপা দেয় তাদের। উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তারা বেঁচে গেলেও মাটিচাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন রেবা। বন্ধুর কথা মনে পড়তেই দু'জনের চোখ বেয়ে অঝোরে ঝরছিল অশ্রু। রাঙামাটির হাসপাতালেও আহতরা স্বজনদের নানা স্মৃতি হাতড়ে কাঁদছেন অঝোরে।

স্বজন হারানো মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন :রাঙামাটির ভেদভেদী এলাকার নতুনপাড়া ও পশ্চিম মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল আলম ও আবদুল হাই জানান, তাদের চোখের সামনেই অনেক ঘরবাড়ি পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এখন থাকার মতো কোনো জায়গাও নেই। এখন তারা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন। কিন্তু সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেককে নিচে থাকতে হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখনও এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। এমনকি খাবারও দেননি। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তারা কিছু খাবার পেয়েছেন। মেয়ে ও স্ত্রী হারানো জুড়াহুরি চাকমা বলেন, আশপাশের আত্মীয়ের বাসায় এক রাত ছিলাম। এখন আশ্রয়কেন্দ্রে এসে দেখি থাকার কোনো পরিবেশ নেই। খাবারেরও ঠিক নেই। জানি না কোথায় থাকব; কী খাব?'

মাথাগোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন ওরা :মা, স্ত্রী আর তিন সন্তানকে নিয়ে সাজানো সংসার ছিল রাঙ্গুনিয়ার দিনমজুর মফিজুরের। মঙ্গলবার রাতে পাহাড়ধসে মাসহ পাঁচজনকেই হারিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গেছে তার মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও। পরনে লুঙ্গি আর গায়ে থাকা শার্ট ছাড়া এখন আর কিছুই নেই তার। মফিজুর বলেন, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজের খোঁজে বেরিয়েছিলাম। পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফিরে এসে দেখি কেউ আর জীবিত নেই। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আমার থাকার ঘরটুকুও। নিহতরা হলেন মফিজুরের তিন সন্তান মুনমুন (৭), সাজ্জাদ হোসেন হিরু (৯) ও মানিকুর রহমান (১১), স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম (৪০) এবং মা রিজিয়া বেগম (৭০)।

তিন মাস আগে আবুধাবি থেকে ফিরেছিলেন উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগারবিল পাউক্যাঘোনা এলাকার নজরুল ইসলাম (৪০)। তখনও তিনি জানতেন না তার এই শেষ আসা। পাহাড় ধসে স্ত্রী আসমা আক্তার আর দুই সন্তান মনজুর ইসলাম (১৫) ও সাথীর (৭) সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন নজরুলও। তবে একই গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকায় বেঁচে যান নজরুলের আরেক মেয়ে লাকী আকতার। লাকী আকতার বলেন, রাতে সবাই খেয়ে ঘুমিয়েছিল। সকালে এসে দেখি সব শেষ। এখন মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই।

রাঙামাটির সঙ্গে এখনও বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যানবাহন চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। রাঙামাটি শহরের সাতছড়িতে সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় যানবাহন ঘাগড়া পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, রাতের মধ্যে মহাসড়ক থেকে পানি সরে গেছে। সকাল থেকে বড় চাকার গাড়ি চলছে। বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ জানান, বান্দরবান শহরের সুয়াবিল এলাকায় এখনও সড়কের ওপর পানি জমে আছে। বড় চাকার গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করলেও প্রাইভেটকার, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

পাহাড়ধসের মতো বিয়োগান্ত ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এটা দুঃখজনক যে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের পাহাড়ে বসতি স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে নেওয়া হলেও তাদের কখনোই পার্বত্যবান্ধব উপায়ে বসতি স্থাপন ও চাষাবাদের মতো কলাকৌশল শেখানো হয়নি। জুমচাষ প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা জরুরি। তেমন কিছু হলে বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন-জীবিকার কী হবে, তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। আরও বিপর্যয় এড়াতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক শৃঙ্খলার পুনরুজ্জীবন জরুরি।







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com