Tuesday, 12 December, 2017, 5:52 PM
Home আন্তর্জাতিক
ব্রিটেনের অস্ত্রব্যবসা এবং বিদেশনীতি
অ্যান্ড্রু ফেইনস্টেইন লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Thursday, 15 June, 2017 at 2:42 PM, Count : 0

 বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে আমি গত ১৭ বছর ধরে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এই সঙ্গে সম্পূরকভাবেই আমার মনে হয়েছে, এবারের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনটা ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে জটিল।

বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসা কেবল দুর্নীতিকেই বিশেষভাবে সহযোগিতা করেনি, তা একই সঙ্গে বিশ্বের নিরীহ মানুষ হত্যার সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে। এই ব্যাপারে সিরিয়া কিংবা ইয়েমেনে যা হচ্ছে তার চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে? ইয়েমেনে এ পর্যন্ত চার হাজারের মতো নিরীহ নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে জেট, বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। আর এসব অস্ত্র সৌদি আরব কিনেছে ব্রিটেনের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বোমাবর্ষণ শুরু করার পর সৌদি আরব এ পর্যন্ত ব্রিটেনের কাছ থেকে তিনশো ত্রিশ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় করেছে। মজার ব্যাপার হলো- সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বোমাবর্ষণের ব্যাপারে ব্রিটিশ উপদেষ্টারা কাজ করেছেন। অথচ জাতিসংঘের মতে, যেসব লক্ষ্যবস্তুতে এসব বোমাবর্ষণ করা হয়েছে তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই হলো স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয়, আবাসিক ভবন এবং কৃষি ভূমি। ট্রাজেডি হলো- ব্রিটিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানদের যে ভর্তুকি দেওয়া হয় তার মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকরা তাদের নাম ও কর দিয়ে এক অর্থে নৃশংসতাকেই ক্রয় করে। তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা হলো- বিএই এবং রোলস রয়েসের মতো অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানি এই পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

ব্রিটেনের বিদেশনীতি ও অস্ত্র ব্যবসার মাধ্যমে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশগুলোকে এমনভাবে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়েছে, যার চেয়ে খারাপ দশা অতীতে আর কখনো হয়নি। অথচ তারাই কিনা আজ চরমপন্থি তৈরির সবচেয়ে বড় উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে! লন্ডন এবং ম্যানচেস্টার ট্রাজেডির নেপথ্যে যেসব চরমপন্থি ছিল, তারা মূলত প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত হয়েছে ওই সকল চরমপন্থি গ্রুপের মাধ্যমে— যারা ব্রিটেন সরকার কর্তৃক সমর্থিত। বস্তুত সৌদি আরব যেসব চরমপন্থি সংগঠনকে অর্থজোগান ও সমর্থন করে যাচ্ছে, তারা মূলত ইসলামকে প্রসারিত করছে ওহাবি ধারায়।

সম্প্রতি ব্রিটেনে যেসব জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে সিরিয়া ও লিবিয়ার চরমপন্থিদের মদদ। মার্ককার্টিস ডট ইনফো (markcurtis.info)-তে গত ৭ জুন এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো- ব্রিটেনে যত ধরনের দুর্নীতি হয় তার ৪০ শতাংশই দখল করে আছে অস্ত্র ব্যবসা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। মনে রাখতে হবে- ব্রিটেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অস্ত্র রফতানিকারী দেশ। সেই হিসেবে এই বিশ্বে ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রয়ের লেনদেন অত্যন্ত গভীর এবং লজ্জাজনক। এই ব্যাপারে আমি মনে করিয়ে দিতে পারি যে, লেবার পার্টির জেরেমি করবিন জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, অথচ নেলসন ম্যান্ডেলাকে টোরিস একজন সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, এমন কী ম্যান্ডেলার ফাঁসিও চেয়েছিলেন। এবারের ব্রিটেনের নির্বাচনী প্রচারণার যে মর্ম— তা প্রধানত টোরিস এবং অনেকটা ব্রিটেনের মিডিয়ার কল্যাণে অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। জেরেমি করবিন ও মিডিয়া বায়াস সংক্রান্ত ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটি আরো স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। যদিও শেষ অর্থে জেরেমি করবিন সর্বার্থে নির্ভুল নন নিশ্চয়ই। তিনিও, সর্বোপরি মানুষ তো।

নেলসন ম্যান্ডেলার অধীনে বেশ কয়েক বছর গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার ভেতর দিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি এক্ষেত্রে তার একটি পরামর্শ কখনোই ভুলব না। তিনি বলতেন— একজন রাজনীতিবিদকে সবসময় অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে, সবাইকে শ্রদ্ধা করতে হবে, ধৈর্য নিয়ে শুনতে হবে সবার কথা এবং কাজ করতে হবে আমাদের সমাজের সবচেয়ে গরিব এবং দুর্বল মানুষের জন্য। এই বোধ দরকার সকল রাজনীতিকের। নচেত্ তিনি সত্যিকার অর্থে দেশসেবা করবেন কী করে?

ইংরেজি থেকে অনুবাদ : এ. দত্ত

লেখক: আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সাবেক সদস্য এবং ‘দ্য শ্যাডো ওয়ার্ল্ড ইনসাইড দ্যা আর্মস ট্রেড’ গ্রন্থের রচয়িতা

 

 






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com