Monday, 18 November, 2019, 7:34 AM
Home জাতীয়
পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বয়ে যাক
ড. মিল্টন বিশ্বাস লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Monday, 5 June, 2017 at 12:00 AM, Update: 05.06.2017 5:21:47 PM, Count : 2

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আদর তঞ্চঙ্গ্যা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জ্বলছে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা!! অনিশ্চিত ভবিষ্যত... অনিশ্চিত আমাদের জীবন!! প্লিজ চোখ খুলুন, এগিয়ে আসুন...’ আদর আরো লিখেছেন, ‘আজ যেসব ফল আমরা ভোগ করছি স্বীকার করতে হবে সব নেতাদের ব্যর্থতার দায়। তাদের দুর্বল মানসিকতা, মাথা নত করা, দূরদর্শী চিন্তার অভাব, নেই একাগ্রতা, প্রতি পদক্ষেপে ব্যর্থতা, এসব কারণেই আজ আমরা বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্মুখীন। মোটকথা, গাছটাকে যেভাবে রোপণ করেছি বড় করেছি ফলও ঠিক সেভাবে পাচ্ছি।’ ২ জুন (২০১৭) রাঙামাটির লংগদুতে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল থেকে পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদর তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এভাবে। ওই মিছিল থেকে পাহাড়িদের শতাধিক বসতি ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার পর স্থানীয় পাহাড়িরা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন—এ দৃশ্যও আমরা ফেসবুকসূত্রে তাত্ক্ষণিকভাবে পেয়েছি। তবে আদর তঞ্চঙ্গ্যার ক্ষোভ শান্তি চুক্তির ফলাফল নিয়ে হলেও সেই চুক্তির নেতৃত্বে থাকা শেখ হাসিনার সদিচ্ছা যে এখনো তাত্পর্যবহ সেটা স্বীকার করতে হবে নির্দ্বিধায়। কারণ তাঁর শান্তি প্রচেষ্টায় পার্বত্য এলাকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। কারণ তিনি অনেক আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মঙ্গল চিন্তায় নিবেদিতপ্রাণ। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি, সহাবস্থানের রাজনীতি। শেখ হাসিনার রাজনীতি সুবুদ্ধি দিয়ে টিকে থাকার রাজনীতি। এদেশে হিংসা, বিদ্বেষের রাজনীতি, ধর্মের রাজনীতির বীজ বপন করে গেছেন সামরিক শাসকরা।

যুবলীগের নেতার হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু সেই ঘটনার জন্য সকল পাহাড়িকে দগ্ধ করার কোনো অধিকার কারো নেই। তিনটিলা এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিশংকর চাকমা বলেছেন, ‘আমাদের পাড়ার একটি ঘরও অবশিষ্ট নেই। দুই শতাধিক বাড়িঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে তো আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, আমরা তো কিছুই জানি না। তবুও কেন আমাদের বাড়িঘর আগুনে পোড়ানো হলো, জানি না।’ রাজনৈতিক সহিংসতার কথা মাথায় রেখেও বলা চলে সহজ-সরল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আমাদের বিবেচনা বোধকে আরো তীক্ষ করতে হবে। বুঝতে হবে সেখানকার কৃষিনির্ভর মানুষগুলো নিজদেশে যেন পরবাসীর মতো বসবাস না করে। তারা যেন আমাদের বিশ্বাস করে। এজন্য দরকার শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন; পার্বত্য সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর। সেসময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তত্কালীন সামরিক জান্তা ওই এলাকায় স্থায়ী বসবাসের জন্য অন্যান্য স্থান থেকে মানুষ স্থানান্তর করেন। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল অগ্রহণযোগ্য। তত্কালীন সরকারি প্রশাসন সমতল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙা ভূমিহীন, দিনমজুর, অসহায় দুস্থ পরিবারগুলোকে এনে সরকারি খাস ভূমিতে পুনর্বাসন করে। এই পুনর্বাসনের কয়েক বছর যেতে না যেতেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। হামলার শিকার হয় পুর্নবাসিত বাঙালিরা। পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তার অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত। নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দেশ-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক বান্দরবানের নীলগিরিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের যেসব স্পটে ছুটে যান তার পুরো অবদানটাই সেনাবাহিনীর। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও রাস্তা নির্মাণ না করা হলে রাত্রিযাপন করে নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা দূরের কথা, সেখানে কেউ যাওয়ার কল্পনাও করতেন না। বর্তমানে অপহরণ একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

শেখ হাসিনার সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বদা সচেষ্ট। সেই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের কোনো অগণতান্ত্রিক ও জনবিরোধী উদ্যোগ নেই। গত মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েছেন। ভূমি কমিশন গঠন ও ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল ২০১০’ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সমপ্রদায়ের ধারণা সবাই মেনে নিয়েছে। মূলত পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের সব নাগরিকের কাছে প্রিয় এলাকা। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী যদি সমতলের বাঙালিদের সন্দেহের চোখে দেখে এবং অনুপ্রবেশকারী মনে করে, অন্যদিকে বাঙালিরা পাহাড়িদের হেয় প্রতিপন্ন করতে তত্পর হয় তাহলে তা হবে দেশের শান্তি প্রচেষ্টার জন্য আত্মঘাতী। এ জন্য বর্তমান সরকারের শান্তি প্রচেষ্টায় আস্থা রাখা পার্বত্য এলাকার উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর।

লেখক :অধ্যাপক, এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

email : [email protected]





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]