Sunday, 19 November, 2017, 3:06 AM
Home জাতীয়
কৃষি বাজেট প্রত্যাশা পূরণ করেনি
নাজিব মুবিন লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Monday, 5 June, 2017 at 12:00 AM, Update: 05.06.2017 3:05:21 PM, Count : 1

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে কৃষিখাতের উপর। তাই এদেশের বাজেটে প্রাধান্য দিতে হবে কৃষি খাতকে। দেশের মানুষের দারিদ্র্য মোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য একটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট সবসময়ই আমাদের কাম্য। বর্তমান সরকারের আমলে বাজেটের আকার বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি কৃষি বাজেট। আসলে প্রশ্নটা বাজেটের আকার নিয়ে যতটা না, তার থেকে বেশি হওয়া উচিত তার গতি-প্রকৃতি নিয়ে। শুধু বরাদ্দের দিকে নয়, নজর দেওয়া দরকার তার গুণগত মানের দিকে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৩ হাজার ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতে ১১ হাজার ৮শ ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩শ ৭৮ কোটি টাকা। ২০১০-১১ থেকে ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ মোট বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে, সার্বিক কৃষি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। শস্য খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল কম। উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন উভয় খাতেই তা দৃশ্যমান। প্রবৃদ্ধি কমে সর্বশেষ ১ দশমিক ২৮ শতাংশতে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কৃষির উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া কৃষকদের ক্ষতির বড় কারণ। ফলে কৃষি কাজে উত্সাহ হারাচ্ছে কৃষক। এ অবস্থায় কৃষকরা তাদের হালের জমির কিয়দংশ পতিত রাখছে অথবা অন্য কাজে ব্যবহার করছে। কৃষিতে উন্নত দেশের কৃষকরা বিভিন্ন শস্যের যে গড় ফলন পেয়ে থাকেন, বাংলাদেশের কৃষকদের অর্জিত ফলন তার অনেক নিচে। এ অবস্থায় কৃষি উত্পাদনে তাদের উত্সাহ ধরে রাখার জন্য কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে।

আশার বিষয় হচ্ছে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কৃষি বাজেটে যেসব কর্মসূচি সম্পাদন বা বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল প্রোগ্রাম ফেজ-২, কৃষি গবেষণা, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প ও কর্মসূচি, উন্নতমানের বীজ উত্পাদন, বিতরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় উন্নত ফসলের জাত ও বীজ উত্পাদন। এছাড়াও রয়েছে নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ, দুস্থ কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহসহ বিভিন্ন সহায়তা, নারীদের জন্য পৃথক কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা,  মাঠ পর্যায়ে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন এবং কৃষির ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য বাজারজাতকরণ কর্মসূচিও। কিন্তু সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের বাজেটে এর প্রতিফলন নেই যা বাজেটের আওতাভুক্ত হওয়া জরুরি ছিল। যেমন দুর্যোগে ফসলহানির পর কৃষক যাতে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সে জন্য শস্যবীমা বাস্তবায়ন করা, সব অনাবাদি কৃষি জমি তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে সহজ শর্তে উপযুক্ত ভাড়া বা হস্তান্তরের মাধ্যমে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা, কৃষিতে উদ্যোক্তার সঙ্গে কৃষকের অংশীদারিত্বের ব্যাপারে শক্তিশালী নীতিমালা গড়ে তোলা, কৃষককে বাঁচাতে এবং কৃষিপ্যণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জাতীয় কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠন করা, প্রান্তিক কৃষকদের পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান, রাসায়নিক সার আমদানির পাশাপাশি জৈবসার উত্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা, সেচে বিদ্যুত্ ও ডিজেলে ভর্তুকি বাড়ানোসহ তৃণমূল পর্যায়ের কৃষক যাতে সে সুবিধা ভোগ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা তৈরি, পোল্ট্রিতে বাচ্চা ও খাবারের দাম কমানো, মাছ চাষে ভূমি উন্নয়ন কর কমানো, অতিরিক্ত ফসল সংরক্ষণে হিমাগার তৈরি করা, উপকূলের বাঁধ সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণ করা, এবং সর্বোপরি কৃষি বাজেট যদি আলাদাভাবে পেশ করা হয় তাহলে কৃষির সঙ্গে কৃষির উপখাতগুলোও অধিক বিবেচনায় আসবে।

জাতীয় বাজেটে আরো লক্ষ রাখা উচিত যাতে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে এবং পরবর্তী ২০ বছরে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ২০৩০ সাল নাগাদ সব মানুষের জন্য খাদ্য ও পুষ্টির স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিতসহ দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য একটি সমন্বিত কৃষিনীতি ও বিনিয়োগ নীতিমালা থাকা দরকার। এ বিষয়ে সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। আর আমাদের জাতীয় বাজেটেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত।

লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com