Friday, 24 November, 2017, 11:16 AM
Home জাতীয়
কেমন হবে আগামী জাতীয় বাজেট?
ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ লিকেছেন সমকালে
Published : Wednesday, 31 May, 2017 at 3:01 PM, Update: 31.05.2017 3:33:00 PM, Count : 1
বাজেট সাধারণ অর্থে আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণীকে বোঝানো হয়ে থাকে। বাজেট যেমনই হোক তাকে সে ছাঁচে ফেলেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বাজেট কোনো abstract বা বিমূর্ত বিষয় নয়। টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-রোজগার, আমদানি-রফতানি, উৎপাদন, ভোগ-ব্যয় ইত্যাদির সঙ্গে জাতীয় বাজেট সম্পর্কিত। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম_ Cut your coat according to your cloths.Õ' অর্থাৎ আয় বুঝে ব্যয় কর_ এই হচ্ছে প্রবাদের মর্মার্থ। এ ছাড়া অন্য প্রবাদও প্রচলন আছে_ যেমন গুড়, তেমন মিষ্টি। আবার যেমন কর্ম, তেমন ফল ইত্যাদি। উলি্লখিত প্রতিটি প্রবাদের সঙ্গে বাজেটের একটি সুড়সুড়ি ঘ্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। প্রচলিত বাজেট থেকে গত কয়েক বছরের বাজেটে অনেকটাই ভিন্নতা আছে। আর এই ভিন্নতার কারণ হচ্ছে সফল জাতীয় নেতৃত্ব, ইতিবাচক মানসিকতা, সদিচ্ছা, সততা ও আন্তরিকতা।
লাগামহীন ও দায়সারা বাজেট ব্যবস্থাপনা, বাজেটের অনিয়ন্ত্রিত ও বল্গাহীন আচরণ বাজেটকে একটা ঠুনকো বিষয়ে পরিণত করতে পারে। কাজেই বাজেট যদিও Statement of Income & Expenditure তথাপিও এর অনুশীলন, পরিশীলন ও যত্নের বিষয়ে যদি কোনো গাঁটছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়, সে ক্ষেত্রে বাজেটের অনাসৃষ্টি হবে। বাজেট একটা বেলুন বা ফানুসে পরিণত হতে পারে। বাজেটের অন্তর্নিহিত শক্তিকে অনুধাবন করে এগোতে হবে। তার দর্শনতত্ত্ব ও তথ্যপ্রযুক্তিগত দিককে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার বিষয় আছে। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বড় অঙ্কের বাজেট দিয়ে বা বাজেটে অতি উচ্চাভিলাষী কোনো ভাবধারাকে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে অথবা আলাদিনের চেরাগের মতো কোনো জাদুকরী ছোঁয়ায় কোনো প্রকল্পের ফাঁদ তৈরি করে সাধারণ জনগণকে প্রতারিত করার অধিকার কারও নেই। কেননা জনগণই হচ্ছে সব ক্ষমতার উৎস ও কেন্দ্রবিন্দু। কাজেই জনগণের ক্ষুদ্র ইউনিট যেমন কোনো ব্যক্তিকে পরিবার ও সংসার পরিচালনায় কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে উপার্জিত আয়ের ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচাদিকে বিবেচনায় রেখে সারা বছরের বাজেট পরিকল্পনা করতে হয়। এ বাজেট চিত্র একটি পরিকল্পিত হিসাবচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তারই প্রতিফলন কিন্তু আমাদের জাতীয় বাজেটেও ঘটে থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র তার কাঙ্ক্ষিত চিত্রের বা রোডম্যাপের সীমানা অতিক্রম করেন, তাহলে তাকে সম্পদ নষ্ট করতে হবে, ঋণ করতে হবে, ধারদেনা করতে হবে। এতে ঋণের বোঝা দিনের পর দিন ক্রমাগত বেড়েই যাবে। একদিন তিনি দেউলিয়া হয়ে উঠবেন। কাজেই সর্বসাধারণের যদি এই চিত্র হয়, তবে জাতীয় বাজেটের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু হতে পারে, তা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, প্রতিবছরের মতো এই অর্থবছরেও আগের বছরের তুলনায় বাজেটের আকার বাড়বে। অনেক খাতেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে। বয়স বাড়ার মতোই অর্থনীতির আকার বাড়ছে; সুতরাং বাজেটের অঙ্কও বাড়বে এটা স্বাভাবিক। তাই আগের বছরের তুলনায় বড় বলে বাজেট যেমন বিরাট সাফল্যের স্মারক নয়, তেমনি তাকে অস্বাভাবিক বা উচ্চাভিলাষী বলার কিছু নেই। সরকারি দলিলপত্রে অর্থনীতির আকার যতটুকু দেখানো হয়, বাস্তবে অর্থনীতি আরও বড়। কেননা, দেশে হিসাব-বহির্ভূত অর্থনৈতিক তৎপরতা বহুবিধ। গৃহশ্রম, শিশুশ্রম, মজুরিবিহীন শ্রম থেকে অর্থনীতিতে যা যোগ হয় তা হিসাবের আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো সবাই সচেষ্ট আছে। আসলে প্রশ্নটা বাজেটের আকার নিয়ে যতটা না, তার থেকে বেশি হওয়া উচিত তার গতি-প্রকৃতি নিয়ে। শুধু বরাদ্দের দিকে নয়, নজর দেওয়া দরকার তার গুণগত মানের দিকে।
উল্লেখ্য, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জিডিপির প্রবৃদ্ধির অন্যতম শর্ত, যা নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। শিল্প খাতে গত বছর যা প্রবৃদ্ধি ছিল তা বর্তমান বছরে কম হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার প্রধান কারণগুলো হলো_ প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, অবকাঠামো অপ্রতুল, অনুন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, সীমিত ও সংকোচনমূলক বাজার, শিল্পোদ্যোক্তাদের অনীহা ইত্যাদি।
অন্যদিকে গত পাঁচ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে সর্বশেষ ১.২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; অথচ এই সময়টাতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ কৃষি খাতকে প্রভাবিত করেনি। এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়া, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক পরিবার, ভর্তুকির সুষ্ঠু বিতরণ ও ব্যবহার, দক্ষতার অভাব, গবেষণায় গবেষকদের অনীহা, এডিপিভুক্ত কৃষি প্রকল্প বাস্তবায়নে মানব সম্পদের অপ্রতুলতা, কৃষিপণ্য বিপণনের অসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা ইত্যাদি। বিষয়টি এখানে শেষ নয়, যাতে দেখা যায় সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি যেখানে গত বছর ছিল ৫.৭ শতাংশ, যা কমে ৫.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে মূল্যস্টম্ফীতি কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হয়নি এবং যা হয়েছে তাহলো, মূল্যস্টম্ফীতির হার প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি, যা বর্তমানে ৭.৬ শতাংশে রয়েছে। আবার খাদ্য মূল্যস্টম্ফীতির হার প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি চলে এসেছে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়।
জাতীয় বাজেট কোনো খেলনা নয় বা কোনো ভোগবিলাসের বস্তু নয় বা কোনো প্রসাধনী সামগ্রীও নয়। সর্বোপরি তা কোনো উপহাস্য বা করুণার জিনিসও নয়। জনগণের প্রাপ্তি, জনগণের প্রত্যাশা, জনগণের চাহিদা যদি বাজেটে প্রতিফলন থাকে, তবে নিশ্চিত তা হবে আসল বাজেট। আর তা না হলে বাজেট গুরুত্বহীন ও তাৎপর্যহীন বলেই প্রতীয়মান হবে। এই গুরুত্বহীন বাজেটে গরিব আর ধনীর সম্পদের ব্যবধান বাড়বে, সম্পদের বৈষম্য বাড়বে, মুদ্রাস্টম্ফীতি বাড়বে, জাতীয় প্রবৃদ্ধি হার কমবে। মানুষের মৌলিক চাহিদা, যেমন_ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার অভাব ঘটবে। বাজেট হবে ঘাটতিময়। আর তাতে চাহিদা সংকুলানের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হবে। ঋণের বোঝা বাড়বে। দেশ সংকটে পতিত হবে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে রাষ্ট্র ও জনগণ। তাই এ বাজেট হোক জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব, শিক্ষাবান্ধব ও মানবতাবান্ধব। এই হোক আমাদের সবার প্রত্যাশা।
উপমহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপি (পিআরএল) আনসার-ভিডিপি একাডেমি, সফীপুর, গাজীপুর







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com