Friday, 19 January, 2018, 7:25 PM
Home জাতীয়
সব উন্নয়ন ঢাকায় কেন?
ফাহিম আহমেদ লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Wednesday, 31 May, 2017 at 2:48 PM, Count : 0
পৃথিবীর কোনো শহরের জনসংখ্যা ১ কোটি অতিক্রম করলে তাকে মেগাসিটি আখ্যা দেয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৩৭টি মেগাসিটির মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২১তম। তবে মেগাসিটি হওয়ার এ যোগ্যতা ঢাকা ১৯৮০ সালেই অর্জন করে। ২০১৬ সালে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) করা বসবাস উপযুক্ততার সূচকে ১৪০টি দেশের শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৯তম (১৪০তম সিরিয়ার দামেস্ক)। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জনসংখ্যার অত্যধিক চাপ ঢাকাকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ঢাকাকে ঘিরে শাসন ও উন্নয়ন কেন্দ্রীভূত করার একটি প্রবণতা সেই পাকিস্তান আমল থেকেই লক্ষণীয় ছিল যা স্বাধীন বাংলাদেশেও চলমান থাকে। আর এ প্রবণতার ফলে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয়, দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রভৃতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষদের ঢাকামুখী করছে।

প্রচলিত আছে যে বাংলাদেশের সবচেয়ে শিক্ষিত লোকের বাস বরিশালে হলেও সবচেয়ে ধনী লোকের বাস ঢাকায়। এর মূল কারণ দেশের সকল অঞ্চলের শিক্ষিত ও মেধাবী মানুষের ঢাকার প্রতি আকর্ষণ। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘খাগড়াছড়ি/ বান্দরবান ট্রান্সফার’ তাই আতঙ্কের মতো শোনায় যদিও ঢাকার চেয়ে এ দুটি জেলা বসবাসের জন্য যোগ্যতর। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীও জীবিকার তাগিদে ঢাকার প্রতি আকৃষ্ট। ফসলের বীজ বপণ এবং সে ফসল ঘরে তোলার মধ্যবর্তী লম্বা অবসর সময়টিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কৃষক আয়ের আশায় ঢাকা চলে আসে। আর নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে ভিটে-মাটি বিক্রি করে বহু কৃষক আবার স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসেন বেঁচে থাকার তাগিদে।

ঢাকায় এমন বহু দিনমজুর আছে যারা একসময় নিজ গ্রামে জমির মালিক ছিলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নত জীবনের আশায় ঢাকাগামী এ মানুষগুলো সবচেয়ে মর্মান্তিক বাস্তবতার সম্মুখীন হয় প্রতিবছর দুই ঈদে ঘরে ফেরার সময়। বছরের এ সময়ে সড়ক ও নৌপথে দূর্ঘটনার মাত্রা বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পায় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী মানুষের এ স্রোতকে উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সারাদেশে সম্প্রসারণের বদলে আমাদের প্রশাসন ঢাকাকে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এসব পরিকল্পনা ঢাকাগামী মানুষের স্রোতকে ক্রমেই বৃদ্ধি করে এ নগরীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।

অথচ একসময় ঢাকা একটি সুন্দর শহর ছিল। মোগলদের প্রাদেশিক রাজধানী প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পর ১৬৪০ সালে পর্তুগিজ পর্যটক সেবাস্টিয়ান মানরিকের ভ্রমণবৃত্তান্তে পাওয়া যায় এক মনোরম ঢাকার বর্ণনা। ১৬৬৬ ও ১৬৭০ সালে ঢাকা আসেন যথাক্রমে ফরাসি পর্যটক টার্ভানিয়ার ও টমাস বাউরি। তাদের বর্ণনায় একটি শান্ত ও নির্মল ঢাকার বর্ণনা পাওয়া যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পূর্বে ঢাকা ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রাদেশিক রাজধানী। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পত্তন হয় এক নতুন ঢাকার।

কিন্তু বর্তমান সময়ে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন ঢাকার জন্য পরিবেশ দূষণ, বেকারত্ব, মৌলিক সেবার দুষ্প্রাপ্যতা, অপরাধ প্রবণতা, দারিদ্র্য ও জনসংখ্যার চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত করছে দেশের সুষম ও টেকসই উন্নয়নের যাত্রা। কিন্তু ঢাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা প্রভাবিত করাও অযৌক্তিক। আর তাই পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার দার্শনিক ও কাঠামোগত দিকে। সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নির্ধারণ করতে হবে উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য যার কেন্দ্রে থাকবে নাগরিকবান্ধব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা যা শুধু ঢাকা নয়, অন্তর্ভুক্ত করবে সমগ্র বাংলাদেশকে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com