Saturday, 24 June, 2017, 2:43 PM
Home আন্তর্জাতিক
ভারতে রাষ্ট্রপতি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ
গৌতম হোড়, নয়াদিল্লি থেকে লিখেছেন এই সময়-এ
Published : Monday, 29 May, 2017 at 7:21 PM, Count : 0

এক পক্ষকালের মধ্যে দু’বার বিরোধী ঐক্যের ছবিটা দেশের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন সনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্ট্যালিনরা৷ আগামী ২৫ তারিখ দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলির বৈঠক হওয়ার কথা৷ সেই বৈঠকের উদ্যোক্তা যুগ্মভাবে সনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

বেশ কিছু নেতাকে সনিয়া ডাকছেন৷ আবার মায়াবতী, কেজরিওয়ালের মতো এমন কিছু নেতা আছেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁদের তৃণমূল নেত্রীও আমন্ত্রণ জানাবেন৷ আর বিরোধী ঐক্যের দ্বিতীয় ঘটনাটা ঘটবে চেন্নাইয়ে আগামী ৩ জুন৷ করুণানিধির ৯৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ডিএমকে -র উদ্যোগে বড় করে জনসভা হবে৷ সেখানে কংগ্রেস -সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন করুণানিধি -পুত্র এম কে স্ট্যালিন৷ তৃণমূল নেত্রীর কাছেও আমন্ত্রণ গিয়েছে৷ তিনি সম্ভবত যাবেন না৷ তবে প্রতিনিধি হিসেবে কোনও নেতাকে চেন্নাই পাঠাবেন৷ বিরোধী ঐক্যের তৃতীয় বড় প্রয়াসটা হবে অগস্টে৷ লালুপ্রসাদ যাদবের উদ্যোগে পাটনায় বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে জনসভার মধ্য দিয়ে৷ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং লালু-কন্যা মিসা ভারতীর বাড়িতে সিবিআই হানার পর কংগ্রেসের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল , বিরোধী ঐক্য ভাঙার জন্যই এ ভাবে সিবিআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে৷

সেই বিরোধী ঐক্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া সনিয়া , মমতা -সহ বিরোধী নেত্রী , নেতারা৷ এর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল , বিরোধী ঐক্যের ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধীর ভূমিকা সীমাবদ্ধ৷ উদ্যোগটা সনিয়াকেই নিতে হচ্ছে৷ কারণ , রাহুল এখনও নেতৃত্বের সেই পর্যায়ে উঠতে পারেননি , যেখানে অন্য দলের প্রবীণ নেতারা তাঁকে মেনে নেবেন৷ তাই কংগ্রেসের ভরসা সনিয়া গান্ধী৷ তবে ২৫ তরিখের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে , সনিয়া -মমতা বৈঠকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল৷ সেখানেই ঠিক হয় , কী ভাবে এগোনো হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী দশ জনপথ থেকে বেরিয়ে এসে জানিয়েছিলেন , সাত বা দশ দিনের মধ্যেই আবার বৈঠক হবে৷ তিনি আবার দিল্লি আসবেন৷ এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে , আগামী ২৪ মে তিনি দিল্লি আসবেন৷ তারপর বৈঠক করে ২৬ তারিখ আবার কলকাতা ফিরবেন৷ দুটি বৈঠকই বিরোধী ঐক্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দিল্লির বৈঠকটা হল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী ঠিক করতে৷ এত দিন সনিয়া আলাদাভাবে বিরোধী নেতা -নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ এ বার সকলে মিলে বৈঠক করার কথা৷ সেটা হলে ঐক্যের বার্তাটা জোরালো ভাবে দেওয়া সম্ভব৷ এখানে কংগ্রেস , তৃণমূল ছাড়াও বাম , জেডিইউ , সমাজবাদী , বিএসপি , এনসিপি , ডিএমকে -র মতো দলগুলির যোগ দেওয়ার কথা৷ এমনকি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ -ও থাকতে পারে৷ নবীন পট্টনায়েক বা তাঁর কোনও প্রতিনিধিরও বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের দেওয়া প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা খুবই কম৷ কিন্ত্ত নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি -র বিরুদ্ধে তাঁরা যে একজোট হয়ে প্রার্থী দিতে পারলে সেটাই বড় কথা হবে৷ ডিএমকে নেতা করুণানিধির ৯৫ বছর পূর্তি হবে আগামী ৩ জুন৷ সেই উপলক্ষে ডিএমকে চেন্নাইয়ে জনসভা করবে৷ এখানে মূল উদ্যোগটা নিয়েছেন স্ট্যালিন৷ তাঁর ডাকেও বিরোধী দলের নেতারা চেন্নাই যাবেন৷ এখানে নেতা হিসাবে স্ট্যালিনের স্বীকৃতি যেমন হবে , তার থেকেও বড় বিষয় হবে বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া৷ কারণ , তাঁরা মনে করছেন ২০১৯ -এ বিরোধী মহাজোট না হলে নরেন্দ্র মোদীকে কোনওভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়৷ মহাজোট হলেও ঠেকানো যাবে কি না , সেটা অন্য প্রশ্ন, কিন্ত্ত প্রধান বিরোধী দলগুলি হাতে হাত মিলিয়ে লড়লে ভালো ফল করার আশা তাঁরা করতেই পারে৷ কারণ , তখন মোদী বা বিজেপি -বিরোধী ভোট ভাগ হবে না৷ বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি যে জিতছে , তার অন্যতম কারণ হল , বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া৷ তাই সেই ভাগ হওয়া ঠেকিয়ে সনিয়া , মমতা , নীতীশ কুমাররা মোদীকে ঠেকাতে চাইছেন৷ সেই নিরিখে এই দুই সভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com