Saturday, 24 June, 2017, 2:41 PM
Home আন্তর্জাতিক
বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ, এরপর কী?
আলী রীয়াজ লিখেছেন প্রথম আলোতে
Published : Saturday, 20 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 20.05.2017 7:20:51 PM, Count : 1
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার দলের কোনো যোগসাজশ ছিল কি না তা তদন্তের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে সাবেক এফবিআইয়ের প্রধান রবার্ট মুলারের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এই অভিযোগের গুরুত্বকে প্রমাণ করল। আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টাইন বুধবার এই নিয়োগের ঘোষণার সময় বলেছেন যে এই নিয়োগের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা কোনো রকম বিচারের দরকার আছে, কিন্তু এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই যে এখন সেই ধরনের আশঙ্কাকে একেবারে নাকচ করে দেওয়া যাবে না।
যদিও রবার্ট মুলারকে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয় এবং তাঁকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, তথাপি প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বিশেষ কৌঁসুলি স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবেন, তাঁর হাতে থাকবে প্রায় অসীম ক্ষমতা। বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের দাবি যাঁরা করছিলেন, বিশেষত ডেমোক্র্যাটরা, তাঁরা আপাতত আনন্দিত। এই ধরনের বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের ঘটনা কেবল ব্যতিক্রমীই নয়, তা প্রেসিডেন্টদের জন্য সাধারণত সুখবর বয়ে আনে না। তবে তা যে সব সময় তাঁদের ক্ষমতার বা রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটায়, তাও না। রাশিয়া এবং ট্রাম্প প্রচারণা দলের মধ্যে যোগসাজশ তদন্তে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো কী, সেটা বুঝতে চাইলে আমাদের শুরু করতে হবে কেন এই বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের দরকার হলো।
যাঁরা কয়েক দিন ধরে মার্কিন রাজনীতির খবরাখবর রেখেছেন, তাঁদের কাছে মনে হতে পারে যে গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ বা বক্তব্যই এই নিয়োগের কারণ। কেননা তাঁরা জানেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ করেই এফবিআইয়ের প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেছেন। তারপরে জানা গেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের চলমান তদন্ত বিষয়ে কোমিকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা বিচারকাজে বাধা প্রদান বলে বিবেচিত হতে পারে। এগুলো হচ্ছে গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহের সাম্প্রতিক অধ্যায়, কিন্তু সূচনা আরও আগে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকেই এই অভিযোগ ওঠে যে রাশিয়া নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে; এই বিষয়ে তদন্তের দাবিও ওঠে। প্রার্থী হিসেবে রাশিয়া বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য, ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা এবং পুতিনের একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ এই সন্দেহের উৎস। রাশিয়ার এই চেষ্টার সঙ্গে প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা দলের কেউ কেউ যুক্ত ছিলেন বলেও বলা হয়। এই নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ও সমর্থকেরাই যে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তা নয়, রিপাবলিকান পার্টির অনেক আইনপ্রণেতাও তাতে কণ্ঠ মেলান। রিপাবলিকানদের বক্তব্য ছিল রাশিয়া প্রভাব বিস্তার করেছে বলে তাঁরা মনে করেন, যা তাঁরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেন; তবে তাঁরা এও বলেন যে তার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচার দলের কেউ জড়িত ছিলেন, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারণেই ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছেন এটা মানতে তাঁরা নারাজ।
এই নিয়ে জোর তদন্তের দাবি অব্যাহত থাকে এবং সেই দাবির মুখে কয়েক মাস আগে প্রতিনিধি সভা বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে এবং সিনেটে দুটি আলাদা তদন্ত শুরু করে। নির্বাচনের অব্যবহিত আগেই জানা গিয়েছিল যে গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ট্রাম্পের নির্বাচনী দলের সদস্য কারও কারও বিষয়ে তদন্ত করছে যে তাঁদের রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না। যাঁদের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয় সেই তালিকা খুব ছোট নয়, একসময় প্রচার দলের চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট, প্রার্থী ট্রাম্পের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কার্টার পেজ, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি রজার স্টোন, সহযোগী জেডি গর্ডনসহ অনেকেই আছেন এই তালিকায়। গত কয়েক মাসে এটা আরও স্পষ্টভাবেই জানা যায় যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী নির্বাচনের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে একাধিকবার কথাবার্তাও হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরে বলা হয় যে এফবিআই বেশ জোরেশোরেই এই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
ইতিমধ্যে নভেম্বরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক জেনারেল মাইকেল ফ্লিনকে নিয়োগ দেন। জেনারেল ফ্লিন আগে ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির প্রধান ছিলেন, ২০১৪ সালে ওবামা প্রশাসন তাঁকে বরখাস্ত করে। জেনারেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশিয়ার প্রকাশ্য যোগাযোগের বিষয়ে সবাই অবহিত ছিলেন, কিন্তু তিনি যে নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে দেখা করে রাশিয়ার ওপরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেছেন সেটা জানা যায় তাঁর নিয়োগের পর। মাইকেল ফ্লিন এসব অস্বীকার করেন এবং বলেন এসব আলোচনার কথা তাঁর মনে নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং অন্যরা তাঁর এই কথাকে সত্য মেনে নিয়ে দাবি করেন যে ফ্লিনের এই ধরনের কোনো যোগাযোগ নেই বা এই রকম কথাবার্তা হয়নি। প্রশ্ন ওঠে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেটর জেফ সেশনের যোগাযোগেরও, যে কারণে তাঁকে রাশিয়াবিষয়ক যেকোনো ধরনের তদন্তের কাজ থেকে সরে থাকার ঘোষণা দিতে হয়।
এসব ঘটনার মধ্যেই জানুয়ারি মাসে এফবিআই তদন্তের অংশ হিসেবেই হোয়াইট হাউসে মাইকেল ফ্লিনের সাক্ষাৎকার নেয় এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস হোয়াইট হাউসের আইনজীবীর সঙ্গে দুই দফা দেখা করে জানান যে জেনারেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের প্রমাণ আছে। যদিও এসব সাক্ষাতের কথা গণমাধ্যমে তখনই প্রকাশিত হয়নি, কিন্তু অকস্মাৎ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটসকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলা হয় যে সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যাতায়াতের ওপরে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশবিষয়ক মামলায় সরকারের পক্ষে না দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হলো। কিন্তু বরখাস্তের পরে মনে হতে থাকে সেটা অজুহাতমাত্র। কেননা, কংগ্রেসের তদন্তের অংশ হিসেবে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে ইয়েটস জানান যে তিনি এবং তাঁর অফিস ফ্লিনের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসকে অবগত করেছে জানুয়ারি মাসেই। অথচ সময়ের হিসাবে দেখা গেল যে হোয়াইট হাউস এসব জানার পরও জেনারেল ফ্লিনকে তাঁর দায়িত্বে রেখেছিল প্রায় ২০ দিন। ফ্লিনের অপসারণের সময়েও হোয়াইট হাউস বলেনি যে রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এই সিদ্ধান্তের কারণ। ইয়েটসের দেওয়া সতর্কবাণীকে হোয়াইট হাউস ছোট করেই দেখাতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে এফবিআইপ্রধান জেমস কোমি কংগ্রেসের একটি কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য—যেমন ওবামা প্রশাসন ট্রাম্পের অফিসে আড়ি পেতেছিল—বিষয়ে সুস্পষ্টভাবেই বলেন যে এগুলোর কোনো সত্যতা নেই। কোমিকে যখন আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন করেন যে রাশিয়াবিষয়ক তদন্তের তালিকায় ট্রাম্প আছেন কি না; কোমি সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হলেও তিনি এর নেতিবাচক উত্তর দেননি। ফলে বোঝা যাচ্ছিল যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কোমি কোনো ভালো খবর নয়।
এসব ঘটনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯ মে বিকেলবেলা এফবিআইপ্রধান কোমিকে বরখাস্ত করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয় যে হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইলবিষয়ক তদন্তে গাফিলতিই কোমিকে বরখাস্তের কারণ। কোমির যেসব আচরণকে এই বরখাস্তের কারণ বলে বলা হয়, সেগুলো প্রার্থী এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প প্রশংসা করেছিলেন। ফলে কারণ যে তা নয় সেটা বুঝতে কারোরই বেগ পেতে হয়নি, যদিও প্রেসিডেন্ট দাবি করছিলেন নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নিয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য এমনকি সিনিয়র রিপাবলিকান নেতাদের কাছেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
কিন্তু সেই গল্পের অবসান হয় যখন প্রেসিডেন্ট নিজেই এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পরামর্শ না দিলেও তিনি কোমিকে বরখাস্ত করতেন। এসব সাক্ষাৎকার, বরখাস্তের চিঠির সূত্রে এও জানা যায় যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তিনবার কোমির সঙ্গে বৈঠক করেছেন; এর একটি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট কোমির কাছ থেকে আনুগত্যও চেয়েছিলেন। কোমিকে বরখাস্তের পরদিন জানা যায় যে এফবিআই চলমান তদন্তের জন্য আরও রিসোর্সের অনুরোধ করেছিল। কোমিকে বরখাস্তের পরদিন হোয়াইট হাউসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং রুশ রাষ্ট্রদূত দেখা করতে গেলে ট্রাম্প তাঁদের কাছে রাষ্ট্রীয় কিছু গোয়েন্দা তথ্য বলে ফেলেন বলেও খবর বেরোয়, যা প্রেসিডেন্ট বা তাঁর সহকারীরা অস্বীকার করেননি এবং যা অনেকেই রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় খবরটি জানা যায় মঙ্গলবার যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের পর জেমস কোমি যে নোট তৈরি করেছিলেন তাতে বলা হচ্ছে যে ট্রাম্প এফবিআইপ্রধানকে এমন ইঙ্গিত দেন যেন ফ্লিনের ব্যাপারে তদন্ত না করা হয়। এতে করেই প্রশ্ন ওঠে যদি কোমির এই নোট সঠিক হয়ে থাকে তবে তা বিচারে বাধাদান বলেই বিবেচিত হবে। এই অবস্থায় কেবল ডেমোক্র্যাটরাই নন, আইন ও সংবিধান বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকেরা এই মত দেন যে একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের ইতিবাচক দিক কী? প্রথম ও প্রধান দিক হচ্ছে এই যে বিশেষ কৌঁসুলি স্বাধীনভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে পারবেন। অতীতে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের আমলে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি, প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের সময় ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি, ক্লিনটনের আমলে মনিকা লিউনস্কি কেলেঙ্কারির সময় দেখা গেছে বিশেষ কৌঁসুলিরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবেই তদন্ত করতে পারেন এবং তাতে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে, যা অন্যথায় বের করা সম্ভব হতো না। কিন্তু ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন তদন্তে নিযুক্ত কৌঁসুলিরা যতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন, ওই আইন আর বহাল না থাকায় এখন কৌঁসুলিরা তার চেয়ে কম স্বাধীনতা ভোগ করেন। তদুপরি প্রেসিডেন্ট চাইলে বিশেষ কৌঁসুলিকে বরখাস্ত করতে পারবেন, যদিও তার প্রতিক্রিয়া হবে মারাত্মক। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে মুলার তাঁর ওপরে দায়িত্ব কীভাবে পালন করেন, তিনি কোন কোন বিষয়ে মনোযোগ দেন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না।
কিন্তু এই প্রক্রিয়ার একটা নেতিবাচক দিকও আছে। এই ধরনের বিশেষ কৌঁসুলির করা তদন্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের দরকার হয়। ইতিমধ্যে কংগ্রেসে যেসব তদন্ত হচ্ছে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে কি না, সেটাও দেখার বিষয়। রিপাবলিকানরা নিশ্চয় চাইবেন যে এগুলো শ্লথ হোক এবং তাঁরা তাঁদের অন্যান্য অ্যাজেন্ডা—যেমন ওবামা কেয়ার বাতিল এবং কর আইনের সংশোধন—বাস্তবায়নের কাজে ফিরে যেতে পারেন।
রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের জন্য এটা মোটেই ইতিবাচক নয় যে রাশিয়া প্রসঙ্গ এখন প্রতিদিনের আলোচনা হিসেবেই চলতে থাকবে; কিন্তু যদি এই তদন্তের ফলে এমন কোনো তথ্য না পাওয়া যায়, যাতে প্রমাণিত হয় যে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কোনো আইন ভঙ্গ করেছেন, তবে তা তাঁর জন্য শাপে বর হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এই বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সহযোগীদের যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়টি কার্যত দ্বিতীয় ধাপে উত্তীর্ণ হলো।

আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
 





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com