Thursday, 21 September, 2017, 6:05 PM
Home আন্তর্জাতিক
ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংকটে বিরোধীরা
অমিত বসু লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Thursday, 18 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.05.2017 7:58:42 PM, Count : 2

আট মাস আগে অমিতাভ ঘোষের লেখা উপন্যাস দ্য গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্ট : ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড দ্য আনথিংকেবল’ বেশ অন্য রকম। সব চরিত্র পরিবেশের বশ। গতিবিধি আবহাওয়া অনুগামী। পৃথিবী তেতে উঠছে, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তাতে মনুষ্য চরিত্রের তারতম্য ঘটছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। চলাবলায় সুর চড়া। ভরা বসন্তেও কড়া, কর্কশ। ফুল, পাখি, গান আর মন টানে না। মন হারিয়ে নিঃস্ব। ব্যাখ্যাটা মিথ্যা নয়। বিষয়টা উল্টোভাবে দেখা যেতে পারে। পরিবেশ নষ্ট করছে মানুষ। তার প্রতিশোধ নিতেই পরিবেশ ধ্বংস করছে সব। প্রাণী থেকে  প্রকৃতি—কিছুই আর ঠিকঠাক থাকছে না। লেখক মানুষকে সচেতন করতে চেয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের মানুষ এসব যে জানে না, তা-ও নয়। জেনেশুনেই বিপাকে পড়ছে। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে।

সবচেয়ে বেশি অন্ধকার রাজনীতির অলিন্দে। অন্যায় প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ের মর্যাদায়। খারাপের মাথায় ভালোর খেতাব। কালো টাকার কদরই আলাদা। নেতাকর্মীরা টাকা টাকা করে ছুটে বেড়াচ্ছে। যেখান থেকে পাচ্ছে কুড়িয়েকাড়িয়ে ঘরে তুলছে। কেউ প্রশ্ন করলে বলছে, বেশ করেছি। টাকা ছাড়া রাজনীতির চাকা ঘোরে না। যেভাবেই হোক জোগাড় করতেই হবে। সততার দোহাই দিয়ে পাওয়া টাকা পায়ে ফেলা যায় না। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে জেল খাটছেন তৃণমূলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের জেরার মুখে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি ভাবতেই পারেননি, রোজ ভ্যালি চিটফান্ডের টাকা লুট করার অভিযোগে যুগান্তকারী লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে। সুদীপের দুরবস্থায় পাশে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর উড়ে গেছেন। সিবিআই অফিসারদের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সুদীপকে বলেছেন, ‘যা করেছ, বেশ করেছ। আমি তোমার পাশে আছি। ’

ভারতে আর কোনো মুখ্যমন্ত্রীর সাহস হবে না এমন কথা বলার। অন্যরা অন্যায় করেন না, তা নয়। সর্বসমক্ষে দাঁড়িয়ে তেজ দেখিয়ে সেটা সমর্থনের ক্ষমতা আর কার! মমতার উত্থানের উৎস এটাই। প্রাথমিক স্তরে তাঁকে প্রবীণ সাংবাদিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পায়ে ধরতে দেখেছি। কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, দয়া করে আমায় একটু তুলে ধরুন। আপনারা যা বলবেন, তাই করব। দ্বিতীয় দফায় দেখেছি, জ্যোতি বসুর পায়ে ধরতে। তৃতীয় পর্যায়ে বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ির শরণাপন্ন। মাঝে বর্তমান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সুপারিশে রাজীব গান্ধীর কৃপাভিক্ষা।

গরিব ঘরের মেয়ে মমতা। শৈশবে খুব কষ্ট করেছেন। কলেজে পড়ার সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রোজ সকালে দুধ বিতরণের কাজ করতেন। মাসে পেতেন ২০ টাকা। এখন চিটফান্ড থেকে তুলছেন কোটি কোটি টাকা। এই টাকার চেয়ে সেই ২০ টাকার দাম অনেক বেশি ছিল। অন্যায় টাকায় দলটাকে দাঁড় করিয়েছেন ঠিকই কিন্তু নিজের শিরদাঁড়াটা বেঁকিয়েছেন। এবার থেকে প্রতিপদে অন্যায়কে সমর্থন করতে হবে। মমতার প্রতিমূর্তি বলে তাঁর প্রচারটা তাঁকেই ব্যঙ্গ করবে।

সুদীপ বলতে চাইছেন, দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন। দলের জন্য সব দিয়েছেন। ভালো মানুষরা চিরকাল শাস্তি পান। তাঁর জীবনধারা কিন্তু ত্যাগের কথা বলছে না। অসুস্থতার দোহাই দিয়ে তিনি আছেন হাসপাতালের বিলাসবহুল কেবিনে। যার ভাড়া ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ডাক্তারদের ভিজিট এক লাখ, ওষুধ ৬০ হাজার টাকা। সমস্যা অগ্ন্যাশয়ে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। খান সাধারণ কিছু এসিডিটির ওষুধ। অভিনেত্রী স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জন্য রান্না করে নিয়ে যান। সে খাবার যথেষ্ট মুখরোচক।

মমতা যখন সুদীপের পাশে তখন ভয়টা কিসের! তিনি জানেন, মমতা যেভাবেই হোক বাঁচাবেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনও শেষ হওয়ার নয়। হাতে টাকা থাকতে ভয় কী! টাকার চেয়ে বড় ফ্যাক্টর রাজনীতিতে আর কী! মমতা খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাগে আনতে পারলে সব সমস্যা মিটে যেত। তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলছে না। আরো শক্ত হচ্ছে। তিনি ভেবেছিলেন, বিরোধী জোট করে মোদিকে টাইট দেবেন। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির ধাক্কায় বিরোধীরা কুপোকাত হওয়ায় মমতা আপসেট। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর অবস্থা আরো খারাপ। দল শুকিয়ে কাঠ। যেভাবেই হোক পুত্র রাহুল গান্ধীকে টেনে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন, ছেলে দুর্বল, ভালো কথা বলতে পারেন না। ব্যক্তিত্বের দাপট নেই, এমন একজনকে দেশ নেতা হিসেবে মানবে কেন? তাঁর ভাষণ দেওয়ার ধরন দেখে হাসিঠাট্টা হচ্ছে। সোনিয়া হাল ছাড়ছেন না। গাধা পিটিয়ে তিনি ঘোড়া করবেনই। দলের পিঁপড়া থেকে হাতি—সবাই একবাক্যে দাবি করেছিলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা লাও, দল বাঁচাও’। সোনিয়া প্রিয়াঙ্কাকে স্বীকার করবেন কী করে? তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাত। মায়ের নিষেধ অমান্য করে মেয়ে বিয়ে করেছেন রবার্টকে। যুক্তি ছাড়া মায়ের কথাও মানেন না। সোনিয়া বুঝলেন, প্রিয়াঙ্কা ক্ষমতা পেলে তাঁকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবেন। কংগ্রেসের হাল ধরার কেউ নেই। নৌকা ভাসছে কাণ্ডারি ছাড়াই।

অগতির গতি মমতাই আপাতত ভরসা সোনিয়ার। তাঁকে ধরে যদি ঘোলা জলে মাছ ধরা যায়! বিরোধীরা জোট বাঁধলে মোদির বিরুদ্ধে লড়াইটা চালানো যাবে। জুলাইতে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় অবসর নেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীরা মিলিতভাবে একজন প্রার্থী দিক, সোনিয়ার ইচ্ছা। তাতেই বা কী হবে! বিরোধী প্রার্থী জিততে পারবেন না। ২৯টি রাজ্যের বিধায়করা ভোট দেবেন। বেশির ভাগ রাজ্যই বিজেপির দখলে। বিরোধীদের এক করাও কঠিন কাজ। মমতাকে সামনে রাখলে সিপিএম দূরে থাকবে। কেরালা, ত্রিপুরা দুটি রাজ্যে সিপিএম সরকার। তারা মুখ ফেরালে ভোট আরো কমবে। সিপিএমের লড়াই আপাতত মমতার বিরুদ্ধে।


লেখক : কলকাতার সাংবাদিক

 





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com