Saturday, 22 July, 2017, 2:41 AM
Home জাতীয়
নিপীড়নের শিকার নারী কে তাদের বাঁচাবে
আহমদ রফিক লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Thursday, 18 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.05.2017 7:50:00 PM, Count : 1
বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। ধারণা করা যাচ্ছে এবং এমন আশাও ব্যক্ত করা হচ্ছে যে দেশটি দ্রুতই মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে। মূলত রাজধানীর উজ্জ্বলতা, এর আকাশ ছুঁতে ইচ্ছুক সুরম্য বহুতলীয় ভবন-বিস্তৃতি, রাজপথে গায়ে গায়ে ঠাসা সুদর্শন ও মহামূল্যবান গাড়িবহরের অচলাবস্থার দিকে তাকালে সম্ভাবনা সঠিক বলে মনে হয়।

ঢাকা এখনো যেমন মসজিদের নগরী, তেমনি পাশাপাশি আধুনিক সাজসজ্জায় চিহ্নিত একটি ভোগবাদী সমাজপ্রধান রাজধানীও। গোটা দেশের হৃৎপিণ্ড রাজধানী ঢাকা তেমন চরিত্রেরই প্রকাশ ঘটায়। আধুনিকতার সঙ্গে অনাধুনিকতা তথা সামাজিক ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রকাশ এখানে কম নয়। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনাচারের প্রবলতা, যা আধুনিকতার পরিপন্থী। পরিপন্থী গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থারও। সামাজিক প্রগতি ও পশ্চাদমতি রাষ্ট্রের চরিত্র রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্রপরিচয় তুলে ধরে। সেই সঙ্গে যদি যুক্ত থাকে শ্রেণিগত বৈষম্য (অর্থনৈতিক ও সামাজিক), সামাজিক ন্যায়বিচারের অসংগতি, তাহলে সে সমাজকে আধুনিক অভিধায় চিহ্নিত করা চলে না। সেই সূত্রে রাষ্ট্রকেও নয়।

আধুনিক বিশ্বে এজাতীয় দুর্লক্ষণ প্রকৃত আধুনিকতার পরিচয়বাহী নয়। সুস্থ মানবিক মূল্যবোধহীন এবং ভোগবাদী মতাদর্শগত প্রভাব ও প্রাধান্য তেমন সত্যই নিশ্চিত করে। বাংলাদেশি সমাজ দিনের পর দিন সেই অনাকাঙ্ক্ষিত সত্যই তুলে ধরছে। নাগরিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিক নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।

অর্থ ও বিত্ত, সম্পদ ও প্রভাব (তা রাজনৈতিক ও সামাজিক যা-ই হোক) ন্যায়নীতি ও সদাচার লঙ্ঘন করে চলেছে, কখনো পায়ে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে সব সমস্যার বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে উঠেছে রাজধানীর বা বড় বড় নগর-বন্দরে নারীর, বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীদের (হোক তারা শিক্ষার্থী বা গার্মেন্টকর্মী) নিরাপত্তার অভাব। এর নেপথ্যে ততোধিক বড় সমস্যা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা রক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা।

দুই.

মনে পড়ছে, এরশাদ শাসনের আমলে অভিজাত ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে রিকশায় বসা গুলিবিদ্ধ এক মায়ের আর্তি : ‘আমার মেয়েটিকে এখন কে নিয়ে যাবে স্কুল থেকে। ’ এর পরই রক্তাক্ত মায়ের রিকশায় ঢলে পড়া। ঘটনাটি সমাজে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। আততায়ীও সম্ভবত অচেনা ছিল না। তবু বিত্তের প্রভাবে দ্রুতই সেই ঘাতক যুবককে বিচারের আওতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, পাঠিয়ে দেওয়া হয় এদের নিরাপদ ধাম আমেরিকায়।

ঘটনাটি তাৎপর্যে বড়, কিন্তু সামাজিক পরিস্থিতির বিবেচনায় ছোট। অর্থাৎ তা ছিল ছিনতাইয়ের এবং যুবকটিকে চিনে ফেলার কারণে ওই নারীর শেষ গতি হলো মর্গে। কিন্তু নারীর ওপর জঘন্যতম যে অত্যাচার তা যেমন তখনো ছিল, এখনো তার ব্যাপকতা, জাগতিক উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে।

আগেই বলেছি, নারী যেকোনো জায়গায়ই হোক, যেকোনো বয়সের হোক, হোক ছাত্রী, গৃহবধূ বা তরুণী গার্মেন্টকর্মী বা সংস্কৃতিকর্মী—তার নিরাপত্তার বড় অভাব। দৈহিক নির্যাতন বা সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড সামাজিক ব্যাধির রূপ নিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। সমাজপতিদের দায়িত্ববোধ সেখানে তৎপর নয়। বিচ্ছিন্ন উক্তি প্রমাণ করে, ‘এমন ঘটনা তো দু-চারটি ঘটতেই পারে। ’

সংবাদপত্রের কলামে চোখ রাখলে চরম অস্বস্তি ও মানবিক ক্ষোভ প্রধান হয়ে ওঠে, সচেতন মানুষের জন্য শ্বাসরোধক অবস্থার সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে যদি যুক্ত হয় প্রশাসনিক গাফিলতি বা দুর্বলতা, তাহলে তো ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা দূরে সরে যায়। বিচারের প্রশ্ন তো পরের বিষয়, আমাদের প্রশ্ন ও আর্তি, সমাজে প্রবল প্রতাপে এজাতীয় ঘটনা নির্বিকারত্বে ঘটবে কেন, তা-ও এত ব্যাপকতায়?

এর আগে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, কয়েকটি তরুণী নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রতিকারের অভাব নিঃসন্দেহে সামাজিক দুর্বৃত্তপনার সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে ও দিচ্ছে। অপকর্ম, চরম দুর্বৃত্তপনা তরুণ বা বয়সীদের মধ্যে খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবারও বলি, এর প্রধান কারণ প্রতিকারের অভাব। অনেক ঘটনার মধ্যে দু-চারটি উদাহরণ সংবাদভাষ্যে বারবার উচ্চারিত, তবু ধামাচাপা। যেমন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, তনু নির্যাতন, তনু হত্যা, মিতু হত্যা ইত্যাদি। এরা কোনো দিন বিচারের আওতায় আসবে না। কারণ ঘাতক বা নেপথ্য দুর্বৃত্ত ভয়ানক মাত্রায় বিত্তবান ও প্রতাপশালী, প্রভাবশালী।

তিন.

এত বড় ভূমিকা বা গৌরচন্দ্রিকার কারণ, নারী নির্যাতন ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে চলেছে, সেই সঙ্গে ‘প্রতিকারহীন পরাভব’; যা বিপদ ও বিপত্তির অন্যতম প্রধান কারণ। এর অবধারিত পরিণাম : ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’ জাতীয় কাব্যোক্তি। কুমিল্লার সুদর্শনা শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী তনু সম্ভবত সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তার বড় অপরাধ বোধ হয় সুদর্শনা ও সপ্রতিভ হওয়া, সেই সঙ্গে সংস্কৃতিচর্চায় যুক্ত হয়ে গান ও নাটকে অংশ নিয়ে নিজেকে চোখে পড়ার মতো বিশিষ্ট করে তোলা। সর্বোপরি পরিবারটি নিম্নবিত্ত শ্রেণির। তাই শক্তিমানের সীমাহীন লালসা তাকে উপড়ে নিয়েছে, ছুড়ে ফেলেছে ঝোপে, চিরদিনের মতো অন্ধকারে, যেখানে ‘বিচারের বাণী’ এখনো কেঁদে বেড়াচ্ছে। এখনো মাঝেমধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ প্রকাশ পায় সংবাদপত্রে বা আলোচনায়।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে আপাত-সর্বশেষ ঘটনা বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে কয়েক বদমাশের লাগাতার ধর্ষণ এবং ধর্ষিতাদের ভাষ্য—তাদের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে ধর্ষকদের অট্টহাসি। কারণ তারা বিত্তবান পরিবারের সন্তান, তাদের লালসা অপরিসীম, তাদের বিত্তের মতোই প্রচণ্ড প্রতাপশালী। এ অনাচার তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার। কাজেই তারা বেপরোয়া। তারা জানে, তাদের কিছুই হবে না। বিত্ত ও প্রভাব তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সাহায্য করবে। এই সামাজিক অনাচারের প্রশাসনিক একদেশদর্শিতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পাপাচারী প্রভাব তেমন আলামতই প্রকাশ করছে। যেমন প্রথম পর্যায়ে বনানী থানায় মামলা নিতে গড়িমসি, দ্বিতীয় পর্যায়ে তদন্তে ইচ্ছাকৃত ধীরগতি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চরম গাফিলতি।

ইতিমধ্যে ঘটনার বর্বরতায় রাজধানীতে ব্যাপক আলোড়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী সমাবেশ, মানববন্ধন, টিভিসহ গণমাধ্যমের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ—সব কিছু মিলে এমন কিছু শক্তির প্রকাশ যে অচলায়তনের পাথর নড়তে শুরু করেছে। তবু তা রীতিমতো ধীরগতিতে, শম্বুকগতিতে। মনে পড়ছে, তনু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের গোটা শিক্ষিত সমাজ তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে। পত্রপত্রিকাগুলো এ ঘটনায় অসাধারণ ইতিবাচক এমনকি প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছিল। তবু পাথর নড়েনি। পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও বিচারহীন ঘটনার কারণে বলতে হচ্ছে, ফরেনসিক চিকিৎসক থেকে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ক্ষেত্রে চরম অনৈতিকতার উদাহরণ রেখেছেন। অন্যদিকে তনুর পরিবারকে বারবার শাসানো হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে। যেমন সংবাদপত্রের ভাষ্যে প্রকাশ : ‘চুপ থাকুন’, অর্থাৎ ‘নহিলে বিপদ হবে’।

আশ্চর্য, খোলামেলা এসব ঘটনা সত্ত্বেও রাজধানীর সাংস্কৃতিক বলয় উচ্চ আদালতের সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেনি। এমনকি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উচ্চ আদালতও সমস্যার সমাধানে হাত বাড়াননি। নিম্নবিত্ত শ্রেণির কোনো পরিবারের এই যে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব, উচ্চ শ্রেণির অবহেলা, এ জন্যই এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট সূত্রে বারবার উল্লেখ করে থাকি, হৃদয়ের ক্ষোভ মেটাতে।

এই অবিচারের কারণ কারো কারো মতে ঘটনাস্থল সংরক্ষিত সামরিক এলাকা তথা ক্যান্টনমেন্ট হওয়ার কারণে, মানমর্যাদাহানির বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়ার কারণে। হয়তো বা ঘটনাস্থল রাজধানী থেকে দূরে হওয়াটাও গৌণ কারণ। সব কিছু মিলিয়ে শাসনযন্ত্রের জন্য চরম লজ্জার কারণ তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা।

বনানীর ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের। প্রথমত, ঘটনা রাজধানীর খাস অভিজাত এলাকায়, অকুস্থলও তা-ই। আক্রমণকারীরা বিত্তবান ও প্রভাবশালী। তাই অপরাধের পক্ষে তাদের কারো পরিবারের পক্ষে দর্পিত উচ্চারণ : এমন তো হয়েই থাকে। সমাজে অবক্ষয়, দূষণ কত দূরে, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে—এসব ঘটনা তার প্রমাণ।

স্বভাবতই এর সমান্তরালবর্তিতায় সংশ্লিষ্ট ঘটনা। যেমন ‘বনানী থানার ওসিকে জেরা, সুদত্তর নেই’ এ শিরোনাম সংবাদপত্রের। তেমনি অন্য এক সংবাদপত্রের ভাষ্য : ‘বিচারহীনতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, পুলিশের অসহযোগিতা এবং প্রভাবশালীদের চাপে নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলো বেড়েই চলেছে। ’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তিও বিস্ময়কর।

অন্যদিকে আক্রান্তরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী, তাদের পারিবারিক মর্যাদাও হয়তো ভালো। এখানকার ছাত্র ও নাগরিক সমাজ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বে নিয়ে প্রতিবাদী চরমপত্র ঘোষণার কারণেই হয়তো অপরাধী দুই যুবক গ্রেপ্তার, রেইনট্রি হোটেলে অভিযান, প্রধান অভিযুক্ত যুবকের বিত্তবান পিতার প্রতিষ্ঠানে অভিযান।

খবরে প্রকাশ, অভিযুক্ত সাফাতের পিতা ও সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের শুল্ক বিভাগে তলব করা হয়েছে, ভালো কথা; কিন্তু বিত্তগর্বে গর্বিত যে পিতা সন্তানের বর্বরোচিত অপরাধের পক্ষে সাফাই গেয়ে দম্ভোক্তি করতে পারে, সে অপরাধে তাকে কি পুলিশি সংস্থায় বা আইনি আদালতে তলব করা যায় না? এত সাহস ওরা পায় কোথা থেকে?

এ প্রশ্নের উত্তর এ দেশের সমাজেই রয়েছে। বিত্ত, প্রভাব ও প্রতাপ, সেই সঙ্গে ক্ষমতাবলয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এর কারণ। এ কথা সবাই জানেন এবং বলেন, এমনকি কেউ কেউ লিখেও থাকেন। বাংলাদেশি সমাজের একালীন বৈশিষ্ট্য হলো, জেনেশুনে ও আপন নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক অন্ধতার কারণে বিষ হজম করা। এটা সাধারণ প্রবণতা, যার নাম প্রতিবাদহীনতা।

তবে ব্যতিক্রমও সত্য। যেমন দেখা গেছে তনু হত্যার ঘটনায়। দেখা গেছে মিতু হত্যার ঘটনায়। দেখা গেল বনানীকাণ্ডের ঘটনা উপলক্ষে। কিন্তু ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ প্রবাদটি রচিত হয়েছে যে অনাচারের উপলক্ষে, সেই অনাচার ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বর্তমান সমাজে বহুলদৃষ্ট। বহুলদৃষ্ট এমন আশ্বাসও যে অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

এমন আশ্বাসে ভবী ভোলে না, অন্তত যতক্ষণ পর্যন্ত সে আশ্বাস কাজে পরিণত না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায় এড়াতে এর আগে দেখা গেছে। তনু হত্যা তদন্তের পরিণতি তার প্রমাণ। প্রমাণ ১৯৯৬ সালে নিরাপত্তা হেফাজতে ধর্ষিত সীমা চৌধুরীর মৃত্যুর কোনো বিচার না পাওয়ার মতো ঘটনা।

এজাতীয় সামাজিক, শাসনযন্ত্রীয় পাপ কতকাল বহন করবে আধুনিক, সভ্য নামধারী বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তার সমাজ? কবে ঘটবে এর পরিবর্তন ন্যায়নীতির পক্ষে, গণতান্ত্রিক মানবাধিকারের পক্ষে। সমাজের সচেতন অংশ, প্রতিবাদে অভ্যস্ত অংশ কি পরিবর্তনের পক্ষে ব্যাপক শক্তি সংগঠনে এগিয়ে আসবে না? তেমন লক্ষণ তো আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

তাই বনানীকাণ্ডের প্রতিবাদীদের প্রতি অনুরোধ, প্রতিবাদ ও আন্দোলন বন্ধ করবেন না, অন্তত যতক্ষণ পর্যন্ত সুবিচার পরিণতি পায়। তা না হলে সুবিচার পথ হারাবে। উচ্চ আদালতের প্রতি আহ্বান, তারা যেন ঘটনার প্রতি নজর রাখেন এবং প্রয়োজনে ন্যায়ের টানে তৎপরতায় এগিয়ে আসেন।

সবশেষে একটি কথা, কথাটা বলতেই হচ্ছে, বর্তমান দূষিত সমাজে আত্মরক্ষায়, আত্মমর্যাদা রক্ষায় তরুণীদের, নারীদের সতর্ক হওয়া দরকার। হিসাব-নিকাশ করে সখ্য ও বন্ধুত্ব; যার-তার সঙ্গে যেখানে-সেখানে যাওয়ার বাস্তব চিন্তা না হলেই নয়। কারণ রেলের কামরায় লেখা সতর্কবাণীর মতো বলতে হয় : দুর্বৃত্তরা আশপাশেই আছে হরিণী শিকারের দুষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে। অতএব, সাবধান হোক নারী।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com