Friday, 22 September, 2017, 2:10 PM
Home আন্তর্জাতিক
জ্বালানি ভারতের কূটনীতির হাতিয়ার!
টাইমস অব ইন্ডিয়া
Published : Thursday, 18 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.05.2017 1:48:11 PM, Count : 1
চীনের ‘এক অঞ্চল এক পথ (ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড—ওবিওআর বা ওবোর)’ উদ্যোগ থেকে দূরে থাকলেও প্রতিবেশীদের নিয়ে নতুন এক বলয় গড়তে কাজ করছে ভারত। পেট্রোলিয়ামের বড় উৎস হিসেবে, প্রযুক্তির বিনিময় আর আন্তনির্ভরতা তৈরির মাধ্যমে নিজের অবস্থান সংহত করতে ইন্দোনেশিয়া থেকে মরিশাস পর্যন্ত এই জ্বালানি-বলয় গড়তে চাইছে দেশটি।

ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘শুধু দেশের বাইরে হাইড্রোকার্বনের উৎস খুঁজতে নয়, অত্যন্ত ভিন্ন একটি পন্থায় কূটনীতির মাধ্যম হিসেবে আমরা জ্বালানিকে ব্যবহার করতে চাইছি।’

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী মরিশাসে ভারত যে পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণাগার এবং অবকাঠামো তৈরি শুরু করেছে, তা একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ম্যাঙ্গালুরু সংশোধনাগার থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি মরিশাসে খুচরা পণ্যের বাজারেও ভারত এখন বড় সরবরাহকারী। পেট্রোলিয়াম কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলে মরিশাস যেমন নিজের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে, একইভাবে এই কেন্দ্র ব্যবহার করে আফ্রিকার অন্য অঞ্চলের বাজারেও ভারত প্রবেশ করতে পারবে।

ভারত মহাসাগরের অপর প্রান্তে জ্বালানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠছে। বিশ্বে হাইড্রোকার্বনের বড় উৎসগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একটি এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্য। তবে ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী পীযূষ গয়াল গত এপ্রিল মাসে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে আলোচনা শুরু করার পর থেকেই ভারত নতুন এক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আর তা হলো ইন্দোনেশিয়ার জন্য ভাসমান তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি) মজুত এবং পুনরায় গ্যাসে পরিণত করার ইউনিট (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট—এফএসআরইউ) তৈরি, যার মাধ্যমে দেশটি নিজের হাজারো দ্বীপে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে। বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়ার কাছে নিজের যানবাহন-ব্যবস্থার জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরঞ্জাম চায় ভারত।

ইন্দোনেশিয়া সফরের পর পীযূষ গয়াল বলেছিলেন, ‘আমরা বেশ কিছু বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে একমত হয়েছি। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার শোধনাগারগুলোর উন্নয়ন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানান্তর, ভারতে (বিদ্যুৎসাশ্রয়ী) এলইডি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়, ইন্দোনেশিয়ায় জ্বালানি তেলকে গ্যাসে পরিণত করার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং তেল, গ্যাস ও কয়লা উৎপাদন অন্যতম।’

মিয়ানমারের হয়তো নিজের জ্বালানি উৎস রয়েছে, কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটির ৮০ শতাংশ গ্যাস চীনে চলে যাচ্ছে। মিয়ানমারের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আসামের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে ভারত পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রতিবেশী দেশে ডিজেল সরবরাহ করতে শুরু করেছে। এমনকি রাখাইন রাজ্যের সিতওয়েতে একটি এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ভারত, যা মিয়ানমারের জ্বালানি পণ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং কালাদান বহুমুখী মডেল যোগাযোগ প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর এই টার্মিনাল থেকে মিজোরামের আইজাওলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাবে। মিয়ানমারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংরক্ষণাগার ও বিতরণকেন্দ্র তৈরির চেষ্টাও করছে ভারত। যদিও এ-সংক্রান্ত একটি দরপত্র ভারত পেলেও অং সান সু চির সরকার তা বাতিল করে দিয়েছে। দেশটির সাবেক সামরিক সরকারের কাছ থেকে দরপত্রটি পেয়েছিল ভারত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ভারত আসলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককে আন্তনির্ভরতার রূপ দিতে চাইছে। এই উপায়ে উভয় পক্ষই লাভবান হবে, যা এই পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে সার্বিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

জ্বালানিকে কূটনীতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হলে ভারতকে পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে প্রচুর উন্নয়নকাজ করতে হবে। জ্বালানিকে কাজে লাগিয়ে ভারতের নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা দেশটির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র অংশ। কারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্যার কারণে পশ্চিমে এ ক্ষেত্রে তাদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। এ কারণে ভারত পূর্ব উপকূলের অ্যানোরে, ভিজাগ/কাকিনাড়া ও ধামরা এলএনজি টার্মিনাল তৈরিতে কাজ করছে।

বড় ধরনের জ্বালানি সহযোগিতায় একযোগে কাজ করার ব্যাপারে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কায় ত্রিনকোমালি ‘লোয়ার ট্যাংক ফার্মগুলোর’ পুরো ব্যবহারে সমর্থ হয়েছে ভারত, যার মধ্যে ১০টি বিশেষভাবে শ্রীলঙ্কার ব্যবহারের জন্য। ‘আপার ট্যাংক ফার্মগুলোর’ জন্য এখন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সকে (পিডব্লিউসি) একটি ব্যবসায়িক উন্নয়ন মডেল তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেগুলোর ইজারা ৯৯ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধনের ক্ষেত্রে ‘পোস্টার শিশু’ হিসেবে ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ দেশকে আরও এগিয়ে নিতে (পার্বতীপুর পর্যন্ত) ডিজেল পৌঁছাতে গ্যাস সরবরাহ থেকে শুরু করে পাইপলাইন স্থাপন এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ভারত। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা নেওয়ার এবং এমনকি বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইন্টারনেট সরবরাহ করতে শুরু করেছে। কুতুবদিয়ায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার এলএনজি টার্মিনাল তৈরিতে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে ভারত।

ভারতে নেপালের রাষ্ট্রদূত দীপ উপাধ্যায় বলেন, তাঁর দেশে গত শীতে কোনো বিদ্যুৎ-ঘাটতি ছিল না, যার অন্যতম কারণ ভারতের সরবরাহ।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের বিহারের রাক্সল থেকে নেপালের আমলেখগঞ্জ হয়ে চিতওয়ান পর্যন্ত তেল সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এর ফলে নেপালে জ্বালানি খরচ শুধু কমেই আসবে না, সেই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে ওঠারও একটা সুযোগের সৃষ্টি হবে।

বিবিআইনের (ভুটান-বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল) অংশ হিসেবে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিনিময়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ভুটান বা নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা হলো দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন, যে ক্ষেত্রটায় চীন ভারতের চেয়ে এগিয়ে।

অনুবাদ: প্রথম আলোয় রাজিউল হাসানের।







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com