Friday, 24 November, 2017, 11:33 AM
Home আন্তর্জাতিক
চীনের ভূরাজনীতি ও ভারত
ওয়ান বেল্টের লেখার অনুবাদ সমকালে প্রকাশিত
Published : Wednesday, 17 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 17.05.2017 3:14:17 PM, Count : 2

নয়াদিলি্ল যদি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামে অনুপস্থিতির ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারত, তাহলে এর পেছনে বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা সম্ভব ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হতে পারত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের অধিকার। চীনের প্রস্তাবিত সিল্ক রোড শিল্প বেষ্টনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই ফোরামের উদ্বোধনী ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রোববার দিনের শেষে নয়াদিলি্লর পররাষ্ট্র দপ্তর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আপত্তির কথা জানায় এবং স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে এই বলে যে- 'কোনো দেশই এমন কোনো প্রকল্প মেনে নিতে পারে না, যা তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উত্থাপিত গুরুতর আপত্তি অগ্রাহ্য করছে।'

যদিও বেইজিংয়ে কেউ কেউ সতর্কতা ব্যক্ত করেছেন এবং নয়াদিলি্লতে কেউ কেউ ভীতি প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ভারতের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়। সে তুলনায় বরং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গতি পাওয়ার বিষয়টি অনেক বড় সমস্যা। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারত এতটা বড় যে, অন্য আরেকটি শক্তির পক্ষে তাকে একঘরে করে ফেলা প্রায় অসম্ভব। একই ধরনের আরেকটি স্পর্শকাতর ভৌগোলিক এলাকা দখল করা হতে পারত পাল্টা পদক্ষেপ। কিন্তু তাতে করে কেবল চীনের বেল্ড অ্যান্ড রোড উদ্যোগ বাড়তি গতি পেত এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতো। নয়াদিলি্লর জন্য সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে যে দাবি করা হচ্ছে, মাঠপর্যায়ে তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য অবশ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের ত্রিমুখী স্বার্থ স্পষ্ট করেছে। যদিও ভারতের জনপ্রিয় মতবাদে কাশ্মীর ইস্যুকে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হিসেবে দেখা হয়। চীনের দিক থেকে সবসময়ই ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, এটা আসলে ত্রিপক্ষীয় সংকট। ইঙ্গ-আমেরিকান শক্তি যখন সবসময়ই কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার বিভ্রান্তিতে থেকেছে, ততদিনে হুররিয়াত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাশ্মীর প্রশ্নে চীনই হচ্ছে আসল তৃতীয় শক্তি।

জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাদাখের একটি বড় অংশ বেইজিং দখল করে রেখেছে। পশ্চিম দিকে পাকিস্তান তার নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি অংশ বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিয়েছে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত সীমান্ত যুদ্ধের পর। কাশ্মীরে চীনের প্রথম আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্প কারাকোরাম হাইওয়ে তৈরি হয়েছিল ষাটের দশকের শেষভাগে। চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ছে, জন্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিংয়ের ভূমিকা এ যাবৎকালের বৃহত্তর হয়ে দেখা দিচ্ছে।

নয়াদিলি্ল যদিও প্রায়শই আমলা পর্যায়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চীনের ভূমিকার ব্যাপারে আপত্তি তুলে থাকে, কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারত সবসময় চীনের সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের নামে এই সংকটকে গালিচার নিচে রেখে দিতেই বেশি আগ্রহী হয়েছে। বেল্ড অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিপুল রাজনৈতিক বিনিয়োগ ধন্যবাদ পেতে পারে; এর কারণেই চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর বেইজিংয়ের কাছে এতটা গুরুত্ব পেয়েছে এবং এ ব্যাপারে ভারতের বিরোধিতা তীব্র হয়েছে। কাশ্মীর প্রশ্নে সংকটের ত্রিপক্ষীয় প্রকৃতি এখন আর মুখোশে ঢাকা থাকল না।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, গত কিছুদিন ধরেই বেইজিং চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর বিষয়ে ভারতের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত উদ্বেগকে আমলে নিতে চেয়েছে। কিন্তু ভারতের দিক থেকে বিষয়টি ততটা মনোযোগ পায়নি। তা সত্ত্বেও কাশ্মীরের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দুই দেশকেই মনোযোগ দিতে হবে এবং আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও চীন যে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রকল্পগুলোর সম্প্রসারণ বন্ধ রাখবে- এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও ভারতকে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিজস্ব কানেকটিভিটি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা ঠিক যে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে ভারতের অবস্থান ইতিমধ্যে অসুবিধাজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এর বিরোধিতা করে এবং নিজেদের উদ্যোগ না নিয়ে বসে থাকলে সেই অসুবিধা আরও বাড়তেই থাকবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে ঈষৎ সংক্ষেপে ভাষান্তরিত






« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com