Friday, 24 November, 2017, 11:42 AM
Home বিবিধ
রূপকথা যেভাবে সত্যি হয়ে উঠেছে
ড. মো. রওশন আলম লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Tuesday, 16 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 17.05.2017 1:36:15 AM, Count : 1
বড় বড় মনীষীরা বা দার্শনিকরা অনেক বিষয় নিয়ে ভাবতেন, চিন্তা করতেন। তাদের ভাবনার জালে থাকত সমাজ সংস্কারের কথা, মানুষের মনন জগতকে উন্নয়নের কথা। যেমন বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের কথাই ধরা যাক। সেই খ্রিস্টপূর্ব সময়ে তার চিন্তার পরিধি কতই না উঁচুমানের ছিল। সেসময় তিনি ভাবতেন সময়ের আবির্ভাব নিয়ে। সময় কি, গতি কি—এসব নিয়ে। এরিস্টটলের মতে, সময়ের কোনো শুরু বা শেষ নেই। যখন পৃথিবীতে কিছুই ছিল না, তখনো সময় ছিল। সময় কখনো থেমে থাকে না। সময় বহমান। তিনি আরো ভাবতেন, সময় হচ্ছে গতির পরিমাপ। অর্থাত্ যে কোনো বস্তু স্থির অবস্থায় থাকতে চায়। বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করা না হলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থাতেই রয়ে যাবে। গতিশীল বস্তু সম্পর্কেও তার একটা মত ছিল। তার মতে, গতিশীল বস্তুও স্থিতিশীল অবস্থায় আসতে চায়।

অবশ্য দার্শনিকদের ভাবনার সঙ্গে বিজ্ঞানীদের ভাবনার কিছুটা মিল থাকলেও বিজ্ঞানীরা শুধু ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। বিজ্ঞানীরা তাদের চিন্তা-ভাবনাকে পরীক্ষালব্ধ সত্যের উপর ভিত্তি করে একটি থিওরি বা সূত্র বা রূপ দিয়ে থাকেন। যেমন সপ্তদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের কথা আমরা কে না জানি। সময় ও গতি নিয়ে নিউটনের থিওরি ছিল এরিস্টটলের ধ্যান-ধারণার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। যদিও আমরা সাধারণ মানুষ দার্শনিক এরিস্টটল এবং বিজ্ঞানী নিউটনের ভাবনার মধ্যে পার্থক্য কতোটুকুই বা বুঝতে পারি? নিউটনের মতে, কোনো বস্তুকে বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু চিরকাল চলতেই থাকবে, আর স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থেকে যাবে। সময় সম্পর্কেও নিউটনের ভাবনা ছিল ভিন্ন। নিউটনের মতে, সময় হচ্ছে একদম পরম। অর্থাত্ এই মহাবিশ্বের যে কোনো স্থানেই আপনি থাকুন না কেন, হোক সে পৃথিবী অথবা চাঁদ অথবা মঙ্গল গ্রহ, সময় একটি ধ্রুব গতিতে চলতে থাকবে অর্থাত্ সকল স্থানেই সময় একই হারে চলতে থাকবে।

অবশ্য অনেক সময় বিজ্ঞানীদের কিছু আবিষ্কার নিয়ে দ্বিমত দেখা গেছে। তা থাকতেও পারে। যেমন গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমির নাম আমরা অনেকেই শুনেছি। গণিত শাস্ত্রের অংশ ত্রিকোণমিতিতে তার অবদান ছিল অনন্য সাধারণ। টলেমির মতে, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। তিনি বলতে চেয়েছেন যে, সূর্য ঘূর্ণায়মান, আর পৃথিবী স্থির। ধর্মযাজকরাও টলেমির এ উপলব্ধিকে বিশ্বাস করতেন বহু বছর ধরে; কিন্তু মহাবিজ্ঞানি কুপারনিকাস ও গ্যালিলিও এসে টলেমির সে ধারণাকে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারা পরীক্ষালব্ধ সত্যের ভিত্তিতে প্রমাণ করেছিলেন যে, সূর্য নয়, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। শুধু তাই নয়। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন সময় লাগে। এই প্রদক্ষিণের কারণে ঋতু আসে। ঋতুর পরিবর্তন হয়।

এ তো গেল সময় ও গতির কথা। এবার অন্যদিকে একটু তাকাই। যেমন টেলিফোন। কে এই যুগান্তকারী টেলিফোন আবিষ্কার করেছিলেন তা কি আমাদের কাছে এখন অজানা? আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল শত বছর পূর্বে টেলিফোন আবিষ্কার করে পৃথিবীতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য টেলিফোন আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রাকে কতটা না সহজই করে ফেলেছে আজ। আজকের মোবাইল ফোন, বিনা তারে কথা বলা সেই ফোনেরই একটি সংস্করণ।

রাইট ব্রাদার্স? ‘অরভিল ও উইলবার’ রাইট। দুই ভাই। কি করে ভুলি আমরা তাদের অবদানের কথা? উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেছিলেন দুই ভাই। আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেইটন শহরে বসে তারা দুই ভাই সেই অসাধ্য কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন।

পাখির ন্যায় দুই ডানা মেলে আকাশের মেঘগুলোকে ভেদ করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে, মহাদেশে উড়ে বেড়ানোর সাধ যে ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। মানুষের মনের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন রাইট ব্রাদার্স। আজকের পৃথিবীর বোয়িং ৭৪৭, ৭৭৭ নামের আধুনিক এরোপ্লেনগুলো রাইট ব্রাদার্সের সেই প্রাথমিক উড়োজাহাজেরই নতুন সংস্করণ।

প্রায় দু’শ বছর আগে মানুষের ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি ছিল না। শুধু ঘরে কেন, কোথাও ছিল না। মানুষের সেই চাহিদাটুকুও পূর্ণ করেছিলেন টমাস আলভা এডিসন। তিনিই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর জগতে প্রবেশ করিয়েছিলেন। শুধু একবার ভাবুন তো, এ পৃথিবীতে আপনার চারপাশে যেদিকে আপনি তাকান, সেখানে আর কোনো বৈদ্যুতিক বাতি নেই। বৈদ্যুতিক বাতিবিহীন পৃথিবীকে কি আমরা আর কখনো ভাবতে পারি? ভাবা সম্ভব? আহ! কত বাতি, ঝাড়বাতি আজ এদিকে ওদিকে, আমাদের ঘরে, ঘরের বাইরে অফিসে, বাসে, প্লেনে—সবখানে। আমরা আজ বসবাস করছি সর্বদায় যেন এক আলোর পৃথিবীতে। ন্যাচারাল অন্ধকার রাতকেও যেন আমরা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে প্রায় দিন বানিয়ে ফেলেছি।

বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আবিষ্কার E = mc2 (ভর-শক্তি সমতুল্যতার সূত্র) অথবা আলফ্রেড নোবেলের ডিনামাইট আবিষ্কারের কাহিনিকে ভুলতে পারবেন কি? সম্ভব নয়।

প্রশ্ন হতেই পারে যে, মানুষ যদি দীর্ঘদিন বেঁচেই থাকতে না পারে, তাহলে বিজ্ঞানের এসব আলোকিত আবিষ্কার দিয়ে কী হবে? তাই শরীরবিজ্ঞান বা চিকিত্সাশাস্ত্র নিয়ে মানুষের জানার আকাঙ্ক্ষা একেবারেই থেমে ছিল না। এসব নিয়ে আলোচনা করা যাবে অন্য এক দিন ।

লেখক : বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

alamrowshon@gmail.com







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com