Friday, 22 September, 2017, 1:52 PM
Home ফিচার
তিস্তা চুক্তি হতেই হবে
গৌতম লাহিড়ী
Published : Tuesday, 16 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 17.05.2017 1:40:28 AM, Count : 2
ঢাকায় ফিরে যাওয়ার দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিস্তা নদীর পানি চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন। কথাটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে পেঁৗছেছিল। সেদিন তিনিও সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিলেন। হঠাৎ আমাকে দেখে জানতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ঠিক কী বলেছেন। বললাম, তিনি বলছেন আপনি পানি দেননি; কিন্তু বিদ্যুৎ তো দিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ তার জবাব_ 'না না, আমি পানি দেব না এমন তো বলছি না।' শেষ পর্যন্ত তিনিও কি পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করলেন? এখনও উপসংহার টানার সময় হয়নি। কিন্তু চার দিনের শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর এটা কিন্তু নিশ্চিত ভবিতব্য আগামী দিনে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি হতেই হবে।

ভারতের রাজনীতির হালহকিকত যারা বোঝেন তারা জানেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির একমাত্র হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই তিস্তা পানি চুক্তি। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যেসব শীর্ষ স্তরের সম্পাদক এসেছিলেন তার মধ্যে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার এবং আবেদ খান রাষ্ট্রপতি ভবনের অশোকা হলে কিছুক্ষণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য আলাপচারিতার সুযোগ পেয়েছিলেন। দু'জনেই যখন বলছেন, 'আমরা বাংলাদেশেও আপনাকে দিদি বলে সম্মান জানাই।' প্রত্যুত্তরে মমতা বলছিলেন, 'আমিও বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশেষ স্থান রয়েছে।' রাষ্ট্রপতি ভবনের সেদিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা বারবার মমতার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছেন। কখনও মনে হয়নি, এই সেই মমতা, যার আপত্তির কারণে ছয় বছর আগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শেষ মুহূর্তে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেননি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরেও এই মুহূর্তে ভারতে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় বলিষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রী মোদিও পারলেন না।

প্রশ্নটা হলো, প্রধানমন্ত্রী মোদির থেকেও কি এক প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী এতটা শক্তিশালী? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ঢাকা গিয়েও দেখে এসেছি, রিকশাচালক থেকে সিএনজিওয়ালা, বুদ্ধিজীবী থেকে সাংবাদিক_ সবাই মনে করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তো চুক্তি করতেই পারেন। করছেন না কেন? ওই ক'দিনের ঢাকা সফরে গিয়ে অভিজ্ঞতা, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রী-আমলারা ভারতের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে যারপরনাই ওয়াকিবহাল। কিন্তু সেই উপলব্ধির সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যবধান আকাশ-পাতালের মতোই। এটা ঘটনা নয় কি_ এই দক্ষিণ এশিয়ায় বিগত সত্তর বছর ধরে ভারত একমাত্র রাষ্ট্র, যেখানে গণতন্ত্র সুদৃঢ়ভাবে সমাজের গভীরে প্রোথিত। এখানে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বারবার বিফল হয়েছে। কারণ, রাজধানী দিলি্ল একমাত্র ভারত নয়। ভারত ২৯টি প্রাদেশিক রাজ্যের এক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো। এখানে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে এক ধরনের স্বাধীনতা উপভোগ করেন। ১৯৫০ সালে বাবা সাহেব আম্বেদকর যে সংবিধান রচনা করেছিলেন সর্বসম্মতিক্রমে তাতেই দেওয়া রয়েছে এই ক্ষমতা। যে কেন্দ্রীয় সরকার এই ক্ষমতা উৎপাটন করতে চেয়েছেন, তাকেই জনতা নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীনতা-উত্তরকালের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান চন্দ্র রায় প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরুর মতো জনপ্রিয় নেতাকেও নিজের স্বাধীন মত ব্যক্ত করতে দ্বিধা করতেন না। তিনি কোনো দিন নেহরুর কাছে দরবার করতে দিলি্লও আসতেন না। পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুও দিলি্লর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবদার নিয়ে দরবার করতেন না। জ্যোতি বসু এত বড়মাপের নেতা ছিলেন যে, আজ পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যম তার নামের একাংশ নিয়ে সংবাদপত্রের শিরোনামও করতে পারত না। যেমন_ 'জ্যোতি বললেন' বা বসু বলছেন। সবাই লিখত সম্পূর্ণ নাম জ্যোতি বসু অথবা জ্যোতিবাবু। ফলে সম্পাদকদের তাকে নিয়ে শিরোনাম করতে শব্দ সংখ্যা নিয়ে হিমশিম খেতে হতো। সেই জ্যোতিবাবু প্রাদেশিক নেতা হলেও তিনি ছিলেন জাতীয় নেতা। দুর্ভাগ্য, তার দল সিপিএম তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি ১৯৯৬ সালে। সেই জ্যোতিবাবু বিশ্বাস করতেন, ঢালের রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর পানির সমান অংশীদারিত্ব পাওয়া উচিত। তদানীন্তন ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেব গৌড়াকে সমর্থন করত বাইরে থেকে কংগ্রেস দল। সেই সময় জ্যোতিবাবুর সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির রূপকার ছিলেন আজকের ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

তিনিও এবার চেয়েছিলেন তিস্তা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হোক। ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি করে এক প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাইসিনা হিলসে রাত্রিবাস করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, ঘরোয়াভাবে একটা আলোচনার সুযোগ করে দেওয়া, যাতে তিস্তা নিয়ে সমাধানে পেঁৗছানো যায়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার সুযোগও তৈরি হয়। খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। একে অপরের বাধ্যবাধকতা হৃদয়ঙ্গম করার সুযোগ পেয়েছেন। যার অনেকটাই 'গোপন কথাটি রয়েছে গোপনে।' মমতাকে আমি যতটা চিনি, তাতে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ওর মনের ভাব গোপন রাখতে পারে না। যদি বাংলাদেশ সম্পর্কে এতটাই বিতৃষ্ণা থাকত, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না। পরের দিন রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রিত হতেন না। বাংলাদেশের অতিথিদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব দেখাতেন না। লক্ষণীয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন ঢাকা ফিরে গিয়েছেন, তার পরের দিনই মমতা প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাপ্য পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মনে রাখবেন, মমতা এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন বা দেখা করলেন আট মাস পর। আগেরবারও দিলি্ল এসেছেন, কখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাননি। মমতা সংবাদমাধ্যমে যে বিকল্প প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সেটা যে আদৌ কোনো প্রস্তাব নয়, সেটা ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যৌথ ঘোষণাপত্রে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাশে দাঁড় করিয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে ঘোষণা করেছেন, তিনি তিস্তা চুক্তি অনতিবিলম্বে করবেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও সেই হায়দরাবাদ হাউসের ব্রিফিং রুমে উপস্থিত। প্রধানমন্ত্রী মোদি এও মেনেছেন, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখজনক বিষয়। দুই দেশের সম্পর্ক ৩৪টি যুগান্তকারী চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও তিস্তার আলোকে দেখা হবে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। নিশ্চয় তিস্তা চুক্তি হওয়া উচিত। বিষয়টি হলো, তিস্তাতে পানি আদৌ নেই, এটা সবাই জানেন। তবুও আবেগ। তিস্তা চুক্তি সম্পাদন হলেই সমস্যার সমাধান? স্থলসীমান্ত চুক্তি সমাধান হতে সময় লেগেছে ৪০ বছর। সমাধান হয়েছে। সমুদ্র সীমানা চিহ্নিত হতে সময় লেগেছে সমপরিমাণ সময়। গঙ্গা হতেও কি কম সময় লেগেছে? তিস্তা হলেই কি আর কোনো সমস্যা থাকবে না? আরও তো ৫২টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

কিছু দিন আগেও বাংলাদেশিদের ভিসা পেতে হিমশিম খেতে হতো। এখনও একশ'ভাগ সমস্যা সমাধান হয়েছে তা নয়। হয়েছে তো? নিশ্চিত যাত্রার টিকিট দেখালে ভিসার জন্য লাইন দিতে হবে না। হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দিনের পর দিন বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যা সমাধান করার জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে দিন-রাত আলোচনা করে সমাধান করার প্রয়াস করছেন। কিন্তু একটা তিস্তার অপ্রাপ্তি দুই প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী যৌথ বিবৃতির একটি অনুচ্ছেদ চাপা পড়ে গেল তিস্তার ক্রন্দনে। দুই প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করছেন দুই দেশের সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বমূলক। একে অপরের সার্বভৌমত্ব, সমতা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্কের প্রত্যেকটি (জোর দিচ্ছি প্রত্যেক শব্দটায়) বিষয় প্রতিফলিত এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে, যা 'স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কে'র ঊধর্ে্বর্। ভারতের সঙ্গে বিশ্বের কোনো দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তা না হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সব কাজ ফেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ছুটে যান সবাইকে চমকে দিয়ে। এমনকি বাংলাদেশিদেরও চমকে দিয়ে। এসব কি নিছক আলোকচিত্র_ নাকি এক উজ্জ্বল সম্পর্কের দিশা তৈরি করল এই সফর।


যশোর বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মো. হারুনুর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেন চালক ইমাম শেখকে গাড়িতে করে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে তাকে নেওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ মো. আবদুল্লাহ জানান, ‘বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা গতকাল রাতে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি ইমাম শেখকে রেডি থাকতে বলেছিলেন। আজ সকালে কর্মকর্তাদের কাছে তাকে তুলে দেওয়া হলো। যোগ্যতা অনুসারে তাকে চাকরি দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ইমামের বাবা একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ জন্য বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফাসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে চাকরি হলো



গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে হারিয়ে যান শৈশবের মধুর স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোতে। একটি সাধারণ রিকশাভ্যানে করে সরকারপ্রধান ঘুরে বেড়ান কুয়াশামাখা গ্রামের পথে।

ভ্যানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তাঁর স্ত্রী পেপি সিদ্দিক, তাঁদের মেয়ে লিলা তুলি সিদ্দিক ও ছেলে কায়াস মুজিব সিদ্দিক। কায়াস মুজিবকে কোলে নিয়ে শেখ হাসিনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান থামিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com