Saturday, 24 August, 2019, 2:15 AM
Home জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর সমুদ্র দর্শন এবং পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনা
মীর আব্দুল আলীম লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Wednesday, 10 May, 2017 at 12:00 AM, Update: 11.05.2017 4:11:59 PM, Count : 68
কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬ মে, দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠান শেষ হলে সাধারণ মানুষের মতো তিনি সোজা সৈকতে নেমে যান। সৈকতে কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটেন তিনি, নামেন পানিতেও। সে সময় প্রধানমন্ত্রীকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। দৃষ্টিতে ভাবনা ছিল। কী সেই ভাবনা? এ ভাবনাটা হয়তো পর্যটন শিল্পের বিকাশের ভাবনা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও দিলেন। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারকে আরো আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। এত সুন্দর সমুদ্র সৈকত, কিন্তু কক্সবাজার সবসময় অবহেলিত ছিল।

বাংলাদেশকে সারাবিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ১০টি পর্যটন মার্কেটের একটি হিসেবে ভাবা হলেও পর্যটন শিল্পে আমাদের অবস্থান কোথায়? নিরাশা এই যে, দেশীয় পর্যটন বিকাশে তেমন কিছুই করছে না আমাদের পর্যটন কর্পোরেশন। আমাদের দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটলেও পর্যটন শিল্প এখনো অনেক পিছিয়ে। আমাদের পাশের অনেক দেশ যখন পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করছে, তখন বাংলাদেশের অবস্থা মোটেও সন্তোষজনক নয়। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট থাকা সত্ত্বেও অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা পর্যটক ধরতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর সমুদ্র দর্শন এবং পর্যটন নিয়ে তাঁর বক্তব্য এ শিল্পের বিকাশে আশা জাগায় বৈকি। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। কারণ আমাদের রয়েছে সুবিশাল সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্যঘেরা জলপ্রপাত, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে আমাদের এ শিল্প অনেকটা আড়ালে পড়ে রয়েছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরার অন্যতম উপায় হতে পারে পর্যটন শিল্প।

‘পর্যটন নিশ্চিত করার জন্য অন্তত তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে— অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং জিনিসপত্রের মান ও দামের সামঞ্জস্য।’ কিন্তু কে দেবে? এদেশে যার যা করবার সে তা করে না; যে যা বোঝে না, সে সেটা করবার জন্য সবার আগে এগিয়ে যায়। আর এতে করে লেজে-গোবরে হয়ে ওঠে সব কিছু। এক্ষেত্রে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকার সরাসরি ব্যবসা করবে না; কিন্তু মনিটরিংয়ের দায়িত্বটা সবসময় সরকারের ঘাড়েই চাপে। আজকাল কক্সবাজারে বহু ভালো ভালো হোটেল হচ্ছে। আগামী দশ বছর পর কয়েকশো ফাইভস্টার হোটেল দাঁড়িয়ে যাবে। কে থাকবে ওখানে? দেশি না বিদেশি? বিদেশিদের জন্য কোনো পরিবেশ আছে? আগে যাও-বা যেত, এখন তো বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে জেনে শুনে পা বাড়ায় না। পর্যটন করপোরেশান বলে একটা প্রতিষ্ঠান আছে গলাকাটা বাদে আর কোনো কাজ তো দেখি না তাদের।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প বিকাশের দারুণ সুযোগ রয়েছে। বিদেশিরা আসুক বা না আসুক, অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলেই এ শিল্পটি নিজ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যাবে। ১৫ কোটির বেশি মানুষের অন্তত ১০ ভাগও যদি প্রতি বছর দেশের কোথাও না কোথাও বেড়াতে যায়, তাহলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব কতোটা বিশাল হবে সেই হিসেব অর্থনীতিবিদরা সহজেই বের করতে পারবেন। দেশের রাজস্ব খাতেও কম টাকা আয় হবে না। পর্যটন স্পট তৈরির ক্ষেত্রেও আমাদের প্রচলিত ভাবনার বাইরে আসা দরকার। বর্তমানে আমরা পর্যটন স্পট বলতে সাধারণত কক্সবাজার, জাফলং, সুন্দরবন, পতেঙ্গা, সিলেট চা অঞ্চল, কুয়াকাটাকেই বুঝি। এ ছাড়া কি পর্যটন স্পট নেই? বরগুনার মতো এলাকায় ছোট ছোট কিছু চমত্কার সমুদ্র সৈকত রয়েছে এ খবর আমাদের কাছে কি আদৌ আছে? ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রের তীরের সৌন্দর্যের খবর আমরা কয়জনে রাখি? হাওরের সৌন্দর্য হাওরবাসীর মাঝেই সীমিত। কেন মানুষ চাইলেই দুই-তিন রাতের জন্য হাওর ভ্রমণ করে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে না?  এ দেশের সৌন্দর্যে যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত তা আমরা আজো কাজে লাগাতে পারিনি।

আমাদের কাছাকাছি দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট দেশ সিঙ্গাপুর। অথচ এর জাতীয় আয়ের ৭০ ভাগ আসে পর্যটন শিল্প থেকে। একইভাবে নেপাল অর্জন করে ৪০ ভাগ। তাহলে আমরা কেন পারব না?

লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: [email protected], বার্তা বিভাগ: [email protected]