Friday, 24 November, 2017, 11:37 AM
Home আন্তর্জাতিক
ট্রুম্যান ডকট্রিন ও ট্রাম্পের অ্যাডভেঞ্চারিজম
মুনীরউদ্দিন আহমদ
Published : Sunday, 30 April, 2017 at 5:54 PM, Update: 08.05.2017 9:04:31 AM, Count : 29
গত ২১ এপ্রিল ওয়াশিংটন পোস্টে উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে ফরিদ জাকারিয়ার 'On North Korea: Bluster in search of strategy' শীর্ষক একটি নিবন্ধ পড়লাম। এতে ফরিদ জাকারিয়া পরিষ্কার ভাষায় যা বলতে চেয়েছেন, তার মর্মার্থ হল- যুগ যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত নীতিনির্ধারণ না করেই উত্তর কোরিয়াকে হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বাণিজ্য অবরোধ, চাপ প্রয়োগ ও একঘরে করে বশে আনতে চেষ্টা করে চলেছে; কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের এই তর্জন-গর্জন উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশে পরিণত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বাণিজ্য অবরোধ, চাপ প্রয়োগ এবং বিভিন্ন নিরপরাধ দেশে সামরিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতির মূল কৌশল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঠিক একই কৌশল নিয়ে তার যাত্রা শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়ার সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও আফগানিস্তানে ২১ হাজার পাউন্ডের এক বোমা মেরে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সেরা ও অতুলনীয় রাষ্ট্রপ্রধান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই উত্তর কোরিয়া নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা এখনও বিরাজ করছে। ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিহত না করতে পারলে যে কোনো সময় ওই অঞ্চলে অঘটন ঘটে যেতে পারে। ইরান নিয়েও নতুন করে সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জার্মানি ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এবং ইরানের মধ্যে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করে কড়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ইসরাইলকে দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নীলনকশা প্রণয়নের কাজও শুরু করেছেন ট্রাম্প। সিরিয়া যুদ্ধে তুরস্ক ও আরব দেশগুলোর মদদে আসাদ সরকারকে সরিয়ে লিবিয়ার মতো একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। সিএনএন টেলিভিশনের এক ভাষ্যকার উত্তর কোরিয়া-ইরান-সিরিয়া সংকট নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, গোটা বিশ্ব এখন দুই ভয়ানক ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ রাষ্ট্রনায়কের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় বসতে না বসতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং ভয়ংকর অ্যাডভেঞ্চারিজমে পা দিয়েছেন, তা জানতে হলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসের দিকে একটু তাকাতে হবে।
একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বিশ্ব এক মহাসংকটকাল অতিক্রম করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যসহ সমমনা কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত সামরিক জোট ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যে ভয়াবহ ও দুঃসাহসিক অভিযানে শামিল হয়েছে তাতে মানবসভ্যতা এক মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগে মার্কিনবিরোধী তথাকথিত স্বৈরশাসন ও স্বৈরশাসক উৎখাত এবং বিনাশের মাধ্যমে দেশে দেশে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, মুক্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্লোগান দিয়ে ব্রিটিশ ও মার্কিন নিওকনরা (নব্য রক্ষণশীল) যে ইউফেমিজমের আশ্রয় নিয়েছে, তা মানবসভ্যতাকে বিপদসংকুল করা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। কথাটা মিথ্যা নয় যে, বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে মার্কিন নিওকনদের মিথ্যাচার মূল ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বিশ্বের বর্তমান সংকটের শেকড় আরও বহু গভীরে প্রোথিত। শীতল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে দল-মত, বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এক নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা চলে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির চলমান এই ধারাবাহিকতার প্রেরণা ও চালিকাশক্তির প্রকৃত উৎস হল ট্রুম্যান ডকট্রিন বা ট্রুম্যান মতবাদ। সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রুম্যান ডকট্রিন এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের তিন মহানায়ক বুশ-ওবামা-ট্রাম্প ডকট্রিনের মধ্যে এক অপূর্ব যোগসূত্র পরিলক্ষিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এক নীতিনির্ধারণী বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র্রনীতির মূলমন্ত্র ‘কনটেইনমেন্ট’ বা শত্রুভাবাপন্ন কোনো দেশের বা প্রভাবের সম্প্রসারণ ঠেকানোর নীতি বা কৌশল থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রিএম্পটিভ’ বা অতর্কিত হামলা বা আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নিবৃত, অকার্যকর বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলার নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রশাসনগুলো তাদের জিওপলিটিক্যাল স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বে অবর্ণনীয় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া থেকে শুরু করে সিআইএ কর্তৃক পরিচালিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের সামরিক আধিপত্যবাদ এবং অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াসে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালিয়েছে এবং এখনও চালাচ্ছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কথা ফলাও করে প্রচার সত্ত্বেও ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান প্রশাসন- হ্যারি ট্রুম্যান থেকে জর্জ বুশ, বারাক ওবামা এবং বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প- ঠিক একই মতবাদ সামনে রেখে সামরিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন। বর্তমান বিশ্বে সংঘটিত প্রতিটি সংঘাত বা যুদ্ধে যুক্তরাজ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ ও অনুগত সহযোগী। ইঙ্গ-মার্কিন জোটের মূল লক্ষ্য তেলসম্পদ, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র রফতানিসহ ব্যাংকিং সেক্টর কুক্ষিগত করে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। উত্তর সাগরে তেল প্রাপ্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হৃত গৌরব তারা অনেকাংশে ফিরে পেলেও ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতেও কোনো আগ্রাসনে বা যুদ্ধে যুক্তরাজ্য যে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হবে, এটা নিশ্চিত বলা যায়।
ট্রুম্যান ডকট্রিন বিশ্বের চলমান সংকট, আগ্রাসন, দখলদারিত্ব, ধ্বংস ও গণহত্যা সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানা ও বোঝার পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ট্রুম্যান ডকট্রিন বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা, আফগানিস্তানে ইঙ্গ-মার্কিন হামলার সঙ্গে আল কায়দা-তালেবানের সম্পর্ক, ইরাক আক্রমণ ও দখলের পেছনে সাদ্দামের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের সম্পর্ক এবং পাকিস্তানে মার্কিন হামলার সঙ্গে তালেবানদের সম্পৃক্ততার যুক্তি ভিত্তিহীন বলে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয়। বারাক ওবামা নির্বাচনে জয়লাভের পর জনমনে একটি স্বস্তি ফিরে এসেছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সময়ই মনে করিনি, ওবামা ব্যতিক্রম হবেন, যদিও অনেকেই মনে করেন তিনি অন্যান্য প্রেসিডেন্টের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয় ও সহনশীল মনোভাব দেখিয়ে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা কখনোই ব্যতিক্রম হন না। ট্রুম্যান-বুশ ডকট্রিনকে সামনে রেখেই নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এই প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেছিলেন। নোবেল কমিটির মতো বারাক ওবামাও হয়তো মনে করতেন, যুদ্ধ হল শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল সোপান। আর ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুম্যান ডকট্রিনকে ক্ষমতায় তার একশ’ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
যুদ্ধ ও গণহত্যা সম্পর্কে আমি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার বেশকিছু প্রচার মাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি জানার চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সিবিএস, এবিসি, এনবিসি, সিএনএন, ইউএস টুডে, ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতি প্রিয় ফক্স নিউজ ইত্যাদি। বুশের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ওপর প্রচারমাধ্যমগুলোর পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় আমেরিকানদের পাশাপাশি বিশ্বের বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে উসকে দিয়েছিল, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছিল। সেই ধারা এখনও চালু আছে। ‘কমিউনিকেশন স্টাডিজ ও পলিটিক্যাল সায়েন্স’ বিষয়ের অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার এসব প্রচারমাধ্যম গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকে। গবেষকদের কেউ কেউ এসব প্রচারমাধ্যমকে গণতন্ত্রবিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চার্লি রিজ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন সাংবাদিক ও কলাম লেখক। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট দি ওরলান্ডো সেন্টিনেল পত্রিকায় ‘ফেইস ইট : ইউএস ফরেন পলিসি কন্ট্রিবিউটস টু অ্যাক্টস অব টেরোরিজম’ শীর্ষক এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘সাধারণ ভাষায় সন্ত্রাস কোনো ক্রিমিনাল অ্যাক্ট নয়। সন্ত্রাস হল পলিটিক্যাল অ্যাক্ট যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এটি এমন এক ধরনের যুদ্ধ যা এমনসব লোকজন দ্বারা পরিচালিত, যারা বিধিসম্মতভাবে সেনাবাহিনী রাখতে অক্ষম এবং তাদের লোকবল এমন বড় নয় যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের সঙ্গে লড়তে পারে। সুতরাং একজন সন্ত্রাসীকে ধরে আটক করা সমস্যার কোনো সমাধান নয়। একজন সন্ত্রাসীকে ধরা হলে বা হত্যা করা হলে অন্য দু’জন তার স্থান পূরণ করে নেবে। যেহেতু সন্ত্রাস রাজনৈতিক সমস্যা, এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবে হতে হবে। সন্ত্রাস এমনিতেই বন্ধ হয় যাবে যদি সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী নীতি পরিহার করা যায়।’ চার্লি রিজ তার লেখায় অন্যত্র প্রশ্ন রেখেছেন, ‘ইরানিরা আমাদের ঘৃণা করে কেন? ১৯৫০ সালে আমরা একজন বৈধ সরকারকে উৎখাত করে একজন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসককে ইরানের মসনদে বসাই। এই স্বৈরশাসককে আমরা তিন দশক ধরে সমর্থন দিয়ে গেছি, যার হাতে অসংখ্য ইরানি নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে। একজন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের জুলুম-নির্যাতনের শিকার কোনো মানুষ তারপরও কেন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করবে না?’
২০০৭ সালের ৫ মে রিজ অন্য একটি নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘আমরা কেন ইরাকে যুদ্ধ বাঁধালাম? কারণ প্রেসিডেন্ট বুশ সাদ্দামকে ঘৃণা করতেন, কারণ ইসরাইলি লবি আমাদের যুদ্ধ বাঁধাতে বলেছিল, বাতিকগ্রস্ত নিউ কনজারভেটিভরা কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে ভেবেছিল, দেশটিতে বন্দুকের নলের সাহায্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং তেল কোম্পানি ও অন্য কর্পোরেশনগুলো তেলের লিপ্সা সামলাতে পারছিল না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আসল কথা হল বুড়ো লোকগুলো যুদ্ধ বাধানোর হুকুম দেয় কিন্তু যুদ্ধ করে না। যুদ্ধ করে অল্প বয়স্করা।’
বেলজিয়ামের রাজা একসময় বলেছিলেন, ‘একজন মানুষ তৈরি করতে ২০ বছরের শান্তি প্রয়োজন। কিন্তু তাকে ধ্বংস করতে ২০ সেকেন্ডের যুদ্ধই যথেষ্ট। একটু ভাবুন, এই যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীরা কত প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমান, স্বাস্থ্যবান, জ্ঞানী, শিক্ষিত। এদের প্রচুর সাফল্য রয়েছে। অথচ কয়েক সেকেন্ডের যুদ্ধ এদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে রক্ত-মাংসের জড়পিণ্ডে পরিণত করে দিচ্ছে। যারা মারছে বা যারা মারা যাচ্ছে- সবাই অপরিচিত। কেউ কাউকে চেনে না। এ হল যুদ্ধ।’
বিশ্বের লাখো কোটি মানুষ এসব অন্যায়-অযৌক্তিক যুদ্ধ চায় না। চলমান সব যুদ্ধই খারাপ যুদ্ধ। শুধু আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্যই এ যুদ্ধ। ইরাক যুদ্ধের সময় অসহায় সিন্ডি শিহান বহুদিন ধরে যুদ্ধের বিরোধিতা করে জনমত গঠনে তৎপরতা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হল, তার ছেলে অকারণে মারা গেছেন। তিনি এখনও জানেন না তার ছেলের জীবনদানের সার্থকতা কোথায়। এর উত্তর তিনি এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
জিমি কার্টার বলেছেন, যুদ্ধে কোনো কোনো সময় প্রয়োজনীয় মন্দকাজ হতে পারে। কিন্তু যতই প্রয়োজনীয় হোক না কেন, যুদ্ধ সবসময় অতি মন্দ। যুদ্ধ কোনোকালেই ভালো নয়। একে অপরের শিশুকে হত্যা করে কীভাবে আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করব তা আমরা শিখব না।
জন এফ কেনেডি বলেছিলেন, মানবসভ্যতাকে যুদ্ধ খতম করতে হবে অথবা যুদ্ধই মানবসভ্যতাকে খতম করে দেবে।
আমরা খুব সম্ভবত দ্বিতীয় পথেই এগোচ্ছি। এই পথ মুক্তির পথ নয়। এই পথ ধ্বংসের পথ।
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
drmuniruddin@gmail.com





« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com