Friday, 24 November, 2017, 11:36 AM
Home বিবিধ
বোধোদয়!
আসিফ আহমেদ
Published : Sunday, 30 April, 2017 at 5:48 PM, Count : 21
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ একটি খবর প্রকাশ করেছিল এভাবে : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ 'বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধু' সম্মাননা পদক প্রদান করবেন পাঁচজন বিশিষ্ট পাকিস্তানিকে, যারা ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ব্যক্ত করেছিলেন তাদের সমর্থন। যাদের উত্তরাধিকারের হাতে এ সম্মান তুলে দেওয়া হবে তারা হলেন_ কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, কবি হাবিব জালিব, বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ওয়ারিস মীর, বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতা মীর গাউস বক্স বেজেঞ্জো এবং আইনজীবী মালিক গোলাম জিলানি। ঢাকায় ২৪ মার্চ এক অনুষ্ঠানে এ সম্মানসূচক পদক হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ খচিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের এ পদক গ্রহণ করবেন ফয়েজ আহমদের কন্যা সালিমা হাশমি, মালিক গোলাম জিলানির কন্যা আসমা জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক ওয়ারিস মীরের সন্তান হামিদ মীর, গাউস বক্স বেজেঞ্জোর পুত্র হাসিল বেজেঞ্জো এবং হাবিব জালিবের কন্যা (তার নাম প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি)।

এ পুরস্কার প্রদানের পর চার বছর এক মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রায় সাড়ে চার দশক পর শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশি আমাদের পাশে ছিলেন তাদের সম্মাননা প্রদান করে। তাদের মধ্যে সর্বমোট ১২ জন ছিলেন পাকিস্তানি। সম্মাননা প্রদান শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দিয়ে। এরপর ক্রমে আরও অনেককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ থেকে বয়স্ক ব্যক্তিরা এ সম্মান গ্রহণ করেন। যারা জীবিত নেই কিংবা বিভিন্ন কারণে আসতে পারেননি তাদের হয়ে পুত্র, কন্যা, স্ত্রী কিংবা অন্য কেউ এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মীরও তার পিতার হয়ে তা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় এক সময়ে নিয়মিত কলাম লিখেছেন। আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন যখন পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের পাহাড়ে পালিয়ে তার সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন অতি সঙ্গোপনে, তখন হামিদ মীর তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। কিছুদিন আগে তার ওপরেই সন্ত্রাসী হামলা হয় এবং ধারণা করা হয় যে, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা তাদের হয়ে কাজ করা কোনো ধর্মান্ধ উগ্রপন্থি গোষ্ঠী রয়েছে এর পেছনে। গত বৃহস্পতিবার হামিদ মীর একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার পিতাকে যে সম্মাননা প্রদান করেছেন সেটা তিনি ফিরিয়ে দেবেন। কারণ শেখ হাসিনার এ কাজ প্রতারণা বৈ কিছু নয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায় এবং এ কারণেই এ সম্মাননা প্রদান করছে বলে আমাকে জানানো হয়। কিন্তু পরে আমি দেখেছি যে, শেখ হাসিনা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত না করে বরং অবনতি ঘটাচ্ছেন। তিনি এমনকি পাকিস্তানে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল পাঠাতেও রাজি হননি।' বাংলায় প্রবাদ আছে_ কিসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি!

হামিদ মীর তার পিতাকে দেওয়া সম্মাননা ফিরিয়ে দিতে গিয়ে কিসের মধ্যে কী নিয়ে এলেন? প্রথমত পিতাকে কেউ সম্মানিত করলে পুত্রের কি অধিকার থাকে তা ফিরিয়ে দেওয়ার? শেখ হাসিনা কিংবা বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা এবং সে সময়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার যারা নিন্দা করেছিলেন তাদের কয়েকজনকে সম্মানিত করেছিলেন। এর সঙ্গে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত বা ক্ষুণ্ন করার সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন হামিদ মীরের এমন মিথ্যাচার? ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধর্ষণের কঠোর নিন্দা করেছিলেন তার পিতা। তিনি কি এখন বলবেন, আমার পিতা যা লিখেছিলেন সেটা আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি?







« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com