Sunday, 19 November, 2017, 3:25 AM
Home নগর জীবন
সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে বাস মালিকদের বাধ্য করুন
ইমরুল কায়েস লিখেছেন যুগান্তরে
Published : Friday, 28 April, 2017 at 3:10 PM, Update: 30.04.2017 6:22:14 PM, Count : 71
রাজধানীতে সব গণপরিবহন লোকাল চলবে এমন ঘোষণা দেয়ার চার দিনের মাথায় পিছু হটেছে বিআরটিএ। ১৯ এপ্রিলের বৈঠক থেকে বিআরটিএ এবং মালিক সমিতি সব বাস লোকাল চালানোর পূর্ব ঘোষণা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করে। অর্থাৎ রাজধানীতে আগের মতোই সিটিং ও লোকাল সার্ভিস বলবৎ রয়েছে। অভিযোগ আছে, এ নাটক করে আইনের মাধ্যমে সিটিং সার্ভিসের বৈধতা আদায়ে তৎপর মালিকরা। কারণ গণপরিবহন অধ্যাদেশে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের কোনো ব্যবস্থা নেই। সিটিং সার্ভিস হলে মালিকদেরই লাভ। তাতে আয় বেশি। যেমন ধরুন, কেউ মিরপুর-১২ থেকে সিটিং সার্ভিসে ফার্মগেট এলে ভাড়া ১৫ টাকা, আবার শেওড়াপাড়া থেকে এলেও একই ভাড়া। উপরন্তু মিরপুর-১২ বা ১১ থেকে শেওড়াপাড়া বা আগারগাঁও পর্যন্ত যাত্রী এনে তার কাছ থেকেও ভাড়া আদায় করা হয়। ওই যাত্রী নামলে আবার একই সিটে আরেকজন যাত্রী তুলে সিটিং ভাড়া নেয়া হয়। অর্থাৎ এক সিটে দু’বার ভাড়া আদায় করা যায়। ফলে এতে অবশ্যই মালিকের লাভ। আবার সিটিং বললেও আদতে কোনো বাসই সিটিং থাকে না। অতিরিক্ত কিছু যাত্রী নেয়া হয় এবং তাদের কাছ থেকেও সিটিং ভাড়া আদায় করে রীতিমতো চিটিং করা হয়। এ জন্যই মালিকরা মুখে বললেও লোকালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়নি।
আবার এমন অভিযোগও আছে, মালিকরা বাসভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা হিসেবে লোকাল সার্ভিসের নামে এমন নাটক করেছে। এ ক্ষেত্রে আমলাদের কেউ কেউ সহযোগী হয়েছে তাদের। এর আগেও নানা ছলছুতোয় এভাবে ভাড়া বাড়িয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। যদি এ খবর সত্যি হয় তাহলে জনসাধারণের জন্য যে আরও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে তা বলে বোঝাতে হবে না। মালিকরা জানেন, তাদের এই কারসাজি নিয়ে গণমাধ্যম কয়েকদিন সরব থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে ইস্যুটি হারিয়ে যাবে। তখন তারা ইচ্ছামতো তাদের ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। আর জনগণও কয়েকদিন হইচই করে ভোগান্তি পোহাতে পোহাতে তাদের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেবে। মেনে নেয়া ছাড়া গত্যন্তরও থাকবে না ভুক্তভোগীদের। কাহাতক আর প্রতিদিন ভাড়া নিয়ে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে গ্যাজ গ্যাজ করা যায়!
ঢাকাসহ সারা দেশের গণপরিবহনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে খবর বেরিয়েছে গণমাধ্যমে। প্রভাবশালীদের কেউ কেউ সরকারের অংশ। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিরাই পেছন থেকে পরিবহন সেক্টরের কলকাঠি নাড়েন। তাদের বাধার কারণে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে না। এই যেমন, রাজধানীতে লোকাল সার্ভিসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের বাধার কারণে আবার বিআরটিএ বা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়কে পিছু হটতে হল। মূলত এই সিন্ডিকেটের কাছে মন্ত্রণালয়ও অসহায়, যা গত ১৮ এপ্রিল সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কেউ নানা অজুহাতে যদি গাড়ি না চালায়, আমরা কি আমাদের দেশের বাস্তবতায় জোর করে গাড়ি নামাতে পারব? আর গাড়ির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা খুব সামান্য মানুষ না, তারা অনেকেই খুব প্রভাবশালী। সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর এসব কথা থেকে বোঝা যায় কতটা ভয়ঙ্কর এই সিন্ডিকেট। এরা সরকারকেও পরোয়া করতে চায় না। নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তারা বাস ধর্মঘটের ডাক দিতেও পিছপা হয় না, যা অতীতে দেখা গেছে।
তবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর এমন কথাবার্তা জনগণ শুনবে কেন? কেন তারা মেনে নেবে? জনগণ তো আর লোকাল সার্ভিস করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং তার মন্ত্রণালয়ই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করতে না পেরে পরিবহন খাতে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এখন যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সরে আসে অর্থাৎ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে ব্যর্থতা বা দায় মন্ত্রীর কাঁধেই বর্তাবে। সুতরাং সঠিক কাজটি হবে যত বড় সিন্ডিকেটই হোক না কেন, তার মূলোৎপাটন করা। সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে সবাইকে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়া উচিত। যেসব মালিক বা কোম্পানি সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের রুট পারমিট বাতিল বা প্রয়োজনে মামলাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
: সাংবাদিক
kayeshdu@gmail.com









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com