Sunday, 19 November, 2017, 3:22 AM
Home আইন-আদালত
তামাক পণ্যে সতর্কবাণী বাস্তবায়নে বাধা
সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান
Published : Friday, 28 April, 2017 at 3:10 PM, Update: 30.04.2017 6:25:37 PM, Count : 58
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯ মার্চ ২০১৬ থেকে বাংলাদেশে সব তামাক পণ্যের প্যাকেট-কৌটার ৫০ শতাংশজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুুদ্রণ শুরু হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্যাকেট বা কৌটার ওপরের ৫০ শতাংশে মুদ্রণের বিধান রয়েছে। তবে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপে আইন মন্ত্রণালয় প্যাকেটের নিচের অংশে সতর্কবাণী মুদ্রণের পক্ষে মত প্রদান করে। সে অনুযায়ী ১৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালের জন্য প্যাকেটের নিচের অংশে সতর্কবাণী মুদ্রণ করা যাবে বলে জানায়।
পরবর্তীকালে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষে বেসরকারি সংস্থা উবিনীগ, প্রজ্ঞা এবং প্রত্যাশা এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন করলে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে হাইকোর্ট তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ সংক্রান্ত 'গণবিজ্ঞপ্তি' প্রকাশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এই রুলের জবাব দিতে স্বাস্থ্য সচিব, আইন সচিব এবং এনটিসিসির সমন্বয়কারী- এই তিনজন বিবাদীকে ২ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনটিসিসি এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলোর সুচতুর পরিকল্পনায় নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান 'অ্যাশ বাংলাদেশ' (অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথ বাংলাদেশ) জানুয়ারি ২০১৭-তে একটি রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট আগের সব কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত 'গণবিজ্ঞপ্তি' অনুযায়ী সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ বহাল রাখার আদেশ প্রদান করেন। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের অভাবে হাইকোর্ট গত ১৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে 'অ্যাশ বাংলাদেশ'-এর রিট আবেদনটি খারিজ করে দিলেও এনটিসিসি কর্তৃক প্রকাশিত 'গণবিজ্ঞপ্তি' অবৈধ ঘোষণার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলো আইন অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন করছে কি-না তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে আইন বাস্তবায়নে সহায়তা করার লক্ষ্যে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো ৪-৭ এপ্রিল ২০১৬ (প্রথম পর্যায়) এবং ১৬-২৩ নভেম্বর ২০১৬ (দ্বিতীয় পর্যায়) দুই দফায় ৮টি বিভাগীয় শহরে কমপ্লায়েন্স সার্ভে পরিচালনা করে। দ্বিতীয় পর্বের জরিপে পাওয়া ফলাফলে দেখা গেছে, ৯২.০৭ শতাংশ তামাক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ সংক্রান্ত শতভাগ কমপ্লায়েন্স অনুসরণ না করেই তামাক পণ্য বাজারজাত করছে। সামগ্রিকভাবে সচিত্র সতর্কবাণী বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তামাক পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ এমন একটি কার্যকর পন্থা, যা তামাক ব্যবহারের সময় একজন ব্যবহারকারীকে প্রতিবারই তামাকের ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা প্রদান করতে থাকে। এ কারণেই তামাক কোম্পানিগুলো এটি বাস্তবায়ন না করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। বাংলাদেশে এ উদ্যোগটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এ দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক উল্লেখযোগ্য অংশ লেখাপড়া জানে না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক পণ্যের প্যাকেটের নিচের অংশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের ফলে এর কার্যকারিতা অনেকাংশেই নষ্ট হয়।
গ্গ্নোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে, ২০০৯ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করে, যার মধ্যে ২৩ শতাংশ (২ কোটি ১৯ লাখ) ধূমপায়ী এবং ২৭.২ শতাংশ (২ কোটি ৫৯ লাখ) ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দেশের প্রায় ৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তামাক পণ্য ব্যবহার করে (গ্গ্নোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৩)। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মানুষ অকালমৃত্যুবরণ করে (আইএইচএমই, ২০১৩)।
সুতরাং আইন অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নের স্বার্থে 'গণবিজ্ঞপ্তি' বাতিল এবং শতভাগ তামাক পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করবে।

গবেষণাপ্রধান, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)
rahman_s_m@yahoo.com










« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com