Sunday, 19 November, 2017, 3:17 AM
Home
শরণার্থীর ধূসর পৃথিবী এবং পোপের আহত বিবেক
আবদুল লতিফ মাসুম লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Friday, 28 April, 2017 at 3:10 PM, Count : 32
বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে পৃথিবী। যুদ্ধ-বিগ্রহ, গোষ্ঠী কলহ, রাজনৈতিক সহিংসতা, ধর্মীয় সংঘাত এবং নানা মাত্রার মানবতা-বিরোধী অপরাধে ক্ষতবিক্ষত পৃথিবী। নিজ বাসভূম থেকে পরবাসী ফিলিস্তিনি জনগণ। ক্ষমতার রক্তাক্ত যুদ্ধে গরিষ্ঠ সিরীয় জনগণ দেশত্যাগী। আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া এবং কোরীয় উপদ্বীপ যুদ্ধ অথবা যুদ্ধ উন্মাদনায় উন্মত্ত ও উত্কণ্ঠিত। আফ্রিকার দেশগুলো গোষ্ঠী কলহে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করছে। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ধর্মের জিকিরে হত্যা করা হচ্ছে মানবতা। সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অশান্ত পৃথিবী। উন্নত সভ্যতার দাবিদার ইউরোপ ও আমেরিকায় চরমপন্থার প্রকাশ ও প্রভাব পৃথিবীর অব্যাহত শান্তির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পৃথিবী নামক এই গ্রহ রীতিমতো রাহু গ্রাসে নিপতিত। এমতাবস্থায় পৃথিবীর অধিবাসীরা নিরাপদ নয় নিজ সীমানায়। শক্তি প্রয়োগে তাদের ‘মানচিত্র খামচে ধরেছে সাম্রাজ্যবাদ’। বড় বড় বোমার আঘাতে নিত্যদিন মৃত্যুবরণ করছে মানুষ। তাই মানুষ ছুটছে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে তারা। সাগর থেকে সাগরে, এক সীমান্ত থেকে আর এক সীমান্তে, এক স্টেশন থেকে আর এক স্টেশনে ঘুরপাক খাচ্ছে এসব মানুষ। পৃথিবীর কিতাবি খাতায় তাদের নাম ‘শরণার্থী’। শরণার্থী শব্দটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছিল প্রতিবেশী ভারতে। সুতরাং, আজকে যখন আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া মাইনর এবং ভূ-মধ্যসাগরে শরণার্থীর দুর্দশা তখন বাংলাদেশের মানুষেরা ‘শরণার্থী’র দুঃখ-কষ্ট সহজেই ধারণ করতে সক্ষম। বর্তমান শরণার্থীময় পৃথিবীর ‘দুঃসহ কণ্টক যাতনার কথা’ স্মরণ করেছেন রোমান ক্যাথলিকদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ইউরোপের দেশগুলোর শরণার্থী কেন্দ্রগুলোকে ‘নির্যাতন শিবির’-এর সাথে তুলনা করেছেন তিনি।

‘নির্যাতন শিবির’-এর কথা বলতে পোপ ফ্রান্সিস স্মরণ করেছেন সেই দুঃসহ স্মৃতি যেখানে হিটলার দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে ইহুদিসহ বিরুদ্ধবাদীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন। নির্যাতন শিবির বলতে আরো বোঝায় সোভিয়েত লৌহ শাসনে অনুরূপ ‘গুলাগ’ নামের নিপীড়ন কেন্দ্রগুলোকে। পোপের এই তুলনার যথার্থতা এই যে ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য তথা পৃথিবীর অন্যত্র থেকে যেসব লোকজন গেছে তাদের সাথে ‘নির্যাতন শিবির’মূলক আচরণ করছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, উন্নত সভ্যতার দাবিদার এসব ইউরোপীয় অমানবিক ও অপরাধমূলক আচরণ করছে। তাদের কাউকে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নারীদের প্রতি যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে তাঁবুর নিচে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে বসবাস করছে তারা। অনাহারে, অর্ধাহারে দিন গুনছে তারা। ঠাসাঠাসি করে পশুর মতো জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। সেখানে নেই যথার্থ পয়ঃনিষ্কাশন ও শৌচাগার ব্যবস্থা। সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে, ইঁদুর কামড়াচ্ছে শিশুদের। অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে—তুষার ঝড়ে লণ্ড-ভণ্ড সেসব শরণার্থী শিবির। নেই জীবনের নিরাপত্তা, নেই সেখানে দেখভাল করার কোনো কর্তৃপক্ষ। পোপ নিজেই স্মরণ করেন নিপীড়নের কথা। গত ২২ এপ্রিল রোমের গির্জা পরিদর্শনে গিয়ে পোপ সেখানকার শরণার্থীদের তার গত বছরের গ্রিক দ্বীপ লেসবস পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করেন। পোপ বলেন, ‘সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এক শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন যার স্ত্রী খ্রিষ্টান হওয়ার কারণে জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে। আর সেই হতভাগ্য শরণার্থী জীবন আশঙ্কায় ভীতির মধ্যে বসবাস করছে। জানি না ঐ ব্যক্তি নির্যাতন কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে পেরেছিল কিনা’। স্মরণ করা যেতে পারে যে, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে অস্বীকার করে। কারণ, তারা মুসলমান। তারা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় দেশগুলোর এ ধরনের আচরণে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। তারা যুক্তি দেখান, যে ইউরোপ সভ্যতার সূতিকাগার বলে পরিচিত এবং যেখানে রাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদের আদর্শ অনুসরণ করছে, সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান উদ্বেগজনক। এই পর্যবেক্ষক মহল ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস, ইতালি প্রভৃতি দেশে চরম মুসলিম-বিদ্বেষী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অনুসৃত ইউরোপীয় মানবিকতার চেতনাবিরোধী বলে বর্ণনা করেন। শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর জন্য পোপ ইউরোপের দেশগুলোকে ধন্যবাদ দেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, মানবিকতার চেয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে তার মনে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘উদার যেসব মানুষ শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে তাদেরকে এই অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হবে’। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ইতালির প্রতিটি পৌরসভা মাত্র দুইজন করে শরণার্থী গ্রহণ করলে সব শরণার্থীরই স্থান সংকুলান হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, শরণার্থী যার অধিকাংশ মুসলমান তাদের প্রতি এরকম সহানুভূতিশীল মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইহুদি সমাজ। আমেরিকান ইহুদি কমিটি পোপের এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে— ‘নির্যাতন শিবির’—এই দুঃখজনক কথাটি উচ্চারণ করার আগে তার আর একবার ভাবা উচিত ছিল। কারণ, নির্যাতন শিবির কথাটি সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নািস ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’-এর দুঃসহ স্মৃতিই মনে করিয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ের শরণার্থী এবং অভিবাসীদের গমনাগমন গোটা পৃথিবীকে আন্দোলিত করেছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, শরণার্থী এবং অভিবাসীদের মধ্যে গুণগত ও মাত্রাগত পার্থক্য রয়েছে। শরণার্থী তারাই যাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হওয়ায়, ঘর-বাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি পরিত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করেছে। শরণার্থীরা রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে নিজ সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পড়ে। তারা জীবন, সম্পদ ও সম্মান হারানোর ভয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করে। অপরদিকে, অভিবাসী তারা যারা স্বেচ্ছায় উন্নততর জীবন, শিক্ষা সুবিধা ও সমৃদ্ধ জীবন যাপনের জন্য অন্যদেশে বৈধ অথবা অবৈধভাবে গমন করে। মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থ-সুবিধার জন্য এরা অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে যায়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে একই দেশের অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের গণ্য করা হয়নি। সাম্প্রতিককালে শরণার্থী তথা অভিবাসীদের সমস্যা এতটা ব্যাপক ও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, জাতিসংঘ প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা পৃথিবীতে এদের সংখ্যা দুই কোটি ৪৪ লাখ। এরা সমগ্র জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৩ ভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে গরিষ্ঠ শরণার্থী/অভিবাসীবৃন্দ সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান প্রভৃতি যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলিম দেশ থেকে পাশ্চাত্য বিশেষত ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী হয়েছে। অন্যদিকে, স্বাভাবিক সময়ে সুবিধার জন্য যেসব দেশ থেকে লোকজন উন্নত দেশে পাড়ি জমায় তাদের শীর্ষে রয়েছে ভারত। এর পরে অবস্থান মেক্সিকো, রাশিয়া, চীন এবং বাংলাদেশের। বাংলাদেশের ৭২ লাখ লোক পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। শরণার্থীরা ইউরোপের যেসব দেশে ভূমি-সংলগ্নতার কারণে ভিড় জমিয়েছে সে সব দেশ হলো: গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, অষ্ট্রিয়া ইত্যাদি। অপরদিকে সম্পদ সুবিধার কারণে অভিবাসীদের প্রিয় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের স্থান রাশিয়া, সৌদি আরব এবং ব্রিটেনের। স্মরণ করা যেতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের জন্মস্থান দেশের বাইরে। শুধু আমেরিকা নয়, পৃথিবীতে আরো অভিবাসী রাষ্ট্র রয়েছে। উপসাগরীয় দেশ বলে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত প্রভৃতি দেশের চারজনের তিনজনই অভিবাসী। পৃথিবীর আরো দুটো অভিবাসী রাষ্ট্র হচ্ছে অষ্ট্রেলিয়া এবং কানাডা। এদের যথাক্রমে ২৮ শতাংশ এবং ২২ শতাংশ নাগরিক অভিবাসী সমৃদ্ধ।

এবার আসা যাক, শরণার্থীদের সংখ্যায়। পৃথিবীর একমাত্র জনগোষ্ঠী ‘ফিলিস্তিন’ যারা শরণার্থী জাতি হিসেবে পরিচিত। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর-এর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা তাদের খোদা নির্দেশিত প্রাচীন ভূমিতে (প্রমিজ্ড্ ল্যান্ড) ফিরে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ১৯১৭-১৯৪৮ পর্যন্ত ইহুদিরা ছলে-বলে-কৌশলে ক্রমাগতভাবে ফিলিস্তিনে বসবাস শুরু করেন। অতি উচ্চমূল্যে আরবদের জমি কিনে নেন। ১৯৪৮ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে নিয়ে আরব দেশগুলো প্রধানত চারটি যুদ্ধ করে যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭ এবং ১৯৭০ সালে। এসব যুদ্ধে পরাজিত হয়ে একরকম গোটা ফিলিস্তিনি জাতি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থী হিসেবে উপস্থিত হয়। ১৯৬০ সালে পৃথিবীতে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী-সংক্রান্ত হাইকমিশনের প্রতিবেদন মোতাবেক, বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৬০ লাখ। বর্তমানে শরণার্থী অঞ্চলগুলো হচ্ছে: সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, উত্তর আফ্রিকা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাই-মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া-ফিলিপাইন প্রভৃতি। সব অঞ্চলই মুসলিমপ্রধান। পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ শরণার্থী হচ্ছে মুসলমান। সাম্প্রতিক সময়ের মতো আর কখনো শরণার্থী সমস্যা এতটা প্রকট আকার ধারণ করেনি। ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরীয় গৃহযুদ্ধ আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে সারা পৃথিবীর শরণার্থীর সংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ সিরীয় সাধারণ মানুষ। এদের সংখ্যা ১২ লাখ ৫০ হাজার। দক্ষিণ আমেরিকার কলাম্বিয়া হচ্ছে আর একটি শরণার্থীপ্রবণ এলাকা। এরা অবশ্য অধিকাংশ দেশের মধ্যেই সীমিত ছিল। অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আশ্রয় নেয়। অবশ্য, ১৯৯০ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং বার্লিন দেয়ালের অবসান হওয়ায় সে সময়ে শরণার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

শরণার্থী সমস্যা ইউরোপকে রীতিমতো আলোড়িত ও আন্দোলিত করছে। সমগ্র ইউরোপের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হচ্ছে— শরণার্থী গ্রহণ-বর্জন বিষয়টি। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীর দরখাস্তকারীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন শরণার্থী সমস্যা সমাধানের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০১৬ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৫ হাজার উদ্বাস্তু গ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শরণার্থী গ্রহণের এটাই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই আশ্রয়প্রাপ্তদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান। এরা সিরিয়া এবং সোমালিয়া থেকে আগত। যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি স্টেটে এদেরকে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। কানাডা শরণার্থী গ্রহণে উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়। জার্মানি মুসলিম শরণার্থীদের বিপুল অংশকে গ্রহণ করে। ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্রের খ্রিষ্ট মৌলবাদী অংশ এর তীব্র বিরোধিতা করে। চলমান সময়ে ফরাসি নির্বাচনে শরণার্থী বিষয়টি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যান্য দেশেও বিষয়টি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম মুসলিম-বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে মার্কিন জনমতকে নিজ পক্ষে টেনে নিতে সক্ষম হন। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসন তথা শরণার্থী বিষয়টি অন্যতম নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। মার্কিন ও ইউরোপীয় জনমত শরণার্থী তথা অভিবাসী ইস্যুকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। রক্ষণশীলরা মনে করে—মুসলিমরা তাদের দেশের শান্তি, স্থিতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান করবে। উদারপক্ষ মনে করে—ক্ষয়িষ্ণু ইউরোপীয় জনশক্তি পরিপূরণে, বৈচিত্র্য সৃজনে এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রে শরণার্থীরা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সভ্যতার সুপ্রভাত থেকে জনশক্তির সংমিশ্রণ ও দেশান্তর সমৃদ্ধ ইতিহাস নির্মাণ করে আসছে। পৃথিবীর ভবিষ্যত্ নির্মাণে মানুষের গমন-প্রত্যাগমন এবং আদান-প্রদান অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

লেখক : প্রফেসর, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

mal55ju@yahoo.com









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com