Sunday, 19 November, 2017, 3:29 AM
Home
ইয়াবার ছোবল এবং আমাদের তরুণসমাজ
মুনীরউদ্দিন আহমদ লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Thursday, 27 April, 2017 at 1:35 PM, Count : 37
গত ১৮ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ‘ইয়াবার সর্বগ্রাসী থাবা’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে আমাদের তরুণসমাজের ইয়াবা আসক্তির এক ভয়ংকর চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘ভয়াল এই মাদকের থাবা আমাদের অনেকখানি গ্রাস করে নিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে জব্দ হয়েছে ৩০ লাখ ইয়াবা। কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন ইয়াবা কারবারির হাতে। নতুন করে গোলাগুলি হয়েছে নাফ নদে ইয়াবা পাচারকারীদের সঙ্গে। এ থেকে স্পষ্ট, ইয়াবা চোরাকারবারিদের বাগে আনতে পারা দূরের কথা, তাদের দৌরাত্ম্য আরো বাড়ছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইয়াবা পাচারের বিরুদ্ধে যে তত্পর, বিপুল পরিমাণে ইয়াবা আটকের ঘটনা তারই প্রমাণ। মাঝেমধ্যেই ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে, আটক হচ্ছে চোরাচালানিদের কেউ কেউ। কিন্তু সীমান্তে এর মূল সরবরাহ লাইনটি ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না, ধরা পড়ছে না দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা মূল হোতারাও। আমাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অভিযান পরিচালনায়ও থাকতে হবে সততা। অতীতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অনেক ঘটনা ধরা পড়েছে। অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তাদের পেশাগত সততা। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আইনের রক্ষকদের ভক্ষক হয়ে ওঠার এমন প্রবণতা কমে আসবে। ’

বাংলাদেশে অতি সম্প্রতি আবারও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইয়াবা। কয়েক দিন ধরেই ইয়াবা নিয়ে চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হচ্ছে পত্রপত্রিকায়। কিছুদিন আগে র‌্যাব ও নারকোটিক কর্মকর্তাদের হাতে ছয় কোটি টাকার ইয়াবাসহ তার ডিলার ও চোরাকারবারির গ্রেপ্তারের খবর পড়েছিলাম। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি কালের কণ্ঠ’র এক সংবাদে বলা হয়েছিল, দেশের ইতিহাসে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের অভিযানে একটি ট্রলার থেকে আটক করা হয় সাড়ে ২৭ লাখ ইয়াবা। গ্রেপ্তার করা হয় ইয়াবা চোরাচালানের দুই হোতাকে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো ৫০ হাজার ইয়াবাসহ আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এই একটি অভিযান থেকে বোঝা যায়, দেশে ইয়াবা আসক্তির পরিমাণ কিভাবে বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে বাড়ছে ইয়াবার চোরাচালান। সংশ্লিষ্ট অনেকেই ধারণা করেন, দেশে প্রতিদিন এক কোটি বা তারও বেশি ইয়াবা প্রবেশ করে।

ইয়াবা মিথাইল অ্যামফিটামিন বা মেথামফিটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে গঠিত একটি মিশ্রণ। ক্যাফেইন আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি বস্তু। চা ও কফিতে ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন মৃদু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম উত্তেজক। তন্দ্রা দূর করার জন্য সাধারণত আমরা ক্যাফেইনসমৃদ্ধ চা বা কফি পান করি। কর্মক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চা বা কফি অনেকের জন্য উপকারী। মিথাইল অ্যামফিটামিন অত্যন্ত শক্তিশালী নেশা সৃষ্টিকারী একটি মস্তিষ্ক উত্তেজক বা উদ্দীপক। থাইল্যান্ডে ইয়াবাকে ক্রেজি মেডিসিন হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইয়াবা উত্পাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এশিয়ানদের কাছেও ইয়াবা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ইয়াবা সাধারণত ট্যাবলেট বা পিল আকারে প্রস্তুত করা হয়। ট্যাবলেটের রং হয় অত্যন্ত উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়। ট্যাবলেট প্রস্তুতে মূলত লাল-গোলাপি ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়। ট্যাবলেটের আকর্ষণ ও কাটতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন রঙের সঙ্গে বিভিন্ন ফলের ফ্লেভার বা সুগন্ধি যোগ করা হয়। ইয়াবা ট্যাবলেটে (আর এবং ডাব্লিউ ওয়াই) লোগো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইয়াবা মুখে খাওয়া হয়। ইয়াবা ট্যাবলেটে প্রায়ই আঙুর, কমলা ও ভেনিলা ক্যান্ডির স্বাদ থাকে বলে ইয়াবা মুখে খাওয়ার ব্যাপারে মাদকসেবীদের আগ্রহ থাকে বেশি। ইয়াবা গ্রহণের আরো একটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে। এ পদ্ধতির নাম চেজিং। এ পদ্ধতিতে ইয়াবা মরফিন বা হেরোইনের মতো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে রেখে মাদকের তলা দিয়ে উত্তপ্ত করা হয়। আগুনের উত্তাপে মাদক গলে যায় এবং বাষ্পে পরিণত হয়। এই বাষ্প মাদকসেবীরা নাক বা মুখ দিয়ে শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে টেনে নেয়। অনেক সময় মাদকসেবীরা ট্যাবলেট ভেঙে পাউডার তৈরি করে নাক দিয়ে শ্বাসের মাধ্যমে সজোরে শরীরের ভেতর টেনে নেয় অথবা এ পাউডার দ্রাবকের সঙ্গে মিশিয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে গ্রহণ করে।

ইয়াবার ইতিহাস অতি পুরনো। এ মাদক প্রথম আবিষ্কৃত হয় জার্মানিতে। অ্যাডল্ফ হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রসায়নবিদদের আদেশ দিয়েছিলেন এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করার জন্য, যা সেনাদের শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে। এতে যুদ্ধরত সেনারা ক্লান্ত না হয়ে বা না ঘুমিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। রসায়নবিদদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার ফলে তৈরি হলো অ্যামফিটামিন। অ্যামফিটামিনের সঙ্গে একটি মিথাইল গ্রুপ যোগ করে এক ধাপ বাড়তি সংশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হলো মিথাইল অ্যামফিটামিন।

অ্যামফিটামিন অত্যন্ত কার্যকর একটি সিমপেথোমাইমেটিক অ্যামিন, যা অ্যাড্রেনার্জিক নার্ভাস সিস্টেমকে উদ্দীপিত বা উত্তেজিত করে। অ্যামফিটামিন ও মিথাইল অ্যামফিটামিন রক্তনালিকে সংকুচিত করে বলে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এসব ড্রাগের কার্যপ্রণালী ও কার্যকারিতা মানুষভেদে বিভিন্ন হলেও সাধারণত ড্রাগগুলোর মূল কাজ হলো মানুষের শরীরের কর্মক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ ওষুধগুলো কিছু ভালো কার্যকারিতার জন্যও ব্যবহার করা হতো। অ্যামফিটামিন গ্রুপের এসব ওষুধ ক্ষুধা কমায় বলে মানুষের খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে স্থূলকায় লোকদের জন্য ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ওষুধগুলো ভালো কাজ করে। নেক্রোলেপসির ক্ষেত্রে অ্যামফিটামিন গ্রুপের ওষুধ এখনো কিছু কিছু ব্যবহৃত হয়। নেক্রোলেপসি হলো এমন এক অবস্থা, যখন মানুষের মধ্যে ঘুমানোর প্রবণতা মারাত্মক বেড়ে যায় বা মানুষ দিনের বেলায় যখন-তখন ঘুমিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেয়।

১৯৭০ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইয়াবা বৈধ ছিল। পেট্রল স্টেশনের আশপাশের দোকানে ইয়াবা কিনতে পাওয়া যেত। কারণ দূর-দূরান্তে গমনকারী লরি ও বাসচালক এ পিল খেয়ে রাতে না ঘুমিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারত। কিন্তু বেশ কিছু ভয়ংকর বাস-ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটার পর ইয়াবা গ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইয়াবা নিষিদ্ধ হলেও ব্যবহার আর বন্ধ হলো না। যা হলো তা আরো ভয়ংকর। ইয়াবা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেল এবং দামও বহুগুণ বেড়ে গেল।

ইয়াবার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ যুবসমাজের জন্য এক ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়াবা গ্রহণের ফলে অভ্যাস তৈরি হওয়া ছাড়াও প্রচণ্ড নেশার উদ্রেক হয়। এ নেশাই মানবদেহের মূল ক্ষতির কারণ। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ইয়াবা গ্রহণ করলে কিডনি ও ফুসফুসের সমূহ ক্ষতি ছাড়াও ধ্বংসের আশঙ্কা থাকে অত্যধিক। ইয়াবা অন্যান্য মাদকের মতোই সৃষ্টি করে হেলুসিনেশন, যার মাধ্যমে দৃষ্টিভ্রমের ফলে মাদকসেবীর মস্তিষ্কে কল্পিত কিছু দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইয়াবা গ্রহণকারীরা প্যারানইয়া বা ভ্রমগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইউফোরিয়া বা আনন্দদায়ক অনুভূতিতে ডুবে থাকে। ইয়াবা গ্রহণের পর মাদকসেবীর মনে হয়, শরীরের চামড়ার নিচ দিয়ে পোকা চলাচল করছে এবং তার ফলে অদ্ভুত এক সুড়সুড়ির সুখ অনুভূত হয়। মাদকসেবীর কাছে এ যেন এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। ইয়াবা যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে বলে সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ করে ইয়াবা প্রত্যাহার করার কারণে প্রচণ্ড বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়। ইয়াবার ভয়ংকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে চরম উত্তেজনা, শরীরের তাপ বৃদ্ধি পাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, অনিদ্রা, হাত-পা কাঁপা, দুশ্চিন্তা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, আক্রমণাত্মক আচরণ ও প্রচণ্ড খিঁচুনির কারণে মৃত্যু হলো অন্যতম। ইনজেকশনের মাধ্যমে ইয়াবা গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি-তে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে সেন্ট্র্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উত্তেজক ও নিস্তেজক ব্যবহার বিপজ্জনক। মস্তিষ্কই হলো আমাদের শরীরের চালিকাশক্তি। মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর ঠিকমতো কাজ করে না। মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কারণে রক্ত চলাচল, শ্বাস-প্রশ্বাস, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা শরীরের বিভিন্ন মেটাবলিক প্রক্রিয়াসহ সুষ্ঠু চিন্তাধারায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। ফলে জীবনের প্রতিটি কার্যক্রমই হয়ে পড়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ করার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় বলে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ অতি সহজে মৃত্যুবরণ করে। এই সর্বনাশা প্রবণতা রোধ করা না গেলে অচিরেই দেশের উন্নয়নে ধস নামবে। নেশাগ্রস্ত রুগ্ণ তরুণরা নানাভাবে সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। ইয়াবা সবচেয়ে ক্ষতিকর মাদক। সারা দেশে এই ইয়াবা সেবন করে কোটি কোটি তরুণ নিজেদের ধ্বংস করছে। আসক্তদের এটি দ্রুত মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। তাদের হিতাহিত জ্ঞান কমে যায়। নেশার অর্থ সংগ্রহের জন্য তারা করতে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। নিজের মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করার মতো ঘটনাও তারা নির্দ্বিধায় করতে পারে। চড়া দামে নিয়মিত মাদক কেনার পয়সা না পেলে মাদকসেবীরা খুনখারাবি, হত্যা, হাইজ্যাক, চুরি-ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। কৃত অপরাধের জন্য তাদের কোনো অনুশোচনা থাকে না। বিভিন্ন অপরাধীচক্র নানা অপরাধ কাজে তরুণ-তরুণীদের নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। ফলে সমাজ কলুষিত হয়, অপরাধ দ্রুত বাড়তে থাকে। আইন-শৃঙ্খলার দ্রুত অবনতি ঘটে থাকে। অন্যদিকে যেকোনো দেশের উন্নয়নে কিংবা উত্পানদশীলতায় তরুণসমাজের ভূমিকাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। নেশাগ্রস্ত তরুণরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উত্পাদনশীলতায় কোনো অবদান রাখতে পারে না। এ কারণে কোনো দেশের যুবসমাজের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যদি ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের আত্মঘাতী নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সে দেশের অগ্রগতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দেশ পিছিয়ে পড়ে। এসব বিবেচনায় নিলে ইয়াবাসহ সব মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ইয়াবাসহ সব রকম মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হবে, বিপর্যস্ত হবে পুরো জাতি।

যুবসমাজের ওপর আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আগে যেমন বলা হয়েছে, কোনো দেশের যুবসমাজ বিপথগামী হলে বা বিপথে চলে গেলে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তাই মাদকের করাল গ্রাস থেকে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকে সচেষ্ট ও ঐকান্তিক আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সবার ছেলে-মেয়েই ভালনারেবল পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। আমরা কেউই চাইব না আমাদের ছেলে-মেয়েরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ুক।

সাধারণত দেখা যায়, ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ধরা পড়লেও অর্থের বিনিময়ে বা প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায়। আর তা না হলে কয়েক বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে যায়। মুক্তি পেয়ে তারা আবার এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংস্কারের মাধ্যমে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে। জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রচুর কারখানা গড়ে উঠেছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব কারখানা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে যৌথ তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য বাহিনীকে চোরাচালান রোধে আরো বেশি কার্যকর করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

drmuniruddin @gmail.com








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com