Sunday, 19 November, 2017, 3:27 AM
Home
তিস্তা দেখতে সিকিমে দিল্লির দল
অমিত বসু লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Thursday, 27 April, 2017 at 1:35 PM, Count : 61
নখ ধারালো হলে খামচিয়ে চামড়া রক্তাক্ত করা যায়। দাঁতের জোর থাকলে কামড়েও দাঁত বসাতে অসুবিধা নেই। পশুর মতো মানুষও এ কাজ করে। দাঁত-নখকে অস্ত্র মনে করে কাজে লাগায়। বিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাজটা সমীচীন না হলেও করে। আক্রোশ প্রকাশের আর কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না। রাজনীতিতে এটা চলে। নেতা-নেত্রীরা না করলেও নিচুতলার ক্যাডাররা এতে অভ্যস্ত। কামড়াকামড়ি, খামচাখামচি চেনা ঘটনা। নেতা-নেত্রীর নখের ব্যবহারও অন্যভাবে, তাঁরা নখ দিয়ে খুঁটে খুঁটে গিঁট খোলেন। শক্ত গিঁট হলে খোলা কঠিন। তবুও চেষ্টা করেন। না খুলে যে উপায় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে চেষ্টাই করছেন, তাঁর দল তৃণমূলে সিবিআইয়ের শক্ত গিঁট। ফাঁপরে এক দঙ্গল নেতা। গিঁট না খুললে তাঁদের মুক্তি নেই। মমতা অভয় দিচ্ছেন, চিন্তা নেই। আমি তো আছি। সে কথায়ই অভিযুক্তদের স্বস্তি। মমতার ওপর তাঁদের অগাধ আস্থা। তাঁরা মনে করেন, মমতা যা পারেন আর কেউ পারেন না। কথায় আছে, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। ’ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চেয়ে বড় কাজ কী হতে পারে? মমতা সে কাজ করলে নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।

প্রশ্নটা আরো গভীরে। মমতা কাদের, কেন মুক্ত করবেন। সিবিআইয়ের এফআইআরে অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রীরা সত্যিই অপরাধী কি না বিচারে সেটা প্রমাণ হবে। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যেই তাঁরা বন্দি। তৃণমূলের দুই সংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাপস পালকে ধরে সিবিআই কলকাতায় রাখেইনি। সোজা নিয়ে গেছে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে। যাতে তাঁদের দল প্রভাব খাটাতে না পারে। কলকাতায় থাকলে সেই সুযোগ তারা পেত। দলের ক্যাডাররা তাঁদের মুক্তির দাবিতে ঝড় তুলতে পারত। নৈরাজ্য সৃষ্টি করত। সেসব কিছু হচ্ছে না। কলকাতা শান্ত। নির্জনে অসহায় দিনযাপন সুদীপ-তাপসের। তাঁরা অসুস্থ। মমতা তাঁদের দেখতে গিয়ে সাহস জুগিয়েছেন। বলেছেন, ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে। এটা বলতে হয় তা-ই বলা, না এর মধ্যে কোনো সত্যি আছে। মাসের পর মাস চেষ্টা করেও তিনি গিঁট খুলতে পারেননি। দুই নেতাকে খালাস করে ঘরে ফেরাতে ব্যর্থ। তাহলে তাঁর নখে কি আর জোর নেই।

সারদা, রোজভ্যালি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, নারদা ঘুষকাণ্ডে লণ্ডভণ্ড তৃণমূল। প্রথমটায় মমতা চেঁচিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন। সেটা হয়নি। উল্টো গিঁট আরো শক্ত করে চেপে বসেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই নারদা ঘুষকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি ছিল, ঘুষকাণ্ডের ফুটেজ মিথ্যা। যা দেখা যাচ্ছে সব নকল ছবি। তৃণমূল নেতাদের গায়ে অহেতুক কাদা ছোড়ার চেষ্টা। হাইকোর্ট খতিয়ে দেখে জানিয়েছেন, ফুটেজ ঠিক। ছবি নকল নয়, সত্যি। হাইকোর্টের রায়ের পর আর তো কিছু বলা চলে না। সুপ্রিম কোর্টে গেলেও ফল পাল্টাবে না। হাইকোর্টের বিচারে যা প্রকাশিত, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কী লাভ।

সারদা কেলেঙ্কারির ফাঁসে আটকেই তৃণমূলের সাবেক সংসদ সদস্য কুনাল ঘোষ স্বীকার করেছিলেন, তৃণমূল দাঁড়িয়েছে সারদার টাকার জোরে আর মমতার বেপরোয়া রাজনীতিতে। কুনাল আর সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র জামিন পাওয়ার পর চুপচাপ আছেন। মমতা তাঁদের মাথা ঠাণ্ডা রাখতে বলেছেন। কুনাল রাস্তা বদলেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ৯৩ পাতার চিঠি লিখে সারদা কেলেঙ্কারির বৃত্তান্ত জানিয়েছেন। মোদির দিকেই তিনি হাঁটছেন। মমতার থেকে দূরত্ব বাড়ছে। এ পর্যন্ত যত কেলেঙ্কারির ফাঁস এঁটে বসেছে, সেটা খুলতে পারেন মোদি। মমতার নখ দিয়ে খোলা যাবে না।

তিস্তা চুক্তির গিঁটটা শক্ত করে এঁটেছেন মমতা। দরকার ছিল না। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের দীর্ঘশ্বাসে তাঁর উল্লসিত হওয়ার কারণ নেই। চুক্তিটা মনে-প্রাণে চেয়েছিলেন মোদি। মুখ পুড়িয়েছেন মমতা। তিনি বারবার উত্তরাঞ্চলে চাষবাসের দোহাই দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে তাঁর রংপুরের অবস্থাটা চোখে দেখে আসা উচিত ছিল। একতরফা সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতা থাকে। মমতা সেটা বুঝেও বুঝতে চাইছেন না। এতে তাঁর কোনো রাজনৈতিক লাভও হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক জমি ক্রমেই বিজেপির দখলে যাচ্ছে। মমতা জোর খাটিয়েও আগলাতে ব্যর্থ।

মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ কালি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে চড়চড়িয়ে ভোট বেড়েছে বিজেপির। ২২ শতাংশ থেকে এক লাফে ৩০.৯৭ শতাংশ ভোট তাদের ঝুলিতে গেছে। তারা পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪৯ ভোট। তৃণমূল জিতে পেয়েছে ৯৫ হাজার ৩৬৯। ভোটকেন্দ্রে তৃণমূল ছাড়া আর কোনো দলের অস্তিত্বই ছিল না। বিজেপির কোনো সংগঠন নেই সেখানে। তবু তাদের এত ভোট পাওয়াটা আশ্চর্যের। তৃণমূল শঙ্কিত। তারা ভাবছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না তো? বাম আর কংগ্রেসের অবস্থা সত্যিই সঙ্গিন, তাদের জামানত জব্দ হয়েছে। সিপিআই পেয়েছে ১৭ হাজার ৪২৩ ভোট। কংগ্রেস দুই হাজার ২৭০ ভোট। তৃণমূলের অন্য কোনো দল নিয়ে ভাবনা নেই। তাদের ঠেকাতে হবে বিজেপিকে।

বিজেপি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের সর্বত্র লাভ কুড়াচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের যে ১০টি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে তার দুটি আসন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন আসনটি ছিল মুখ্য মন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি বা আপের। তাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। রাজস্থানের ঢোমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস রাজত্ব করছিল। তাও গেল। চলে এলো বিজেপির দখলে। বিজেপি নিজেদের আসনগুলো ধরে তো রেখেছে, সেই সঙ্গে অন্যের মুখের গ্রাসও কেড়েছে। উত্তর প্রদেশে বিরোধীদের একবারে নস্যাৎ করার পর উপনির্বাচনেও বিজেপির আধিপত্য বহাল।

সেই দল আপস করে যারা দুর্বল। বিজেপি কেন করবে? তারা তো পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা আঞ্চলিক দলের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মমতার আবদারে সাড়া দেবেন কেন মোদি। তিনি তিস্তা চুক্তি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। দিল্লি থেকে বিশেষ দল পাঠিয়েছেন সিকিমে তিস্তার অবস্থা দেখতে। সমীক্ষক দল রিপোর্ট দিলেই ব্যবস্থা।



লেখক : কলকাতার সাংবাদিক








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com