Sunday, 19 November, 2017, 3:10 AM
Home
গরমে অ্যাসিডিটি দূর করার সাতটি টিপস
মো. সহিদুল ইসলাম লিখেছেন ইত্তেফাকে
Published : Wednesday, 26 April, 2017 at 2:24 PM, Count : 70
গরম শুধু আরামদায়ক জীবন-যাপনেরই ব্যত্যয় ঘটায় না, অনেক স্বাস্থ্য সমস্যারও জন্ম দেয়। পাকস্থলিঘটিত সমস্যাগুলো তার মধ্যে অন্যতম। তাই এই সময়কার খাবার গ্রহণের ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে খুব সতর্ক। পরিহার করতে হবে শারীরিক তাপ ও অস্বস্তি বৃদ্ধিকারক খাবার। বিশেষ করে বিরত থাকতে হবে পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির মতো শারীরিক অস্বস্তি তৈরিকারক খাবার গ্রহণ থেকে। এজন্য আপনাকে আগে জানতে হবে, কোন কোন খাবার আপনার শরীরকে গরমের তীব্রতা ও অ্যাসিডিটির অস্বস্তিদায়ক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। ভারতের ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ মেহের রাজপুত এমনই একটি খাদ্য তালিকার পরামর্শ দিয়েছেন যা অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধে বেশ কার্যকরী।

এক. কলা : পেটে অ্যাসিডিটি তৈরির বিরুদ্ধে জলখাবার হিসেবে গ্রহণ করা কলা হলো সর্বোত্তম প্রতিষেধক। কলাতে বিদ্যমান পটাশিয়াম পাকস্থলিতে তরলজাতীয় এক ধরনের আঠালো পদার্থের সৃষ্টি করে, যা শরীরের পিএইচ (এ্যাসিড ও ক্ষারজাতীয় পদার্থ) স্তরকে সীমিত রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া কলাতে বিদ্যমান আঁশ কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূরীকরণেও বেশ সহায়ক। তবে গরমকালের অ্যাসিডিটি দূর করতে আপনি নিশ্চিতভাবে সেরা খাবার হিসেবে পাকা কলাকে বেছে নিতে পারেন।

দুই. তরমুজ : সাধারণত বাঙ্গি, খরমুজ এবং তরমুজ জাতীয় ফল প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও আঁশ সমৃদ্ধ হয়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝিল্লি পরিষ্কার রাখাসহ পেটের যাবতীয় পীড়া ও অ্যাসিডিটির প্রতিক্রিয়া উপশমে কার্যকরী। তাছাড়া এই ফলগুলো শীতল ও উচ্চ মাত্রায় জলীয় হওয়ার দরুন শরীরকে ডি-হাইড্রেশন মুক্ত রাখতে এবং পিএইচের স্তরকে সীমিত রাখতেও বেশ কার্যকরী। অন্যান্য ফলের মধ্যে আপেল এবং পেঁপেও অ্যাসিডিটির প্রতিক্রিয়া রোধে সহায়ক।

তিন. নারকেলের পানি : নারকেলের পানি শুধু আমাদের সতেজ হতেই সাহায্য করে না, বরং শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতেও এর জুড়ি মেলা ভার। নারকেলের পানির উন্নত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আঁশ হজম প্রক্রিয়ায়ও বেশ উপকারী।

চার. ঠান্ডা দুধ : অ্যাসিডিটির প্রতিক্রিয়া রোধের অন্যতম আরেকটি উপায় হলো দুধ গ্রহণ। পাকস্থলিতে গিয়ে দুধ অ্যাসিডের বৃদ্ধি রোধ করে এবং তা শুষে নেয়। এই কারণে পাকস্থলিতে একদিকে যেমনি এ্যাসিডিটির প্রতিক্রিয়া হয় না, অন্যদিকে হয় না গ্যাস্টিকের অসহনীয় ব্যথার অনুভূতিও। যখনই আপনি বুঝবেন যে আপনার পেটে অ্যাসিডিটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে বা বুক ব্যথা করছে, ঠিক তখনই আপনি কোনো কিছু না মিশিয়ে (এমনকি চিনিও না) খেয়ে নিন শুধু এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ।

পাঁচ. বাটার ও দই : দুধের পাশাপাশি দই ও বাটারের মতো অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারও অ্যাসিডিটি উপশমে সক্ষম। তবে দুগ্ধজাত হলেও পনিরের বিষয়টি এক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়। এই দুগ্ধজাত খাবারগুলো পেট ঠান্ডা রাখে। তাছাড়া এগুলোর মধ্যকার প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বাধা সৃষ্টি করে পেটে অ্যাসিড তৈরিতে। পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়াকেও রাখে বেশ সবল ও কর্মক্ষম। যদি কেউ প্রাত্যহিক খাবারের পর বাটার এবং দই গ্রহণ করে, তবে বর্তমানে তো বটেই ভবিষ্যতেও তার অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে।

ছয়. অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার পরিহার করুন : শুধু গরমেই নয়, সারা বছরই এই ধরনের খাবার আপনাকে পরিহার করতে হবে। বিশেষত গরমের দিনে আপনাকে এই ব্যাপারে অতি মাত্রায় সতর্ক থাকতে হবে। আমরা জানি, গরম বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় পানির সংকট, যার সামগ্রিক প্রভাব গিয়ে পৌঁছায় রান্নাঘর পর্যন্ত। ফলে যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয় না রান্নাঘর। পাশাপাশি রান্না করার আগে যথাযথভাবে ধৌত করা হয় না রন্ধন সামগ্রী ও হাত। আর এই সব কারণে বছরের এই সময়টায় পেটের পীড়া, আমাশয় এবং ডায়ারিয়ার প্রাদুর্ভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সাত. জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খান : গ্রীষ্মকালে প্রায় প্রতিটি ঘরেই বিশেষ করে ফল বিক্রেতাদের আশেপাশে  বেড়ে যায় মাছির উপদ্রব। আর এই সব মাছি বহন করে নানা ধরনের মারাত্মক সব জীবাণু। তাই ঘরের বাইরে জুস খাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে বিষয়টি মাথায় রেখে অবলম্বন করতে হবে বিশেষ সতর্কতা। সর্বোপরি জীবাণুঘটিত সংক্রমণ এড়াতে আপনি ফলকে জুস বা টুকরো করে খাওয়ার পরিবর্তে আস্ত খেতে পারেন। (সূত্র : এনডিটিভির খাদ্য পাতা)

লেখক : সাংবাদিক









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com