Friday, 19 January, 2018, 7:22 PM
Home
‘চোখ থাকিতে অন্ধ হায়রে কপাল মন্দ’
আবুল কাসেম ফজলুল হক লিখেছেন কালেরকন্ঠে
Published : Wednesday, 26 April, 2017 at 2:24 PM, Count : 33
পৃথিবীর যেসব দেশে জঙ্গিবাদী আক্রমণ চলছে সেসব দেশের শাসক শ্রেণির লোকেরা শুধু জঙ্গিবাদীদের দেখছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে আগ্রাসী যুদ্ধবাজদের একেবারেই দেখছে না। যারা শাসক শ্রেণির বাইরে সাধারণ মানুষ-শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত—তাদের দৃষ্টিশক্তিও প্রচারমাধ্যমের কল্যাণে একই রকম শুধু জঙ্গিবাদীদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ, আগ্রাসী যুদ্ধবাজদের ও গণহত্যাকারীদের দেখছে না। জঙ্গিবাদীরা কয়জনকে মেরেছে? যুদ্ধবাজরা কয়জনকে মেরেছে? দুনিয়াব্যাপী শুধু জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সবার লক্ষ্য। যুদ্ধবাজদের শান্তির শত্রু মনে করা হচ্ছে না। সার্বিক দৃষ্টিশক্তির নিদারুণ অভাব দেখে মনে পড়ে জনপ্রিয় সিনেমার গানের কলি—‘চোখ থাকিতে অন্ধ, হায়রে কপাল মন্দ!’ অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, গোটা মানবজাতি যেন চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনী থাকলে, আগ্রাসী যুদ্ধ চললে, গণহত্যা চলতে থাকলে, তেল-গ্যাস, সোনা-হীরা ইত্যাদি খনিজসম্পদ লুণ্ঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তালেবান, আল-কায়েদা, আইএস ইত্যাদি জঙ্গি সংগঠনের উত্থান ও কার্যক্রম বন্ধ হবে না, দুনিয়ায় শান্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে না।

পৃথিবীকে আমরা যদি জঙ্গিবাদমুক্ত দেখতে চাই, তাহলে যুদ্ধমুক্ত দেখতে চাওয়াও কি আমাদের কর্তব্য নয়? গত ১৮ বছরে জঙ্গিবাদীরা গোটা পৃথিবীতে কত লোক হত্যা করেছে? যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো আগ্রাসী যুদ্ধ চালিয়ে এই সময়ে কত লোক হত্যা করেছে? যুদ্ধবাজরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে না গেলে, গণহত্যা চালাতে থাকলে জঙ্গিবাদী উত্থান ও কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে? জঙ্গিবাদীরা কি শুধু বেহেশতে যাওয়ার জন্যই জিহাদ করছে? তাদের কি দুনিয়াদারি বলে কিছু নেই? তারা কি নিজ নিজ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা চায় না?

স্মরণীয় যে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়েছে। তার কিছু আগেই সাম্রাজ্যবাদীরা নব্য উদারতাবাদের ও পরে বিশ্বায়নের নীতি গ্রহণ করেছে। জি-সেভেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। ন্যাটো বাহিনীকে জোরদার করেছে। সমাজতন্ত্রীরা অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতি সাধন করতে না পারার ফলে সমাজতন্ত্র আবেদন হারিয়েছে। ১৯৮০-র দশকে গণতন্ত্রকে উদার গণতন্ত্র বলে অন্তঃসারশূন্য করে শুধু নির্বাচনে পর্যবসিত করা হয়েছে। সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের দুর্গতির মধ্যে মানবজাতি আদর্শগত শূন্যতা, ভোগবাদ, জুলুম-জবরদস্তি, যুদ্ধ ও জঙ্গিবাদের কবলে পড়েছে। আজকের পৃথিবীতে কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক শক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় পুরনো, পরাজিত, অকল্যাণকর সব সংস্কার-বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী হয়েছে। দুনিয়াব্যাপী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রীরা পথহারা। রাজনীতি ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা চরম সুবিধাবাদী-ভোগবাদী লাইন নিয়ে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ব্যর্থ করে চলছে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, মানুষে মানুষে অসাম্য দ্রুত বাড়ছে, অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-জবরদস্তি দ্রুত বাড়ছে, সমাজে মানবীয় সম্পর্ক শিথিল হয়ে চলছে, নারী-নির্যাতন, শিশু-নির্যাতন বাড়ছে, পরিবার ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই-আলোচনা-সমালোচনা নেই। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ আজ ব্যস্ত জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর সাত মাস বাকি। নির্বাচন যেভাবেই হোক, আগামী মেয়াদের জন্য যারাই ক্ষমতায় আসুক, সমাজের নিচের স্তরের ৯০ শতাংশ মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না। তাদের ভালোমন্দ নিয়ে কোনো দলই কিছু ভাবে না। বাংলাদেশে জাতি গঠন ও রাষ্ট্র গঠনের কথাও কেউ ভাবে না। ডানপন্থী-বামপন্থী—সব দলই সাম্রাজ্যবাদের অনুগত হয়ে অন্ধভাবে সব রকম জাতীয়তাবাদী প্রবণতার বিরোধিতা করছে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদ অবলম্বন করে উন্নততর নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা তাদের চিন্তায় আসে না। সর্বজনীন কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক চিন্তাই নেই।

বাঙালি অভিহিত হতো ‘হুজুগে বাঙালি’ বলে। মুক্তিযুদ্ধের পরে স্বাধীন বাংলাদেশেও কি আমরা হুজুগমুক্ত হতে পেরেছি? ‘হুজুগ’ আর ‘গণজাগরণ’ যে এক নয়—এই সহজ কথাটিও কি আমরা বুঝি? আমরাও হুজুগকেই বলি গণজাগরণ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হুজুগের ব্যাপার ছিল না, তখন ছিল মহান গণজাগরণ। পরে ১৯৮০-র দশক থেকে আমরা কি গণজাগরণে আছি, না হুজুগের পর হুজুগে আছি?

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, চলুক। রাজনীতি চলছে কথা চালাচালি অবলম্বন করে। কথা চালাচালিতে একপক্ষ এত প্রবল ও অপরপক্ষ এত দুর্বল যে কথা চালাচালি জমছে না। দুর্বলপক্ষ উঠতে পারছে না। এ ধরনের কথা চালাচালি কি কোনো সুস্থ রাজনীতির পরিচায়ক? নির্বাচন যেভাবে হয়ে আসছে, তার সঙ্গে সংগতি রক্ষা করেই এবারের নির্বাচনও হবে; হঠাৎ অন্য রকম হয়ে যাবে—এমন মনে করার কোনো কারণ দেখি না। যদি কোনো রাজনৈতিক দল ভিন্ন চরিত্র ও প্রবল জনসমর্থন নিয়ে সামনে আসত, শুধু তাহলেই নির্বাচন ও রাজনীতির গতি উন্নতির দিকে যেত। হুজুগের রাজনীতিতে গতানুগতির বাইরে কিছু ঘটার কোনো কারণ দেখি না। কথা চালাচালিতে যে পক্ষ প্রবল, সে পক্ষই হুজুগ তৈরিতে নিপুণ, অপরপক্ষ পারে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, জনসাধারণ ঘুমন্ত। জনসাধারণ জাগ্রত থাকলে তাদের মধ্যে মহৎ মানবিক গুণাবলির প্রকাশ দেখা যেত। সেই বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের কাল থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত তা দেখা গেছে। সেটা ছিল গণজাগরণের কাল।

২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে ‘জনজীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব’ বলে হুজুগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তাতে রক্তারক্তির মধ্যে হুজুগ কি সৃষ্টি হয়েছিল? এবার সহজে হুজুগ সৃষ্টি হবে বলে মনে হয় না। বাস্তব অবস্থা যেমনই হোক, সুষ্ঠু নির্বাচন সবাই চাইছেন, আমরাও চাই। প্রতিবার নির্বাচনকালে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি নিয়ে কারো কোনো উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা যায় না। আমরা প্রাণহানি চাই না।

রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যব্যস্থাকে পরিবর্তন করে উন্নত করতে হবে। তার জন্য ভিন্ন চিন্তা ও ভিন্ন কাজের ধারা সৃষ্টি করতে হবে। যাঁরা স্বল্প সময়ে গুরুতর সব সমস্যার সমাধান আশা করেন, তাঁরা সে ধারার কথা ভাবতে পারেন না। অথচ সর্বজনীন কল্যাণে সে ধারার সূচনা করাই এখন সময়ের দাবি।

ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯) থেকে আজ পর্যন্ত সময়ের মানবজাতির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা আর বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে, সমন্বয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গণতন্ত্রের ধারণাকে পুনর্গঠিত ও নবায়িত করতে হবে। সরকার গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা প্রত্যেক জাতিকে নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী উদ্ভাবন করে নিতে হবে। সর্বজনীন কল্যাণে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সরকারকে কাজ করতে হবে। ভোটাভুটিসর্বস্ব উদার গণতন্ত্রের ধারণা পরিত্যাগ করে সর্বজনীন গণতন্ত্রের ধারণা বিকশিত করে নিয়ে কাজ করতে হবে।

জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদ অবলম্বন করে আন্তর্জাতিক ফেডারেল বিশ্ব-সরকার গঠন করতে হবে। এ ধারায় সব জাতির বিবেকবান চিন্তাশীল ব্যক্তিদের চিন্তা ও বিচার-বিবেচনা দরকার। তার জন্য আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

যে সমস্যাগুলোর কথা উত্থাপন করলাম সেগুলো নিয়ে আমি পাঠকদের অনুসন্ধিৎসা চাই, সক্রিয়তা চাই, কর্মতৎপরতা চাই। পাঠকরা ইট-কাঠ-পাথরের মতো, জড় পদার্থের মতো হয়ে থাকলে পাঠকদের অস্তিত্বের তো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। জনসাধারণ ঘুমিয়ে থাকলে, নিজেদের ভালো নিজেরা না বুঝলে, শুধু হুজুগে মাতলে সেই জনসাধারণের কল্যাণ কে বা কারা সাধন করে দেবে? নবী-রাসুলের আবির্ভাব কি আশা করা যায়? সমাজের ভেতর থেকে জনসাধারণকেই নেতৃত্ব তৈরি করে নিতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের অবসান আমরা চাই। তার জন্য অপরিহার্যভাবে আগ্রাসী যুদ্ধ ও যুদ্ধবাজদের অবসানও আমরা চাই। যারা জঙ্গিবাজদের সমাদর করে, তোয়াজ করে, যুদ্ধবাজদের সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনে জোটবদ্ধ হয়, তাদের কর্মনীতি ও কর্মকাণ্ড দিয়ে কোনোকালেই জঙ্গিবাদের অবসান হবে না—দুনিয়ায় শান্তিও হবে না। যুদ্ধবাজরাই জন্ম দিয়েছে, দিচ্ছে, দেবে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের। এই সহজ ব্যাপারটা বোঝার মতো বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সুধী-সুজন, ডানপন্থী-বামপন্থী রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে অনেক অনুসন্ধান করেও খুঁজে পাই না। তারা যুদ্ধবাজদের প্রতি অনুগত। এটাকে চোখ থাকিতে অন্ধ বলা ছাড়া আর কী বলা যাবে? ‘জ্ঞানপাপী’ বলা যাবে হয়তো। আমার দৃষ্টিতে জঙ্গিবাজদের মতো যুদ্ধবাজরাও মানবতাবিরোধী, অপরাধী।

ভারতের অবস্থাও একই রকম দেখছি। সেখানেও যুদ্ধবাজদের মানবতাবিরোধী চরিত্র বোঝার ও যুদ্ধবাজরাই যে জঙ্গিবাদীদের জন্মদাতা—এটা বোঝার সামর্থ্যসম্পন্ন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। পাশ্চাত্য জগতে কোনো কোনো মনীষীকে যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে বলতে ও লিখতে দেখা যায়। কিন্তু তাঁদের কোনো অনুসারী নেই। বিশ্বায়নের কঠোর সমালোচনা তাঁরা করেন, কিন্তু উন্নততর নতুন কোনো বিশ্বব্যবস্থার চিন্তা তাঁদের নেই।

বিভিন্ন দেশের সরকার নানা জটিল পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ। ফলে আমরা যে ধারায় চিন্তা করছি সে ধারায় তারা চিন্তা করতে পারবে না। অভিপ্রেত কর্মনীতিও তারা অবলম্বন করতে পারবে না। যাঁরা এনজিও ও সিএসওতে সংগঠক ও কর্তা, তাঁরাও এ ধারায় চিন্তা করতে পারবেন না, কাজও করবেন না। কারণ তাঁরা সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে অর্থের বন্ধনে বাঁধা। কিন্তু এসবের বাইরে কোনো বৌদ্ধিক শক্তি, কোনো রাজনৈতিক শক্তি কি নেই, যারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করে কাজ করতে পারে? স্বাধীন চিন্তাশীলতা নিয়ে চলা, কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। তার পরও একটি রাজধানীতে একটি দেশে তেমন লোক কিছু থাকে। ঢাকার, বাংলাদেশের অবস্থাটা কী? এখানে তেমন লোক কি কেউ কেউ আছেন? বিগত একুশের বইমেলায় তিন হাজার ৪৬০টি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে বাংলা একাডেমি তথ্য দিয়েছে। এই এত বইয়ের মধ্যে সুস্থ স্বাধীন চিন্তাশীলতার, প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির ও অভীষ্ট উন্নততর বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা কয়টি বইয়ে আছে?

বাস্তবতা যতই প্রতিকূল হোক, তবু মনে করি, ঢাকা থেকে যদি আমরা দাবি তুলতে পারতাম—‘মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো থেকে সব বিদেশি সৈন্য সরিয়ে নাও, যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করো, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার শর্ত তৈরি করো’—তাহলে মানবজাতির জন্য এর সুফল দেখা দিত। এক দিনের আন্দোলন নয়, অব্যাহত গতিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে কলকাতায়, মাদ্রাজে, মুম্বাইয়ে, দিল্লিতে, করাচিতে, ইসলামাবাদে, কলম্বোতে, জাকার্তায়, চীনে, জাপানে, ক্রুশিয়ায়—আফ্রিকার সব দেশে। তারপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ত ইউরোপ-আমেরিকায়। সবচেয়ে বড় সমাবেশ ও মিছিল হতো নিউ ইয়র্কে, ওয়াশিংটনে, লন্ডনে, প্যারিসে, মস্কোতে, পেইচিংয়ে—দুনিয়াজুড়ে। তখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ন্যাটো জোট তাদের সৈন্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতো। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে বিদেশি সেনা ও গণহত্যা না থাকলে জঙ্গিবাদীরাও আর আত্মপ্রকাশ করত না। পৃথিবীতে শান্তি ও প্রগতির শর্ত তৈরি হতো। ক্রমে অপশক্তি পরাজিত ও শুভশক্তি জয়ী হতো। শুভশক্তিকে টিকে থাকার জন্য অপশক্তির সঙ্গে সংগ্রাম ও জয়ী থাকার কর্মনীতি নিয়ে যেতে হতো।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com