Friday, 19 January, 2018, 7:25 PM
Home
মূসক হোক ১০ শতাংশ
আনোয়ার ফারুক তালুকদার লিখেছেন সমকালে
Published : Wednesday, 26 April, 2017 at 2:24 PM, Count : 41
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ৫০ ভাগের বেশি আসে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক থেকে। করের আওতা বাড়ানোর অন্যতম উপায় বেশিসংখ্যক পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা। আবার বেশিসংখ্যক ব্যক্তির ওপর কর আরোপ করে করের আওতা বাড়িয়ে থাকে অনেক দেশ। আমাদের দেশে কর জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশের তুলনায় কম। এই হার উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়ও অনেক কম। তাই মূল্য সংযোজন করের (মূসক) আওতা বাড়িয়ে আমাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েই গেছে। ১ জুলাই ২০১৭ থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন চালু হতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনে অভিন্ন হারে মূসক আরোপিত হবে। এই হার হবে ১৫ শতাংশ। এটি গত বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে এক বছর পেছানো হয়। তবে এখনও সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েই গেছে।

নতুন মূসক আইন হলে ট্যারিফ লাইনের ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ হবে। বর্তমানে ট্যারিফ লাইনে ৬ হাজার ৪৪১ ধরনের পণ্য আছে। সেই হিসাবে ৪ হাজার ৭৯২ ধরনের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক বসবে। এনবিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনও ৫৬ শতাংশ মূসক আদায় করা যায়নি। এটিকে বলা হচ্ছে 'ভ্যাট গ্যাপ'। এই 'ভ্যাট গ্যাপ' দূর করতে এবার এনবিআর সচেষ্ট। ব্যবসায়ীদের মত হচ্ছে, মূসক পণ্যভেদে ৭ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকুক। এটি অযৌক্তিক বলা যায় না। প্রাথমিক স্তরে মূসক হার ১৫ শতাংশের কিছু কম দিয়ে শুরু করলে ভালো হয়। যেহেতু পরোক্ষ করভার শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই গিয়ে পড়বে। তাই ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মূসক ১০ শতাংশ থেকে শুরু করা যেতে পারে। বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখ টাকার ওপর থেকে মূসক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের (এফবিসিসিআই) দাবি হচ্ছে, সরবরাহের (উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা দেওয়া) ক্ষেত্রে ৩৬ লাখ টাকা লেনদেন পর্যন্ত কর অব্যাহতি, বার্ষিক লেনদেন ৩৬ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কেবল উৎপাদন পর্যায়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত করারোপ, এ খাতের করদাতার জন্য কেনা উপকরণের বিপরীতে কর রেয়াত, বার্ষিক ৩৬ লাখ টাকার ঊধর্ে্ব লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্বিশেষে ২ শতাংশ হারে মূসক আরোপ, উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ প্রতিষ্ঠানের করযোগ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কম হারে মূসক আরোপ। অনেকের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসায়ীদের এই দাবি গ্রহণ করা উচিত। ৩০ লাখ টাকা বার্ষিক টার্নওভারের একজন ব্যবসায়ীর টার্নওভারের ১০ শতাংশ মোট আয় ধরলে তাকে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাতারেই ফেলা যাবে। আমাদের উদ্দেশ্য, দেশের ব্যবসা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করা।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অনেক নীতিগত এবং আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে পুনঃঅর্থায়ন করে যাচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য। এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এসএমই ফাউন্ডেশন দেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে, বাজারজাতকরণের সুবিধা দিয়ে, ব্যাংকার-উদ্যোক্তা মেলা করে আর্থিক সহযোগিতার কাজটিও করে যাচ্ছে। তারা আবার উদ্যোক্তা তৈরিতে সর্বপ্রথম দেশে এক অঙ্কের ঋণ সুবিধা চালু করে। সুতরাং এত সব আয়োজনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনবিআর যদি টার্নওভারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়, তবে ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য এটি আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে পরিগণিত হবে। আবার টার্নওভার কম দেখানোর জন্য অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকমুখো হন না। ব্যাংক হিসাবে লেনদেন কম হলে কর দিতে হবে না_ এই সুযোগ নিতে গিয়ে ব্যাংকে লেনদেন কম করেন। তাতে করে তাদের ব্যবসার ধরন এবং লেনদেন বিবরণী পেতে ব্যাংকারদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ঋণ পেতে সমস্যা হয়। এটি কোনো পক্ষেরই কাম্য নয়। মূসক প্রদানের ক্ষেত্রে টার্নওভারের ভিত্তি ৩৬ লাখ টাকা করলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংকে তাদের লেনদেন বাড়াবেন। ফলে ঋণ পেতে তাদের সুবিধা হবে। আবার রেয়াতভিত্তিক মূসকের যৌক্তিকতাও আছে। যেমন একজন উৎপাদক পণ্য বানাতে কাঁচামাল কেনার সময় যে মূসক একবার দিয়ে এসেছেন, তা যদি আবার চূড়ান্ত পণ্যের জন্যও দিতে হয়, তবে তা দ্বৈত গণনার মধ্যে পড়বে। এ বিষয়টি এনবিআর বিবেচনা নেবে, অনেক অর্থনীতিবিদ তা মনে করেন।

ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশেল্গষক









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com