Friday, 19 January, 2018, 7:23 PM
Home
নৌপথের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
অজয় দাশগুপ্ত লিখেছেন সমকালে
Published : Tuesday, 25 April, 2017 at 4:56 PM, Count : 32
শনিবার (২২ এপ্রিল) বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে গ্রিনলাইন-২ ও কয়লাবাহী বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়েছি সড়কপথে ঢাকায় আসার সময় কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে অপেক্ষার সময়। আমাদের গাড়িটি ফেরিতে উঠবে_ এমন সময় প্রচণ্ড ঝড়। পদ্মা তখন উন্মাতাল। আমরা ফেরিঘাটে অসহায়। ঝড়ের গতি বাড়লে আমাদের গাড়িটির মতো আরও অনেক গাড়ি উড়ে পদ্মায় পড়ার শঙ্কা ছিল। কাঁঠালবাড়ী-মাওয়া এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় প্রতিদিন পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরি ব্যবহার করে শত শত যানবাহন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে এসব যানবাহন কিংবা যাত্রীদের জন্য নেই কোনো আশ্রয়স্থল। কে ভাববে এ সমস্যা নিয়ে?

কীর্তনখোলা নদীতে শনিবার ঝড় ছিল না। দুটি নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আমরা সড়কপথের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (কিংবা অব্যবস্থাপনা) নিয়ে অনেক আলোচনা করি। কিন্তু নৌপথেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা বলি। গত নভেম্বর মাসে সন্ধ্যায় সদরঘাটে বড় একটি লঞ্চে অপেক্ষা করছি যাত্রা শুরুর। বুড়িগঙ্গার পানি যে দূষণে কৃষ্ণবর্ণ, সেটা বুঝতে সমস্যা হয়নি। দুর্গন্ধ অসহনীয় ছিল। আমরা মজা করে বলছিলাম, বুড়িগঙ্গা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে যাত্রীদের অভ্যর্থনা ও বিদায় জানায়। যার যা সাধ্য! লঞ্চের ডেকে বসেই দেখতে পাই নদীতে অনেক যানবাহন চলছে। কিছু যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে নৌকা থেকে লঞ্চে উঠছে। যেসব লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে, তাদের কেউ নিয়ন্ত্রণ করে না। সারেংরা নিজেদের মতো চলছেন। মালবোঝাই ট্রলার, কার্গো ও অন্যান্য নৌযান চলছে বিভিন্ন গতিতে। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের জন্য চালু হয়েছে সুপরিসর বিলাসবহুল লঞ্চ। ছোট লঞ্চ ও মালবাহী বিভিন্ন নৌযানের কারণে এসব বড় লঞ্চ স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। সেই সন্ধ্যায় ঘণ্টাখানেক সদরঘাটে অবস্থানকালে মনে হয়েছে, সড়কপথের মতোই নৌপথেও এখন 'ট্রাফিক পুলিশ' পোস্টিং দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্রিনলাইন কোম্পানির কয়েকটি নৌযান দিনের বেলা ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করে। যাত্রীদের চেয়ারে বসে যেতে হয়_ ওপরে ভাড়া এক হাজার টাকা, নিচে ৭০০ টাকা। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় গন্তব্যে পেঁৗছানো যায় বিধায় অনেক যাত্রীর কাছে এ নৌযানটি পছন্দের। তবে বড় বড় লঞ্চ মালিকদের কেউ কেউ চাইছেন গ্রিনলাইনের ব্যবসা উঠে যাক বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রিনলাইনের যাত্রীদের বেশিরভাগ সচ্ছল। ২২ এপ্রিল দুপুরে কীর্তনখোলায় না হয়ে দুটি নৌযানের সংঘর্ষ যদি মেঘনায় হতো, তাহলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে এখন ঘরে ঘরে শোকের মাতম চলত, তাতে সন্দেহ নেই। ২০০২ সালে মেঘনা নদীতে সালাহউদ্দিন নামের একটি নৌযান দুর্ঘটনায় পড়লে চার থেকে পাঁচশ' যাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়। সড়কপথে বাস বা অন্য যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হলে যাত্রীরা লাফিয়ে পড়ে কিংবা অন্যভাবে বাঁচার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু ২০১৪ সালের আগস্টে যখন মাওয়ার কাছে প্রমত্ত পদ্মায় পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি বিপুলসংখ্যক যাত্রী নিয়ে তলিয়ে যেতে থাকে, তখন অদূরে চলতে থাকা একাধিক লঞ্চ ও ফেরির যাত্রীরা এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য কেবল সকরুণ ও ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছে। গ্রিনলাইন-২ লঞ্চটি কয়লাবোঝাই নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মেঘনা নদীতে থাকলেও এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য আশপাশের নৌযান থেকে কেউ কেউ হয়তো স্মার্টফোনে ভিডিও করে রাখত; কিন্তু কারও সুযোগ মিলত না অসহায় যাত্রীদের জীবন রক্ষা করার।

নদীপথ প্রকৃতির দান। মানুষ তা সৃষ্টি করেনি। আমাদের দায়িত্ব কেবল তা রক্ষা করা, প্রয়োজনে সংস্কার করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ কাজে গাফিলতি অনেক। আমরা সড়ক, রেল ও বিমানপথের জন্য বিপুল অর্থ প্রতিবছর বরাদ্দ করি। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর কোটি কোটি অধিবাসী যেন সরকারের কাছে বিমাতা-পুত্র! এসব এলাকার যাত্রীদের লঞ্চ টার্মিনাল ব্যবহার করতে পৃথক টিকিট করতে হয়। কিন্তু সড়ক, রেল ও বিমানপথের যাত্রীদের টার্মিনাল-স্টেশন ব্যবহার করতে এ ধরনের টিকিট কিনতে হয় না। কেন এ বৈষম্য, তার জবাব নেই।

গ্রিনলাইন-২-এর সারেং উপস্থিত বুদ্ধিতে নৌযানটি দ্রুত তীরে নিয়ে গিয়ে প্রায় ৫শ' যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে পারেন। কিন্তু নৌযানটি রক্ষা করা যায়নি। কয়লাবাহী নৌযানটিও তলিয়ে গেছে নদীতে। এটি উদ্ধারের জন্য 'নির্ভীক' নামের যে যানটি আনা হয়েছে তার ক্ষমতা ২৫০ টন। কিন্তু ডুবে যাওয়া যানটির মালসহ ওজন হবে অন্তত এক হাজার টন। নৌপথে দুর্ঘটনার পর এমন সমস্যার কথা আগেও আমরা জেনেছি; কিন্তু সেই ট্রাডিশন যে সমানে চলছে!

সাংবাদিক

ajoydg@gmail.com








« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com