Sunday, 19 November, 2017, 3:10 AM
Home
প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ থেকে মুক্তি
সমকালে লিখেছেন আসিফ
Published : Saturday, 22 April, 2017 at 5:18 PM, Count : 39

ঢাকার বায়ুদূষণ এমন বিপর্যস্ত অবস্থা তৈরি করেছে যে, ৯ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। পরিবেশবাদী সংস্থা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ঢাকা শহরের ছয়টি স্কুলে শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতার ওপর এক গবেষণায় এ মারাত্মক ফলাফল জানা গেছে। প্রায় ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুস পূর্ণ মাত্রায় কাজ করছে না, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ করছে। ফলাফল হিসেবে শিশুদের হাঁপানিসহ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। বাড়ছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ। বড়দের তুলনায় শিশুদের এ রোগ হওয়ার কারণ খুব যৌক্তিকভাবেই শিশুদের ফুসফুস খুব একটা পরিপকস্ফ থাকে না।
বর্তমানে দেশে ৮৫ লাখ মানুষ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমায় ভুগছে? ৭৫ লাখ মানুষ ব্রঙ্কাইটিস এবং সিওপিডিতে আক্রান্ত বায়ুতে ধুলাদূষণের কারণে? আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বায়ুদূষণজনিত কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ লাখের মতো মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। আর বাংলাদেশে ১৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।
বায়ুদূষণ থেকে মুক্তির নানা পথ রয়েছে। গাছপালা লাগানো তার অন্যতম। এ ক্ষেত্রে আমাদের হাতিরঝিলের কথা বলা যায়। সেখানে দেখা যায় লেকের পানি দিয়ে বোটগুলো ছুটে যাচ্ছে। বোটগুলো যদি রামপুরা থেকে সরাসরি সোনারগাঁও হোটেলের কাছে গিয়ে ভিড়ত। বিজিএমইএ ভবনটি না থাকলে এটা হওয়া কঠিন বিষয়ই ছিল না। আদালত তো অনেক আগেই বলেছেন এটা থাকার কোনো আইনগত যৌক্তিকতাই নেই। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে অবশ্যই তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে তো আমরা চিন্তাই করতে পারি এ রকম একটি জলসড়কের কথা। একই সঙ্গে পান্থপথটায় একটা সরু খাল করা গেলে ধানমণ্ডি লেকের সঙ্গে সংযুক্ত করা যেত। আর এসব খালের মধ্যে জলবাসগুলোও চলাচল করতে পারে। আর দু'পাশে গাছপালা লাগানো থাকলে বাতাসটা আরও নির্মল হতো। বায়ুতে মিশে থাকা গ্যাস এবং বালুকণার চেয়ে বিশগুণ ছোট কণাগুলো থেকে কিছুটা হলেও বাঁচতে পারতাম। জানা যায়, কণা বড় হলে সেটি নাকের ভেতর আটকে যায়; কিন্তু ওই ধরনের সূক্ষ্ম কণা মস্তিষ্কে স্নায়ুর ভেতরে ঢুকে গোলমাল পাকিয়ে ফেলে। এসব কণা মস্তিষ্কের বিভিন্ন কোষের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম ঘটাতে পারে।
অনেক বিশেষজ্ঞ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রায় ১৫ শতাংশ দূষণমুক্ত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী ড. ডেভিড নোভাকের গবেষণাও তাই বলছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে গাছপালা বায়ুদূষণের মাত্রা এক শতাংশ হলেও কমিয়ে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মাত্র ১ শতাংশ কমানো গেলেও সামান্য এই ব্যবধানই বড় রকমের স্বাস্থ্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে। ফলে বায়ুদূষণ কমাতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও জলসড়কের দু'পাশে গাছপালা লাগিয়ে যদি পরিবেশ তৈরি করা গেলে বায়ুতে বিপজ্জনক সূক্ষ্ম কণাগুলোই শুধু কমত না, সঙ্গত কারণেই যানবাহনের সংখ্যাও কমে যেত। এছাড়াও স্কুল, কলেজ ও অফিস-আদালতে যাওয়া সাইকেলে উৎসাহিত করলে দূষণ সৃষ্টিকারী যানগুলোর সংখ্যা আরও হ্রাস পাবে।
রাজশাহী শহর তো বড় উদাহরণ। রাজশাহী দেড় বছরের মধ্যে নানারকম উদ্যোগ নিয়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ৬৭ শতাংশ কমিয়ে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। চীনের গুয়াংজু ও সাংহাই শহরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রাজশাহী দ্রুত বায়ুদূষণরোধে সেরা হয়েছে।
বর্তমানে ম্যালেরিয়া ও এইডসের চেয়েও বায়ুজনিত দুষণে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানিক উপাত্ত বলছে, বিশ্বে এককভাবে এটাকে হত্যার সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। শহরাঞ্চলে বাস করা ৮০ শতাংশের বেশি জনগণ এখন এমন গুণগত মাত্রার বায়ুর মুখোমুখি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সীমাকে অতিক্রম করেছে। শিশুদের রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে কোনো উন্নয়নে কিছু হবে না।









« PreviousNext »

সর্বশেষ
অধিক পঠিত
এই পাতার আরও খবর
ইনফরমেশন পোর্টাল অব বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রওশন জামান -এর পক্ষে সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান  ও উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ আখতার ইউসুফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
ইমেইল: info@iportbd.com, বার্তা বিভাগ: newsiport@gmail.com